সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক ক্যাশিয়ার

আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ। ছবি : সংগৃহীত

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ।

 

 

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা ১১টায় ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এ সময় তারা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

 

 

 

শুধু গ্রাহকই নয়, ওই ব্যাংকের এজেন্টের মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন বলে রিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেক আমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌঁছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত ইউসুফ গা-ঢাকা দেয়।

 

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার অ্যাকাউন্টও খালি।

 

 

ভুক্তভোগী শেফালী বেগম গণমাধ্যমকে জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কিছুদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলেন। কিন্তু এখন অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

 

 

 

 

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিনের ৫ লাখ, নাসরিন বেগমের ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদের ৫ লাখ, হাসানের ৪ লাখ ৩০ হাজার, কবিরের ৪ লাখসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

 

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবি, মাদকাসক্ত রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এরপরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছিল তা এখন সবারই প্রশ্ন।

 

 

 

তবে ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে উধাও ব্যাংক ক্যাশিয়ার

আপডেট টাইম : ০৮:৫৬:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কোটি টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন আল-আরাফা ইসলামী ব্যাংকের পাখিমারা আউটলেট শাখার ক্যাশিয়ার রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ।

 

 

 

এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সোমবার বেলা ১১টায় ব্যাংক ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনরা। এ সময় তারা মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেন।

 

 

 

শুধু গ্রাহকই নয়, ওই ব্যাংকের এজেন্টের মাদার অ্যাকাউন্ট থেকেও ১০ লাখ টাকা নিয়ে গেছেন বলে রিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়ায় ব্যাংকের শাখায় এসে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন অনেক আমানতকারী।

ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিযোগ, টাকা গ্রহণের পর জমাকৃত বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যাংকের অনলাইন সিস্টেমে অন্তর্ভুক্ত না করে আত্মসাৎ করেন রিয়াদ। আর গ্রাহকের মোবাইলে জমার বার্তা না পৌঁছালে সার্ভারে সমস্যা বলে তিনি কৌশলে এড়িয়ে যান। পরে তার আত্মসাতের বিষয়ে এজেন্ট ও গ্রাহকদের নজরে আসলে প্রতারণায় সিদ্ধহস্ত ইউসুফ গা-ঢাকা দেয়।

 

ভুক্তভোগী গ্রাহক মো. পারভেজ গণমাধ্যমকে বলেন, ৫ মাস আগে আমার নিজ অ্যাকাউন্টে ৫ লাখ টাকা রেখেছি। প্রয়োজন হয়নি বলে তোলার দরকারও পরেনি। কিন্তু এখন খবর পেয়ে গিয়ে দেখি আমার অ্যাকাউন্টও খালি।

 

 

ভুক্তভোগী শেফালী বেগম গণমাধ্যমকে জানান, কয়েকদিন আগে টাকা উত্তোলন করতে গেলে রিয়াদ কিছুদিন পরে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা তুলতে বলেন। কিন্তু এখন অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।

 

 

 

 

এছাড়া লাইজু বেগমের ৫ লাখ, নাসরিনের ৫ লাখ, নাসরিন বেগমের ২ লাখ ৭১ হাজার, মোকছেদের ৫ লাখ, হাসানের ৪ লাখ ৩০ হাজার, কবিরের ৪ লাখসহ প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাহকের টাকার হদিস মিলছে না। ভুক্তভোগীরা বলছেন ঠিক কত মানুষের টাকা নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন ক্যাশিয়ার রিয়াদ তা এখনও সঠিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

 

 

 

স্থানীয় অনেক মানুষের দাবি, মাদকাসক্ত রিয়াদুল ইসলাম ইউসুফ জুয়াসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত ছিলেন। এরপরেও ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শাখায় তাকে দায়িত্বে কেন রাখা হয়েছিল তা এখন সবারই প্রশ্ন।

 

 

 

তবে ব্যাংকটির এজেন্ট মোস্তাফিজুর রহমান আইয়ুব আলী গণমাধ্যমকে বলেন, অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। এছাড়া ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।

 

 

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, এ ঘটনায় আমরা থানা পুলিশ এখনও কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।