কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার হোসেনপুর-কিশোরগঞ্জ সড়ক থেকে ধনকুড়া হাজী এ খালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হয়ে কামারপাড়া পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। সংস্কারের অভাবে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ। এতে কৃষক, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় সাধারণ মানুষকে প্রতিদিন চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় সড়কটি দ্রুত সংস্কার ও পাকাকরণের জন্য সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
সরেজমিনে দেখা যায়, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটির বিভিন্ন স্থানে ইট উঠে গিয়ে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্তে পানি ও কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে সড়কটি। বর্ষা মৌসুমে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ১৬ বছর আগে সড়কটিতে ইটের সলিং করা হয়েছিল। এরপর উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার বা উন্নয়নকাজ হয়নি। দীর্ঘদিনের ব্যবহারে সড়কের ইট উঠে যাওয়ায় বর্তমানে যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক সমস্যা হচ্ছে।
স্থানীয় অটোচালক আব্দুল মতিন বলেন, ‘বেহাল সড়কের কারণে যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে অনেক কষ্ট হয়। সড়কের খানাখন্দে পড়ে গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে যায়। যাত্রীদেরও দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দ্রুত সড়কটি পাকাকরণ করা হলে এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের ভোগান্তি কমবে।’
ধনকুড়া হাজী এ খালেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাকিব মিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হয়। রাস্তা খারাপ হওয়ায় চলাচলে অনেক সমস্যা হয়। বর্ষার সময় পানি-কাদায় সমস্যা আরও বেড়ে যায়।’
স্থানীয় ব্যবসায়ী হরিদাস কর্মকার বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে মালামাল পরিবহনসহ ব্যবসায়িক কাজে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। সড়কটি পাকা হলে এলাকার ব্যবসা-বাণিজ্যের পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থারও উন্নতি হবে।’
স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল অবস্থায় পড়ে আছে। বিভিন্ন সময় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেও কোনো কার্যকর সমাধান হয়নি। এলাকাবাসীর দুর্ভোগের কথা বিবেচনা করে দ্রুত সড়কটি পাকাকরণের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে আড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. খুর্শিদ উদ্দিন বলেন, ‘রাস্তাটি আমি দেখেছি। এ সড়ক দিয়ে একটি মন্দির, মসজিদ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেতে হয়। রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এর আগে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিষয়টি নিয়ে আবারও তাদের সঙ্গে কথা বলব।’

আকিল উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















