সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সাধু সাবধান, বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী-পুরুষের যেমন একটি পরিবার গড়ে ওঠে, ঠিক তেমনভাবে নারী পুরুষের সম্মেলনে একটি দেশ ও সমাজ গড়ে ওঠে। অনেকে ভয় দেখায় যদি ১০ দল বিশেষ করে জামায়াত ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে মা-বোনদের বের হতে দেবে না, লেখাপড়া করতে দেবে না, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেবে না। এগুলো সব ধোঁকাবাজদের কথা।

 

 

মহানবী (স:) যুদ্ধের সময় আমাদের মা-বোনদের যোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধের চেয়ে কঠিন কোন কাজ হয় না, সেখানে যদি মায়েরা ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে সমাজে এমন কোন কাজ নেই যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

 

 

বর্তমান সমাজেও তারা কাজ করেন। কিন্তু তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার অভাব। আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, আমরা মাদেরকে মায়ের মর্যায়  ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মর্যাদা শতভাগ নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মেয়েদের ইজ্জতের মূল্য বেশি।

 

 

যারা আজকে বড় গলায় কথা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের হাতে আমাদের মা বোনেরা মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভুরি ভুরি প্রমাণ, প্রতিদিনই এই বিভৎস্য চিত্র চলে আসে। তারা কিনা আবার আমাদের সমালোচনা করেন। সাধু সাবধান, বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না, তাহলে ভেতরের সবকিছু প্রকাশ করে দেব।

 

 

আমরা কারও সাথে লাগালাগি খোঁচাখুঁচি করা পছন্দ করি না। কিন্তু আমাদের খোঁচা দিলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের উপরে ওয়াজিব। সেই ওয়াজিব কাজটি করতে মেহেরবানি করে আমাদের বাধ্য করবেন না।

 

গণভোটে হ্যা ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হ্যা মানে হচ্ছে ওসমান হাদি তোমাকে কথা দিচ্ছি তোমার বিচার হবে। গণভোটে হ্যা মানে ১৪শ শহীদকে কথা দেওয়া হচ্ছে তোমাদের হত্যার বিচার হবে। তোমরা যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছ, হ্যা বলার মধ্য দিয়ে আমরা তোমাদের ঋণ পরিশোধ করবো। গণভোটে হ্যা দেওয়ার অর্থ হলো আর কোন আধিপত্যবাদী দালালকে বাংলার জনগণ বরদাস্ত করবে না। এই গণভোটে হ্যা মানে হচ্ছে কোন চাঁদাবাজের অস্তিত্ব বাংলার জমিনে বরদাস্ত করা হবে না, এ ব্যাপারে পুরোপুরি লালকার্ড।

 

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জামায়াত আমীর আরও বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে আমরা ১০টি দল হাতে হাত মিলিয়ে এই আমরা একসাথে নেমেছি। আল্লাহতালা আমাদের সংগঠিত হওয়া ও ঐকব্যদ্ধ হওয়াকে কবুল করেন। আমরা দেশকে বিভক্ত করতে চাইনা। আমরা একটা ঐকব্যদ্ধ জাতি গড়তে চাই। যারা দেশকে বিভক্ত করে তারা কখনো দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা অন্যদেরকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এবং দেশবাসীর মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়ার জন্য তারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়। এ সুযোগ আর কাউকে জাতি দেবে না।

 

 

আমাদের সন্তানদের জুলাই আন্দোলন শ্লোগান ছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা ন্যায় বিচার চাই। ন্যায় বিচার যেখানে কায়েম হবে জাতি সেখানে বিভক্ত হবে না।

 

 

তিনি বলেন, এক সময় পুরো সিরাজগঞ্জ ছিল শিল্পাঞ্চল, তাঁতশিল্প ও ঘরে ঘরে গাভী পালন। মাঝখানে দেখা গেল তাঁতও বসে গেছে গাভী পালনও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁতের বাজার তৈরি, তাঁতীদেরকে সহজলভ্যভাবে উপাদান সরবরাহ ও তাঁতের মানোন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোশষকতা দেওয়ার থাকলেও তার কিছুই হয় নাই। যার কারণে এই শিল্পটা মুখ থুবড়ে পরেছে। ইনশাল্লাহ দশ দলের সমন্বিত প্রার্থীরা সংসদে গিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পায় তাহলে আমরা কথা দিচ্ছি তাঁতশিল্পকে আবার জীবন্ত করে তুলবো ইনশাল্লাহ।

 

 

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার গুড়ো দুধ কিনেছে সরকার। অথচ সিরাজগঞ্জের খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে রাস্তায় দুধ ফেলে দেয়। খামারিদের প্রতি সরকার ও প্রশাসন যন্ত্রের উপহাস-উপেক্ষা। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি সিরাজগঞ্জের দুধ প্রয়োজনে আর ঢাকায় যাবেই না। এই সিরাজগঞ্জের মাটিতেই আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রকিয়াজাতকরণ করে গুড়া দুধ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে দুধের চাহিদা পুরণ করা হবে ইনশাল্লাহ।

 

 

একানে নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ের। সেখানে স্লাপ বসানো হয়, সবকিছুতে চোর-ডাকাতের আনাগোনা থাকার কারণে সেগুলো ধসে পড়ে যায়। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। যদি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয় তাহলে স্লাপগুলো আর নদীগর্ভে চলে যাবে না।

 

 

নদী খননের বাজেটগুলো বালুখেকোরা খেয়ে ফেলেছে। টাকা নিজেরাই হজম করে ফেলেছে। জানিনা ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা কতটা উদ্ধার করা যাবে। তবে আমরা আমাদের হাতকে তৈরি করছি পেটে ঢোকানোর জন্য। এভাবে সারা বাংলাদেশে যদি চোর ডাকাতদের কাছ থেকে দেশে ও বিশ্বে যে সমস্ত সম্পদ রাখা হয়েছে সেগুলো যদি ফিরিয়ে আনা যায় বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য ৫ বছরের মধ্যে চমকাতে শুরু করবে।

 

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নতুন করে যদি আর কোন চোর-ডাকাতের হাত জনগণের সম্পদের দিকে না যায়, তাহলে বাংলাদেশ আলহামদুল্লিলাহ ইবনে বতুতার আমলের সেই গৌর ফিরে পাবে।

 

 

আমরা তিনটা শর্ত দিয়েছি। আমরা বলেছি আগামির সরকার যদি আল্লাহ আমাদেরকে গঠন করার তওফিক দেন তাহলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবো। তবে যারা তিনটা শর্ত মানবেন তারাই সরকার গঠনে অংশ নেবেন। নাম্বার ওয়ান নিজে দুর্নীতি করবেন না আর বগলের নিচে কোন দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না।

 

 

নাম্বার টু গরীব ধনী-হিন্দু-মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্ট্রান, নারী-পুরুষ, যার অধিকার যেখানে লঙ্ঘিত হবে ন্যায়বিচার পওয়ার অধিকার থাকবে। সেই ন্যায় বিচার সমাজের সকলের জন্য সমান নিশ্চিত করা হবে। যে অপরাধে একজন সাধারণ নাগরিকের বিচার হবে, একই অপরাধ দেশের প্রেসিডেন্ট করলে তারও বিচারও হবে। সেই বিচারটাই আমার কায়েম করতে চাই।

 

 

সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল কলেজ হয়েছে। ইনশাল্লাহ এটাকে মানসম্মত মেডিকেল কলেজে পরিণত করা হবে। মানসম্মত ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে নাই। আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিলে প্রথম নজর থাকবে শিক্ষার উপর। তিনি বলেন, যমুনা নদীতে বাঁধ নির্মাণ করবো না। যমুনা খনন করে জীবন দেওয়া হবে। আমরা মুলের গোড়া ধরে টানবো পাতা নিয়ে টানাটানি করবো না। বড় মাথার কানটা ধরে টান দেব ইনশাল্লাহ। ১৬ কোটিকে ধরবো না, ওদেরকে নষ্ট করে গডফাদাররা। ওই জায়গা ধরবো আল্লাহ চাইলে।

 

 

জেলা জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজগঞ্জ- ২ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্দুর রউফ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম এবং জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি  অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

 

 

শনিবার সকাল ১০টা থেকেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে  শ্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে পৌঁছান। দুপুর ২টার মধ্যেই জনসভাস্থল ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। ইসলামিয়া সরকারি কলেজ ও মাল্টিলেটারাল উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রাউন্ড মাঠে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

এরপর বাদ আছর আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায়  যোগদান করেন।

90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সাধু সাবধান, বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না: ডা. শফিকুর রহমান

আপডেট টাইম : ০৮:০৭:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নারী-পুরুষের যেমন একটি পরিবার গড়ে ওঠে, ঠিক তেমনভাবে নারী পুরুষের সম্মেলনে একটি দেশ ও সমাজ গড়ে ওঠে। অনেকে ভয় দেখায় যদি ১০ দল বিশেষ করে জামায়াত ইসলামী যদি ক্ষমতায় যায় তাহলে মা-বোনদের বের হতে দেবে না, লেখাপড়া করতে দেবে না, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে দেবে না। এগুলো সব ধোঁকাবাজদের কথা।

 

 

মহানবী (স:) যুদ্ধের সময় আমাদের মা-বোনদের যোদ্ধা হিসেবে সঙ্গে করে নিয়ে গেছেন। যুদ্ধের চেয়ে কঠিন কোন কাজ হয় না, সেখানে যদি মায়েরা ভূমিকা রাখতে পারেন, তাহলে সমাজে এমন কোন কাজ নেই যেখানে তারা দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

 

 

বর্তমান সমাজেও তারা কাজ করেন। কিন্তু তাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তার অভাব। আমরা যদি দেশ পরিচালনার সুযোগ পাই, আমরা মাদেরকে মায়ের মর্যায়  ঘরে, চলাচলে, কর্মস্থলে নিরাপত্তা ও মর্যাদা শতভাগ নিশ্চিত করবো ইনশাল্লাহ। আমাদের জীবনের চেয়ে আমাদের মেয়েদের ইজ্জতের মূল্য বেশি।

 

 

যারা আজকে বড় গলায় কথা বলেন, বিভিন্ন জায়গায় তাদের হাতে আমাদের মা বোনেরা মেয়েরা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। ভুরি ভুরি প্রমাণ, প্রতিদিনই এই বিভৎস্য চিত্র চলে আসে। তারা কিনা আবার আমাদের সমালোচনা করেন। সাধু সাবধান, বাক্সের মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না, তাহলে ভেতরের সবকিছু প্রকাশ করে দেব।

 

 

আমরা কারও সাথে লাগালাগি খোঁচাখুঁচি করা পছন্দ করি না। কিন্তু আমাদের খোঁচা দিলে সেটা ফিরিয়ে দেওয়া আমাদের উপরে ওয়াজিব। সেই ওয়াজিব কাজটি করতে মেহেরবানি করে আমাদের বাধ্য করবেন না।

 

গণভোটে হ্যা ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, হ্যা মানে হচ্ছে ওসমান হাদি তোমাকে কথা দিচ্ছি তোমার বিচার হবে। গণভোটে হ্যা মানে ১৪শ শহীদকে কথা দেওয়া হচ্ছে তোমাদের হত্যার বিচার হবে। তোমরা যে স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে গিয়ে বুকের রক্ত ঢেলে দিয়েছ, হ্যা বলার মধ্য দিয়ে আমরা তোমাদের ঋণ পরিশোধ করবো। গণভোটে হ্যা দেওয়ার অর্থ হলো আর কোন আধিপত্যবাদী দালালকে বাংলার জনগণ বরদাস্ত করবে না। এই গণভোটে হ্যা মানে হচ্ছে কোন চাঁদাবাজের অস্তিত্ব বাংলার জমিনে বরদাস্ত করা হবে না, এ ব্যাপারে পুরোপুরি লালকার্ড।

 

 

শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বিকেলে সিরাজগঞ্জ ইসলামিয়া কলেজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে জেলা জামায়াত আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

জামায়াত আমীর আরও বলেন, আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার নিয়ে নির্বাচনে আমরা ১০টি দল হাতে হাত মিলিয়ে এই আমরা একসাথে নেমেছি। আল্লাহতালা আমাদের সংগঠিত হওয়া ও ঐকব্যদ্ধ হওয়াকে কবুল করেন। আমরা দেশকে বিভক্ত করতে চাইনা। আমরা একটা ঐকব্যদ্ধ জাতি গড়তে চাই। যারা দেশকে বিভক্ত করে তারা কখনো দেশের বন্ধু হতে পারে না। তারা অন্যদেরকে সুবিধা করে দেওয়ার জন্য এবং দেশবাসীর মাথায় কাঠাল ভেঙে খাওয়ার জন্য তারা দেশকে বিভক্ত করতে চায়। এ সুযোগ আর কাউকে জাতি দেবে না।

 

 

আমাদের সন্তানদের জুলাই আন্দোলন শ্লোগান ছিল উই ওয়ান্ট জাস্টিস। আমরা ন্যায় বিচার চাই। ন্যায় বিচার যেখানে কায়েম হবে জাতি সেখানে বিভক্ত হবে না।

 

 

তিনি বলেন, এক সময় পুরো সিরাজগঞ্জ ছিল শিল্পাঞ্চল, তাঁতশিল্প ও ঘরে ঘরে গাভী পালন। মাঝখানে দেখা গেল তাঁতও বসে গেছে গাভী পালনও বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁতের বাজার তৈরি, তাঁতীদেরকে সহজলভ্যভাবে উপাদান সরবরাহ ও তাঁতের মানোন্নয়নে সরকারি পৃষ্ঠপোশষকতা দেওয়ার থাকলেও তার কিছুই হয় নাই। যার কারণে এই শিল্পটা মুখ থুবড়ে পরেছে। ইনশাল্লাহ দশ দলের সমন্বিত প্রার্থীরা সংসদে গিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পায় তাহলে আমরা কথা দিচ্ছি তাঁতশিল্পকে আবার জীবন্ত করে তুলবো ইনশাল্লাহ।

 

 

২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৫ হাজার কোটি টাকার গুড়ো দুধ কিনেছে সরকার। অথচ সিরাজগঞ্জের খামারিরা দুধের ন্যায্যমূল্য না পেয়ে রাস্তায় দুধ ফেলে দেয়। খামারিদের প্রতি সরকার ও প্রশাসন যন্ত্রের উপহাস-উপেক্ষা। আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি সিরাজগঞ্জের দুধ প্রয়োজনে আর ঢাকায় যাবেই না। এই সিরাজগঞ্জের মাটিতেই আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়ায় প্রকিয়াজাতকরণ করে গুড়া দুধ তৈরির মাধ্যমে বাংলাদেশে দুধের চাহিদা পুরণ করা হবে ইনশাল্লাহ।

 

 

একানে নদীভাঙনের কবলে পড়ে প্রতিবছর বিপুল সংখ্যক মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়ের। সেখানে স্লাপ বসানো হয়, সবকিছুতে চোর-ডাকাতের আনাগোনা থাকার কারণে সেগুলো ধসে পড়ে যায়। আমরা জাতির কাছে অঙ্গীকার করেছি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়বো। যদি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়া হয় তাহলে স্লাপগুলো আর নদীগর্ভে চলে যাবে না।

 

 

নদী খননের বাজেটগুলো বালুখেকোরা খেয়ে ফেলেছে। টাকা নিজেরাই হজম করে ফেলেছে। জানিনা ওদের পেটের ভেতর থেকে টাকা কতটা উদ্ধার করা যাবে। তবে আমরা আমাদের হাতকে তৈরি করছি পেটে ঢোকানোর জন্য। এভাবে সারা বাংলাদেশে যদি চোর ডাকাতদের কাছ থেকে দেশে ও বিশ্বে যে সমস্ত সম্পদ রাখা হয়েছে সেগুলো যদি ফিরিয়ে আনা যায় বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য ৫ বছরের মধ্যে চমকাতে শুরু করবে।

 

 

ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, নতুন করে যদি আর কোন চোর-ডাকাতের হাত জনগণের সম্পদের দিকে না যায়, তাহলে বাংলাদেশ আলহামদুল্লিলাহ ইবনে বতুতার আমলের সেই গৌর ফিরে পাবে।

 

 

আমরা তিনটা শর্ত দিয়েছি। আমরা বলেছি আগামির সরকার যদি আল্লাহ আমাদেরকে গঠন করার তওফিক দেন তাহলে সবাইকে নিয়ে সরকার গঠন করবো। তবে যারা তিনটা শর্ত মানবেন তারাই সরকার গঠনে অংশ নেবেন। নাম্বার ওয়ান নিজে দুর্নীতি করবেন না আর বগলের নিচে কোন দুর্নীতিবাজকে আশ্রয় দেবেন না।

 

 

নাম্বার টু গরীব ধনী-হিন্দু-মুসলিম বৌদ্ধ খ্রীষ্ট্রান, নারী-পুরুষ, যার অধিকার যেখানে লঙ্ঘিত হবে ন্যায়বিচার পওয়ার অধিকার থাকবে। সেই ন্যায় বিচার সমাজের সকলের জন্য সমান নিশ্চিত করা হবে। যে অপরাধে একজন সাধারণ নাগরিকের বিচার হবে, একই অপরাধ দেশের প্রেসিডেন্ট করলে তারও বিচারও হবে। সেই বিচারটাই আমার কায়েম করতে চাই।

 

 

সিরাজগঞ্জে স্বাস্থ্যসেবায় মেডিকেল কলেজ হয়েছে। ইনশাল্লাহ এটাকে মানসম্মত মেডিকেল কলেজে পরিণত করা হবে। মানসম্মত ভালো কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে নাই। আল্লাহ আমাদেরকে দায়িত্ব দিলে প্রথম নজর থাকবে শিক্ষার উপর। তিনি বলেন, যমুনা নদীতে বাঁধ নির্মাণ করবো না। যমুনা খনন করে জীবন দেওয়া হবে। আমরা মুলের গোড়া ধরে টানবো পাতা নিয়ে টানাটানি করবো না। বড় মাথার কানটা ধরে টান দেব ইনশাল্লাহ। ১৬ কোটিকে ধরবো না, ওদেরকে নষ্ট করে গডফাদাররা। ওই জায়গা ধরবো আল্লাহ চাইলে।

 

 

জেলা জামায়াতের আমির সিরাজগঞ্জ-১ আসনের জামায়াত প্রার্থী শাহিনুর আলমের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিরাজগঞ্জ- ২ আসনের প্রার্থী মুহাম্মদ জাহিদুল ইসলামের সঞ্চালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় সিরাজগঞ্জ-৩ আসনে খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুফতি এনায়েতুল্লাহ আব্দুর রউফ ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের এনসিপির প্রার্থী এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এবং সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের জামায়াত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম এবং জেলা জামায়াতের সহকারি সেক্রেটারি  অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম প্রমূখ।

 

 

শনিবার সকাল ১০টা থেকেই জামায়াতের নেতা-কর্মীরা মিছিল সহকারে দাঁড়িপাল্লার পক্ষে  শ্লোগান দিতে দিতে জনসভাস্থলে পৌঁছান। দুপুর ২টার মধ্যেই জনসভাস্থল ইসলামিয়া সরকারি কলেজ মাঠ ও এর আশপাশের এলাকা লোকে লোকারণ্য হয়ে পড়ে। ইসলামিয়া সরকারি কলেজ ও মাল্টিলেটারাল উচ্চ বিদ্যালয়ের আন্ডার গ্রাউন্ড মাঠে মহিলাদের বসার ব্যবস্থা করা হয়।

 

 

এরপর বাদ আছর আমিরে জামায়াত ডাক্তার শফিকুর রহমান সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের পথসভায়  যোগদান করেন।