সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

সুপ্রিমকোর্ট ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাত, প্রমাণ পেল দুদক

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর আওতাধীন ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজন, ই-জিপি টেন্ডারে অনিয়ম এবং কাজের অস্তিত্ব না থাকলেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

 

 

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। নথি পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্তের পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

 

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

দুদক জানায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সিসিজিপি অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। এর মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবে ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হোপের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতে আরও আটটি প্যাকেজ সৃষ্টি করা হয়। পরে ই-জিপির মাধ্যমে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট টিমের সরেজমিন তদন্তে আটটি প্যাকেজের মধ্যে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র কিংবা পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

 

 

 

অন্যদিকে, ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এসব কাজ মূলত এনডিইএল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে আটটি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অধিকাংশ কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক।

One thought on “সুপ্রিমকোর্ট ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাত, প্রমাণ পেল দুদক

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

সুপ্রিমকোর্ট ভবন নির্মাণে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাত, প্রমাণ পেল দুদক

আপডেট টাইম : ০৫:০১:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর আওতাধীন ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পে প্যাকেজ বিভাজন, ই-জিপি টেন্ডারে অনিয়ম এবং কাজের অস্তিত্ব না থাকলেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে ৬ কোটি ৩২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

 

 

 

 

বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এ অভিযান চালায়। এ সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহ করা হয়। নথি পর্যালোচনা ও সরেজমিন তদন্তের পর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

 

 

 

দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন: নতুন ব্যবস্থায় বাল্যবিবাহ ও জালিয়াতি রোধ সহজ হবে: আইনমন্ত্রী

দুদক জানায়, ‘বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জন্য রেকর্ড ভবন নির্মাণ (১ম সংশোধিত)’ প্রকল্পের মূলধন অংশের ‘অনাবাসিক ভবন’ খাতে সিসিজিপি অনুমোদিত একমাত্র ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কার্যাদেশ ২০২৩ সালের ১৬ নভেম্বর ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডকে (এনডিইএল) দেওয়া হয়। এর মূল্য ছিল ১ হাজার ৫৫৭ কোটি ৪ লাখ টাকা।

তবে ডিপিপি, আরডিপিপি কিংবা হোপের অনুমোদন ছাড়াই ২০২৩-২৪ অর্থবছরে একই খাতে আরও আটটি প্যাকেজ সৃষ্টি করা হয়। পরে ই-জিপির মাধ্যমে এসব প্যাকেজের কার্যাদেশ বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হয়। এসব প্যাকেজের বিপরীতে মোট ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯৭ হাজার টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে।

এনফোর্সমেন্ট টিমের সরেজমিন তদন্তে আটটি প্যাকেজের মধ্যে ৪, ৫, ৬ ও ৭ নম্বর কাজের কোনো ভৌত অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। এমনকি এসব কাজের সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তিপত্র কিংবা পরিমাপ বইও পাওয়া যায়নি।

 

 

 

অন্যদিকে, ১, ২, ৩ ও ৮ নম্বর প্যাকেজের কাজের অস্তিত্ব পাওয়া গেলেও এসব কাজ মূলত এনডিইএল কর্তৃক সম্পাদিত হয়েছে বলে ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

 

 

দুদকের এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল ডব্লিউ-১ প্যাকেজের কাজ বিধিবহির্ভূতভাবে আটটি প্যাকেজে বিভাজন করে ই-জিপির মাধ্যমে টেন্ডার আহ্বান করা হয়। অধিকাংশ কাজের বাস্তব অস্তিত্ব না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধের মাধ্যমে সরকারি অর্থের ক্ষতিসাধন ও আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

 

 

 

এ ঘটনায় তৎকালীন ঢাকা গণপূর্ত বিভাগ-৪-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইফুজ্জামানকে মূলত দায়ী করা হয়েছে বলে এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তার বক্তব্য বা ব্যাখ্যা গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।

 

 

 

সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মকর্তা ও ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এবং অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট চিত্র উদঘাটনে বিস্তারিত অনুসন্ধানের সুপারিশসহ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন দাখিল করবে দুদক।