সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

অনিয়মের প্রতিবাদে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

অভিযুক্ত যুবদল নেতা সাদ্দাম হোসেন। ছবি: সংগৃহীত

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি তালিকায় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি দেওয়ায় এক স্থানীয় সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। হুমকির ওই অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

ভুক্তভোগী শিহাব মিয়া জাতীয় দৈনিক ‘এদিন’ পত্রিকার মধ্যনগর উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।

 

 

 

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশের পর থেকেই সচ্ছল ব্যক্তি, অকৃষক ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

 

এর জের ধরে গত রোববার সাংবাদিক শিহাব মিয়া তার নিজ ইউনিয়ন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (রংচী গ্রাম) ২৪ জন অকৃষক ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আপত্তি জানান। ওই তালিকায় ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম মিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বজনদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

সাংবাদিক শিহাব মিয়ার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিতর্কিত ২৪ জনের নাম স্থগিত রেখে অবশিষ্ট প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু করে। একইসঙ্গে আপত্তিকৃত নামগুলো পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

 

প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে সাংবাদিক শিহাবকে কল করে স্থানীয় একটি দোকানে ডাকেন এবং তালিকা নিয়ে কেন অভিযোগ করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চান। শিহাব ওই মুহূর্তে দোকানে যেতে অপারগতা জানালে সাদ্দাম ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার যদি এই গ্রামে থাকা লাগে, তবে এটা শেষ করা লাগবে। না হয় তোমার ঝামেলা হবে।’

 

 

 

ফোনালাপে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে থাকতে গেলে আমার সামনে পড়া লাগব। সামনে পড়লে পরে বুঝিস।’

 

 

 

সংবাদকর্মী শিহাব মিয়া বলেন, তালিকায় সাদ্দামের পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম রয়েছে, যারা আদতে ক্ষতিগ্রস্ত নন। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আপত্তি তোলায় তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সঠিকভাবে তালিকা যাচাই-বাছাই করা হলেই সত্য প্রমাণিত হবে।

 

 

 

তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া বলেন, আমি এলাকার ১০ জনের পক্ষ থেকে তাকে ফোন দিয়েছিলাম। রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে কোনো হুমকি দিইনি। সম্পর্কে সে আমার ভাতিজা হয়, তাই আবেগের বশে কিছু কথা বলেছি। সে বিষয়টিকে এতদূর নিয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি।

 

 

 

এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন কালবেলাকে জানান, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড ও জিডির বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

অনিয়মের প্রতিবাদে সাংবাদিককে হুমকির অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

আপডেট টাইম : ০১:৫৪:৩৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সরকারি তালিকায় অনিয়মের বিরুদ্ধে লিখিত আপত্তি দেওয়ায় এক স্থানীয় সাংবাদিককে মুঠোফোনে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবদল নেতার বিরুদ্ধে। হুমকির ওই অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

 

 

 

ভুক্তভোগী শিহাব মিয়া জাতীয় দৈনিক ‘এদিন’ পত্রিকার মধ্যনগর উপজেলা প্রতিনিধি। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে শুক্রবার (১০ জুলাই) বিকেলে মধ্যনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ওই সাংবাদিক।

 

 

 

জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ জুন মধ্যনগর উপজেলা প্রশাসনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে অতিবৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৮৯০ জন কৃষকের একটি তালিকা প্রকাশ করা হয়। তালিকাটি প্রকাশের পর থেকেই সচ্ছল ব্যক্তি, অকৃষক ও একই পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম অন্তর্ভুক্ত থাকা নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়।

 

এর জের ধরে গত রোববার সাংবাদিক শিহাব মিয়া তার নিজ ইউনিয়ন বংশীকুণ্ডা দক্ষিণের ১ নম্বর ওয়ার্ডের (রংচী গ্রাম) ২৪ জন অকৃষক ও সচ্ছল ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আপত্তি জানান। ওই তালিকায় ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. সাদ্দাম মিয়ার পরিবারের একাধিক সদস্য ও স্বজনদের নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল।

 

সাংবাদিক শিহাব মিয়ার লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে ওই বিতর্কিত ২৪ জনের নাম স্থগিত রেখে অবশিষ্ট প্রকৃত কৃষকদের মাঝে সরকারি সহায়তা বিতরণ শুরু করে। একইসঙ্গে আপত্তিকৃত নামগুলো পুনরায় মাঠপর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

 

 

প্রশাসনের এমন পদক্ষেপে ক্ষিপ্ত হয়ে গত বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) আনুমানিক রাত সাড়ে ১০টার দিকে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া তার ব্যক্তিগত মুঠোফোন থেকে সাংবাদিক শিহাবকে কল করে স্থানীয় একটি দোকানে ডাকেন এবং তালিকা নিয়ে কেন অভিযোগ করা হয়েছে তার কৈফিয়ত চান। শিহাব ওই মুহূর্তে দোকানে যেতে অপারগতা জানালে সাদ্দাম ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি দিয়ে বলেন, ‘তোমার যদি এই গ্রামে থাকা লাগে, তবে এটা শেষ করা লাগবে। না হয় তোমার ঝামেলা হবে।’

 

 

 

ফোনালাপে তিনি আরও বলেন, ‘গ্রামে থাকতে গেলে আমার সামনে পড়া লাগব। সামনে পড়লে পরে বুঝিস।’

 

 

 

সংবাদকর্মী শিহাব মিয়া বলেন, তালিকায় সাদ্দামের পরিবারের একাধিক সদস্যের নাম রয়েছে, যারা আদতে ক্ষতিগ্রস্ত নন। এই অনিয়মের বিরুদ্ধে জনস্বার্থে আপত্তি তোলায় তিনি আমাকে হুমকি দিয়েছেন। ঘটনার পর থেকে আমি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। সঠিকভাবে তালিকা যাচাই-বাছাই করা হলেই সত্য প্রমাণিত হবে।

 

 

 

তবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে যুবদল নেতা সাদ্দাম মিয়া বলেন, আমি এলাকার ১০ জনের পক্ষ থেকে তাকে ফোন দিয়েছিলাম। রাজনৈতিক ক্ষমতাবলে কোনো হুমকি দিইনি। সম্পর্কে সে আমার ভাতিজা হয়, তাই আবেগের বশে কিছু কথা বলেছি। সে বিষয়টিকে এতদূর নিয়ে যাবে তা বুঝতে পারিনি।

 

 

 

এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন কালবেলাকে জানান, সাংবাদিককে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) নথিভুক্ত করা হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ড ও জিডির বিষয়বস্তু আমলে নিয়ে তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।