সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক, দেড় বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া, ইট বেরিয়ে যাওয়া এবং নিচের অংশ ধসে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সেফাত হোসেনের ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে ক্লিনিকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার খাগড়া এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি একসময় এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা উঠে গিয়ে মূল ইটের গাঁথুনি বেরিয়ে পড়েছে। ভবনের নিচের অংশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিক ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে। একটি অংশে দেয়াল ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের ভেতরেও ভাঙা ইট ও নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভবনটি ব্যবহার করা নিরাপদ কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর ধরে সেফাত হোসেনের ভাড়া বাড়িতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চলছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা নিতে দূরে যেতে হতো না। কিন্তু নিজস্ব ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ভাড়া বাড়িতে সেবা নিতে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ীভাবে সেবা কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হোক। এতে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জরাজীর্ণ কমিউনিটি ক্লিনিক, দেড় বছর ধরে ভাড়া বাড়িতে স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট টাইম : ০৬:০১:১৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার খাগড়া কমিউনিটি ক্লিনিক দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ভবনের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল, দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়া, ইট বেরিয়ে যাওয়া এবং নিচের অংশ ধসে পড়ার চিত্র দেখা গেছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালানো সম্ভব না হওয়ায় প্রায় দেড় বছর ধরে স্থানীয় সেফাত হোসেনের ভাড়া বাড়িতে অস্থায়ীভাবে ক্লিনিকটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার খাগড়া এলাকায় অবস্থিত কমিউনিটি ক্লিনিকটি একসময় এলাকার মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম ভরসাস্থল ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের অযত্ন ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনটির বিভিন্ন অংশ নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে ভবনের দেয়ালে অসংখ্য ফাটল দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও পলেস্তারা উঠে গিয়ে মূল ইটের গাঁথুনি বেরিয়ে পড়েছে। ভবনের নিচের অংশও ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ক্লিনিক ভবনের দেয়ালের বিভিন্ন অংশে ফাটল তৈরি হয়েছে। একটি অংশে দেয়াল ভেঙে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনের ভেতরেও ভাঙা ইট ও নির্মাণসামগ্রীর ধ্বংসাবশেষ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ফলে ভবনটি ব্যবহার করা নিরাপদ কি না, তা নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় প্রায় দেড় বছর ধরে সেফাত হোসেনের ভাড়া বাড়িতে কমিউনিটি ক্লিনিকের সেবা কার্যক্রম চলছে। এতে একদিকে যেমন স্বাস্থ্যকর্মীদের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিতে আসা স্থানীয় বাসিন্দাদেরও নানা সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকটি এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের প্রাথমিক চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শসহ বিভিন্ন সেবা নিতে দূরে যেতে হতো না। কিন্তু নিজস্ব ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার অনুপযোগী থাকায় ভাড়া বাড়িতে সেবা নিতে হচ্ছে।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে অস্থায়ীভাবে সেবা কার্যক্রম চললেও স্থায়ী সমাধানের উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। দ্রুত জরাজীর্ণ ভবনটি পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, কমিউনিটি ক্লিনিকের নিজস্ব ভবনটি দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করে সেখানে আবার নিয়মিত স্বাস্থ্যসেবা চালু করা হোক। এতে এলাকার মানুষের ভোগান্তি কমবে এবং সরকারি প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে