বিশেষ সংবাদদাতা, সলঙ্গা। জনতার কণ্ঠ.কম
চা গরম, চা গরম’ উচ্চস্বরে চিৎকার দিয়ে গাঁয়ের বাড়ি বাড়ি, কিংবা বাজারের অলিগলিতে চা বিক্রি করেন জাকির হাসান। সেই সঙ্গে যারা তার চায় পান করেন, তাদের গানও শোনান তিনি। এভাবেই চা বিক্রি করে নিজের সংসারের বোঝা টেনে নিয়ে যাচ্ছেন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গা থানার মধ্যপাড়া ভরমোহনী গ্রামের যুবক জাকির হাসান।
বর্তমানে তার বয়স ৩০ বছর। ভূমিহীন দরিদ্র পিতা আব্দুল খালেক এক সময় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। মাত্র একটি টিনের ঘর ছাড়া আর কোন ভিটেমাটি নেই। আব্দুল খালেক বয়সের ভারে নূব্জ। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ্য অবস্থায় কর্মহীন তিনি। ১ ভাই ২ বোন মিলে জাকিরের ৫ জনের পরিবার। বাবার অসুস্থতায় ২টি বোনের পড়াশোনাসহ পুরো সংসার পরিচালনার দায়িত্ব এসে পরে জাকিরের কাঁধে।
সংসারের হাল ধরতে জাকির স্থানীয় একটি কিন্টার গার্টেনে মাত্র ২ হাজার টাকা বেতনে পিয়ন পদে চাকরি নেন তিনি। তবে এত অল্প বেতনে সংসার চলছিল না। তাই ৪টা হতে রাত ৮টা পর্যন্ত ভ্রাম্যমান চায়ের দোকান শুরু করেন। আর এভাবেই ফ্ল্যাক্সে করে বাড়ি বাড়ি চা বিক্রি করেন তিনি।
সলঙ্গা সরকারি প্রাইমারি স্কুল হতে পঞ্চম শ্রেণী পাশ করে জাকির। সলঙ্গা ইসলামিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কারিগরি শাখা থেকে এসএসসি পাস করে। সংসার চালানোর পাশাপাশি লেখাপড়াও চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বর্তমানে তিনি মুরাদপুর ফাজিল মাদরাসা বিএম শাখায় পড়াশোনা করছেন।
দিনে পিয়নের চাকরি বিকেলে চা বিক্রি আর রাত জোগে পড়াশুনা চলতে থাকে জাকিরের। অসুস্থ্য কর্মহীন পিতার একমাত্র ছেলে জাকির এভাবেই অভাব নামের সংসার চালাতে থাকে। ইতিমধ্যেই ২ বোনকে লেখাপড়া করিয়ে বিনা যৌতুকে বিয়ে দিয়েছে জাকির। অসুস্থ বাবা-মার চিকিৎসা,সংসার খরচ, নিজের পড়াশুনা চালাতে হিমশিম আর নিদারুন কষ্টে চলতে হচ্ছে জাকিরকে। তাইতো জীবন সংগ্রামের এক উজ্জ্বল নাম সলঙ্গার অদম্য ছাত্র, চা বিক্রেতা জাকির।
মাত্র ১টিনের ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে পরিবারের সবাইকে নিয়ে।এভাবেই আলাপচারিতায় সদা হাস্যজ্জল জাকির জানায় তার পরিবারের করুণ কাহিনী।
সমাজের বিত্তবান,মানবিক মানুষগুলোকে একটি ঘরসহ আর্থিক সহযোগিতার বিনীত অনুরোধ জানান অদম্য শিক্ষার্থী জাকির।

রিপোর্টার: 




















