সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ঘুষ ছাড়া পেনশনের ফাইল ছাড়েন না নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসের কম্পিউটার অপারেটর

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫
  • ৩৪ জন দেখেছেন

ব্যুরো প্রধান , নওগাঁ:

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ঘুষ ছাড়া তিনি পেনশনের কাজ করেন না। তাকে টাকা দিলে হয় কাজ, না দিলে ঘুরতে হবে দিনের পর দিন।

সম্প্রতি ঘুষের এক ভিডিও এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। সেখানে দেখা যায়, ঘুষের টাকা টেবিলের নিচে গুনছেন এক ব্যক্তি। এরপর রেখে দিলেন নিজের পরিহিত শার্টের বুক পকেটে।

ওই ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন।

আর ঘুষ দিয়ে কাজ করে নেওয়া ব্যক্তির নাম ওয়ালিড রেজা।

ওয়ালিড রেজা বলেন, আমার মা পত্নীতলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নার্সের চাকরি করতেন। পেনশনের জন কম্পিউটার অপারেটর শফিকুল ইসলামের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ঘুষ পেনশনের ফাইল ছাড়বে না। তাই তাকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি। ফলে আমার মায়ের পেনশনের কাজটা হয়েছে। তবে কোথাও অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে ভিডিও দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয় কম্পিউটার অপারেটর শফিকুল ইসলামের কাছে। ভিডিওতে টাকা গুনে পকেটে রাখার ব্যক্তিটি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি পেনশনের কাজই করেন না বলে দায় এড়িয়ে গেলেন। আর বক্তব্য দিবে না জানিয় তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বললেন।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের বড়বাবু পরিচয় দিয়ে বাহারুল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন ভাবে নিউজ করতে নিষেধ করলেন। তিনি জানালেন, যেভাবেই হোক শফিকুল ইসলাম ১০ টা টাকা নিয়েছে। এই টাকাটা নেওয়ায় অপরাধ। এই ঘটনার জন্য তার বিচার করা হয়েছে ও অনেক বকাবকি করা হয়েছে। এবারের মতো এই বিষয়টা ভুলে যাও, নিউজ করতে হবে না। পরবর্তীতে এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তার শাস্তি হবে বলে জানালেন তিনি। এবং চা খাওয়ার কথা বলে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। এছাড়া তার কথা অনেকেই শোনেন বলে জানালেন তিনি।

অপরদিকে সেখানে উপস্থিত সাবেক এক স্টাফ জানালেন আপনি শফিকুলের ঘুষের বিষয়ে যেটা শুনেছেন, সেটা সঠিক আছে। আমিও চাচ্ছি, সে যেন পরবর্তীতে এধরণের কাজ আর না করতে পারে। আমিও একজন পেনশন ব্যক্তি। আমিও এধরণের শিকার হলেও বলবো না। কারণ আমি একজন অফিসার ছিলাম এখানে।

রোববার (৩১আগষ্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জানতে চাইলে নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা: মো: আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, যে অন্যায় করবে দায় তারই নিতে হবে। এসব বিষয়ে আমার কোন ছাড় নেই। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘুষ ছাড়া পেনশনের ফাইল ছাড়েন না নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসের কম্পিউটার অপারেটর

আপডেট টাইম : ০৭:৪৮:২১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৫

ব্যুরো প্রধান , নওগাঁ:

নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে কর্মরত এক কম্পিউটার অপারেটরের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ ঘুষ ছাড়া তিনি পেনশনের কাজ করেন না। তাকে টাকা দিলে হয় কাজ, না দিলে ঘুরতে হবে দিনের পর দিন।

সম্প্রতি ঘুষের এক ভিডিও এসেছে এই প্রতিবেদকের হাতে। সেখানে দেখা যায়, ঘুষের টাকা টেবিলের নিচে গুনছেন এক ব্যক্তি। এরপর রেখে দিলেন নিজের পরিহিত শার্টের বুক পকেটে।

ওই ব্যক্তির নাম শফিকুল ইসলাম। তিনি নওগাঁ সিভিল সার্জন অফিসে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কর্মরত আছেন।

আর ঘুষ দিয়ে কাজ করে নেওয়া ব্যক্তির নাম ওয়ালিড রেজা।

ওয়ালিড রেজা বলেন, আমার মা পত্নীতলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নার্সের চাকরি করতেন। পেনশনের জন কম্পিউটার অপারেটর শফিকুল ইসলামের কাছে গিয়েছিলাম। কিন্তু তিনি ঘুষ পেনশনের ফাইল ছাড়বে না। তাই তাকে ৫ হাজার টাকা ঘুষ দিয়েছি। ফলে আমার মায়ের পেনশনের কাজটা হয়েছে। তবে কোথাও অভিযোগ দেওয়া হয়নি।

সরেজমিনে গিয়ে ভিডিও দেখিয়ে জানতে চাওয়া হয় কম্পিউটার অপারেটর শফিকুল ইসলামের কাছে। ভিডিওতে টাকা গুনে পকেটে রাখার ব্যক্তিটি তিনি নিজেই বলে স্বীকার করেন। তবে তিনি পেনশনের কাজই করেন না বলে দায় এড়িয়ে গেলেন। আর বক্তব্য দিবে না জানিয় তার উর্দ্ধতন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বললেন।

এদিকে সিভিল সার্জন অফিসের বড়বাবু পরিচয় দিয়ে বাহারুল ইসলাম নামের এক কর্মকর্তা বিভিন্ন ভাবে নিউজ করতে নিষেধ করলেন। তিনি জানালেন, যেভাবেই হোক শফিকুল ইসলাম ১০ টা টাকা নিয়েছে। এই টাকাটা নেওয়ায় অপরাধ। এই ঘটনার জন্য তার বিচার করা হয়েছে ও অনেক বকাবকি করা হয়েছে। এবারের মতো এই বিষয়টা ভুলে যাও, নিউজ করতে হবে না। পরবর্তীতে এধরণের ঘটনা ঘটিয়ে থাকলে তার শাস্তি হবে বলে জানালেন তিনি। এবং চা খাওয়ার কথা বলে টাকা দেওয়ার চেষ্টা করলেন। এছাড়া তার কথা অনেকেই শোনেন বলে জানালেন তিনি।

অপরদিকে সেখানে উপস্থিত সাবেক এক স্টাফ জানালেন আপনি শফিকুলের ঘুষের বিষয়ে যেটা শুনেছেন, সেটা সঠিক আছে। আমিও চাচ্ছি, সে যেন পরবর্তীতে এধরণের কাজ আর না করতে পারে। আমিও একজন পেনশন ব্যক্তি। আমিও এধরণের শিকার হলেও বলবো না। কারণ আমি একজন অফিসার ছিলাম এখানে।

রোববার (৩১আগষ্ট) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জানতে চাইলে নওগাঁ সিভিল সার্জন ডা: মো: আমিনুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, যে অন্যায় করবে দায় তারই নিতে হবে। এসব বিষয়ে আমার কোন ছাড় নেই। তারপরও তার বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখা হবে এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।