সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

জনপ্রিয় খল অভিনেতা রাজীবের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

দরাজ কণ্ঠ আর অনবদ্য অভিনয় দিয়ে বাংলা চলচিত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করা জনপ্রিয় খল অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজীবের ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

চারবারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা রাজীব শুধু খল নায়ক নয়, রাজীব ছিলেন একজন শক্তিমান অভিনেতা। তিনি ১৯৮১ সালে “রাখে আল্লাহ মারে ক “ সিনেমার মাধ্যমে চলচিত্রে আসেন।

এরপর ১৯৮২ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকন সোনা’ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও ‘দাবী’ নামে আরও একটি চলচিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর খল অভিনেতা চরিত্রে রাজীব নিজেকে মেলে ধরেন। একের পর এক হিট-সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করতে থাকেন তিনি।

পর্দায় রাজীবের উপস্থিতি ছিল দরাজ গুরুগম্ভীর কন্ঠের এক শক্তিশালী ভিলেন হিসেবে। খল অভিনেতা হিসেবে যেমন ভয়ংকর ছিলেন, তেমনই নিপিড়ীত প্রতিবাদী চরিত্রেও রাজীব ছিলেন সফল।

রাজীব ১৯৫২ সালের পহেলা জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে চাকরি করতেন তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে। ঢাকাই সিনেমায় নাম লিখিয়ে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত এ অভিনেতা।

রাজীব অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-রঙিন নবাব সিরাজদ্দৌলা, দাঙ্গা, দেশদ্রোহী, হাঙর নদী গ্রেনেড, প্রেম পিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, স্বপ্নের পৃথিবী, আজকের সন্ত্রাসী, দুর্জয়, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বাবার আদেশ, বিক্ষোভ, অন্তরে অন্তরে, ডন, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, ভাত দে, অনন্ত ভালোবাসা, রাজা শিকদার ও বুকের ভেতর আগুন, সাহসী মানুষ চাই, বিদ্রোহ চারিদিকে,  প্রভৃতি।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজীব শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। সিনেমাগুলো হলো- হীরামতি (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১), বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩)। এছাড়া অভিনয়ের বাইরে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

রাজীব অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংসদের (জাসাস) প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে সাধারণ সম্পাদক ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

জনপ্রিয় খল অভিনেতা রাজীবের ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট টাইম : ১২:৫৬:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ নভেম্বর ২০২৫

দরাজ কণ্ঠ আর অনবদ্য অভিনয় দিয়ে বাংলা চলচিত্রে শক্ত অবস্থান তৈরি করা জনপ্রিয় খল অভিনেতা ওয়াসীমুল বারী রাজীবের ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী আজ। ২০০৪ সালের ১৪ নভেম্বর ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মারা যান তিনি।

চারবারের জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা রাজীব শুধু খল নায়ক নয়, রাজীব ছিলেন একজন শক্তিমান অভিনেতা। তিনি ১৯৮১ সালে “রাখে আল্লাহ মারে ক “ সিনেমার মাধ্যমে চলচিত্রে আসেন।

এরপর ১৯৮২ সালে কাজী হায়াৎ পরিচালিত ‘খোকন সোনা’ সিনেমায় নায়কের চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়াও ‘দাবী’ নামে আরও একটি চলচিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেন। এরপর খল অভিনেতা চরিত্রে রাজীব নিজেকে মেলে ধরেন। একের পর এক হিট-সুপারহিট সিনেমায় অভিনয় করতে থাকেন তিনি।

পর্দায় রাজীবের উপস্থিতি ছিল দরাজ গুরুগম্ভীর কন্ঠের এক শক্তিশালী ভিলেন হিসেবে। খল অভিনেতা হিসেবে যেমন ভয়ংকর ছিলেন, তেমনই নিপিড়ীত প্রতিবাদী চরিত্রেও রাজীব ছিলেন সফল।

রাজীব ১৯৫২ সালের পহেলা জানুয়ারি পটুয়াখালী জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। চলচ্চিত্রে আসার আগে চাকরি করতেন তিতাস গ্যাস কোম্পানিতে। ঢাকাই সিনেমায় নাম লিখিয়ে প্রায় দুই শতাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন প্রয়াত এ অভিনেতা।

রাজীব অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে-রঙিন নবাব সিরাজদ্দৌলা, দাঙ্গা, দেশদ্রোহী, হাঙর নদী গ্রেনেড, প্রেম পিয়াসী, সত্যের মৃত্যু নেই, স্বপ্নের পৃথিবী, আজকের সন্ত্রাসী, দুর্জয়, দেনমোহর, স্বপ্নের ঠিকানা, মহামিলন, বাবার আদেশ, বিক্ষোভ, অন্তরে অন্তরে, ডন, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, ভাত দে, অনন্ত ভালোবাসা, রাজা শিকদার ও বুকের ভেতর আগুন, সাহসী মানুষ চাই, বিদ্রোহ চারিদিকে,  প্রভৃতি।

অভিনয়ের স্বীকৃতিস্বরূপ রাজীব শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র অভিনেতা হিসেবে চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। সিনেমাগুলো হলো- হীরামতি (১৯৮৮), দাঙ্গা (১৯৯১), বিদ্রোহ চারিদিকে (২০০০), সাহসী মানুষ চাই (২০০৩)। এছাড়া অভিনয়ের বাইরে বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

রাজীব অভিনয়ের পাশাপাশি রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) অঙ্গ সংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংসদের (জাসাস) প্রতিষ্ঠাতা সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। পরে সাধারণ সম্পাদক ও মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন।