উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে পানি বাড়ার সাথে সাথে ভয়ংকর আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে যমুনা নদী। সিরাজগঞ্জের কাজিপুরে নদীর অভ্যন্তরে থাকা গ্রামগুলোতে শুরু হয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। আর যমুনার এই ভয়ংকরী রুপ চরগিরিশি ইউনিয়নের ১৪টি গ্রামের মানুষের রাতের ঘুম কেড়ে নিয়েছে।
গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে প্রায় দেড় মাস ধরে প্রতিদিনই নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, ফসলি জমি, রাস্তাঘাট ও বিভিন্ন স্থাপনা।
ভাঙন কবলিত এলাকাবাসীরা জানান, গত এক মাসে চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার বাজার থেকে ভেটুয়া এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক বসতবাড়ী নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। বর্তমানে ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কয়েকটি মসজিদ, একটি মাদ্রাসা ও বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে চরগিরিশ ইউনিয়ন মানচিত্র থেকে হারিয়ে যেতে পারে বলে শঙ্কা স্থানীয়দের।
চরগিরিশ ইউনিয়নের ছালাল গ্রামের কৃষক রইচ উদ্দিন বলেন, প্রায় দেড়মাস যাবৎ আমাদের এলাকায় নদীভাঙন শুরু হলেও ভাঙনরোধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। কখন যেন নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যায় বসতবাড়ি এমন আতংকে রাত কাটছে আমাদের।
চরগিরিশ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আল আমিন সরকার বলেন, “যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, তাতে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি শীঘ্রই নদীগর্ভে বিলিন হয়ে যাবে।
চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তরিকুল ইসলাম বলেন, যমুনা নদী বিদ্যালয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছে। দেড় শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান নিয়ে শঙ্কার মধ্যে রয়েছি।
সামান্য বৃষ্টিতেই বসতবাড়িতে পানি: চরম দুর্ভোগে সিরাজগঞ্জ পৌরবাসী
এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, প্রায় এক সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে যমুনা নদীর পানি বাড়তে থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় অল্প কমেছে। শুক্রবার (২৪ জুলাই) সকালে কাজিপুরের মেঘাই পয়েন্টে যমুনার পানির সমতল রেকর্ড হয়েছে ১৩ দশমিক ৮৫ মিটার। ২৪ ঘণ্টা ৪ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
অপরদিকে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার। ২৪ ঘণ্টা ৫ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৫৮ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসনের দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখা থেকে ভাঙন কবলিতদের জন্য ৮৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চরের ৬টি ইউনিয়নের জন্য এছাড়া আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: আসামে ভয়াবহ বন্যায় নিহত ৪৭
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান জানান, “ভাঙন এলাকায় জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর কাজ চলমান রয়েছে। তবে চরাঞ্চলের এ ভাঙন রোধে বড় ধরনের প্রকল্প প্রয়োজন। বিষয়টি সমীক্ষা করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে বলেও তিনি জানান।

মিজান রহমান, কাজিপুর থেকে। জনতার কণ্ঠ.কম 





















One thought on “যমুনার তান্ডব কেড়ে নিলো কাজিপুরের চরাঞ্চলবাসীর ঘুম”