জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চোর সন্দেহে মো. বাদশা (২৫) নামের এক তরুণকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজারসহ চারজনকে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মাজেদুল ইসলাম (১৯) নামের আরও এক তরুণ গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহত বাদশা জেলার ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের নলপুকুর গুচ্ছগ্রামের মো. জামালের ছেলে। আহত মাজেদুলও একই গ্রামের বাসিন্দা।
আটককৃতরা হলেন- জয়পুরহাট সদর উপজেলার জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার দিনাজপুর জেলার পার্বতীপুর থানার রিয়াজপাড়া গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে আজিমুল হক (৩৫), পাম্পের কর্মচারী লালমনিরহাট জেলার কালিগঞ্জ থানার উত্তর বানা গ্রামের আব্দুর সামাদ আলীর ছেলে মো. সাইফুল ইসলাম সজীব (৩১), জয়পুরহাট জেলার ক্ষেতলাল থানার মহব্বতপুর গ্রামের মৃত মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে মো. রফিকুল ইসলাম (৩০) এবং জয়পুরহাট সদর থানার বেলতলা গ্রামের আছির উদ্দিনের ছেলে মো. আমজাদ আলী (২০)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জামালগঞ্জ ফিলিং স্টেশনে চুরি বা অবৈধ প্রবেশের সন্দেহে বাদশা ও মাজেদুলকে আটক করা হয়। পরে তাদের একটি পোল্ট্রি খামারে নিয়ে রাতভর বেধড়ক মারধর ও নির্যাতন চালানো হয়। এতে তারা মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে অভিযুক্তরা ঘটনা ধামাচাপা দিতে ক্ষেতলালের মহব্বতপুর পদ্মপুকুর এলাকার সড়কের পাশে তাদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রেখে যায়। পরের দিন ভোরে স্থানীয়রা তাদের দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।
আহত মাজেদুল ইসলাম জানান, চুরি করার বিষয়টি বারবার অস্বীকার করা সত্ত্বেও তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয় এবং অপরাধ স্বীকার করতে চাপ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। ভোরে জ্ঞান ফিরলে পাশে বাদশার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আরিফ হোসেন বলেন, “প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৭ জনকে আটক করেছিল। পরে জিজ্ঞাসাবাদে ৪ জনের সরাসরি সম্পৃক্ততা পাওয়া যাওয়ায় তাদের ক্ষেতলাল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত বাকিদের শনাক্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
ডিবি সূত্র জানায়, আটক ৭ জনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় বাকি ৩ জনকে ছেড়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রেস রিলিজের মাধ্যমে জানানো হবে।

জয়পুরহাট প্রতিনিধি।জনতার কণ্ঠ.কম 




















