মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টয়লেটে অপরিণত এক নবজাতকের জন্মকে কেন্দ্র করে শনিবার (২৫ জুলাই) চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথমে নবজাতক ফেলে দেওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়লেও পরে জানা যায়, এটি কোনো পরিত্যাগের ঘটনা নয়; বরং হাসপাতালের টয়লেটেই এক অন্তঃসত্ত্বা নারীর অকাল প্রসব হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ভবেরচর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর এলাকার প্রায় পাঁচ থেকে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক নারী শনিবার বিকেলে তীব্র পেটব্যথা নিয়ে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হন। চিকিৎসক ও নার্সদের তত্ত্বাবধানে তিনি চিকিৎসাধীন ছিলেন।
সন্ধ্যার দিকে ওই নারী টয়লেটে গেলে হঠাৎ প্রসববেদনা শুরু হয়। সেখানেই তিনি একটি অপরিণত নবজাতকের জন্ম দেন। তার চিৎকার শুনে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতালের কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সহায়তায় টয়লেট থেকে নবজাতকটিকে উদ্ধার করা হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নবজাতকটি অত্যন্ত অপরিণত হলেও উদ্ধার করার পর তার হৃদস্পন্দন পাওয়া যায়। শিশুটির ওজন আনুমানিক ৬০০ গ্রাম। উন্নত চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার (এনআইসিইউ) প্রয়োজন হওয়ায় তাকে জীবিত অবস্থায় ঢাকায় রেফার করা হয়েছে। রোগীর পরিচয় গোপন রাখার স্বার্থে পরিবারের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
নবজাতকের বাবা জানান, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এবং দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। শনিবার বিকেলে হঠাৎ পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হলে তাকে গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে সন্ধ্যায় টয়লেটে অকাল প্রসবের ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও বলেন, তিনি একজন প্রবাসফেরত ব্যক্তি এবং বর্তমানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাদের আগে থেকেই দুই ছেলে রয়েছে। স্বাভাবিক সময়েই সন্তান জন্ম হওয়ার কথা থাকলেও অকাল প্রসবের কারণে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
গজারিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. নুসরাত আক্তার বলেন, “রোগী প্রায় পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় পেটব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর আগেও তার রক্তপাতের সমস্যা ছিল। সন্ধ্যায় প্রস্রাবের জন্য টয়লেটে গেলে সেখানেই অকাল প্রসব হয়। নবজাতকের ওজন প্রায় ৬০০ গ্রাম এবং তার হৃদস্পন্দন পাওয়া গেছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দ্রুত ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।”
নবজাতককে উদ্ধারকারী হাসপাতালের এক পরিচ্ছন্নতা কর্মী জানান, টয়লেটের পাইপের ভেতরে আটকে থাকা শিশুটিকে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে উদ্ধার করা হয়। তিনি হাত পাইপের ভেতরে প্রবেশ করিয়ে শিশুটির গলার নিচে আঙুলের সহায়তায় তুলে আনেন। তার ভাষ্য, “বাচ্চাটি অনেক ছোট ছিল, তবে তখনও তার জীবনচিহ্ন ছিল।”

গজারিয়া (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















