এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা-২০২৬-এর ফল প্রকাশের পর নীলফামারীর জলঢাকার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। কাঙ্ক্ষিত ফল পেয়ে কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করেছে, আবার কেউ শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের সাফল্যে আনন্দিত হয়েছেন শিক্ষক ও অভিভাবকরাও। ফল প্রকাশের পর বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।
এদিকে এসএসসি পরীক্ষায় ধারাবাহিক সাফল্যের ধারা এবারও ধরে রেখেছে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার কৈমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং শৌলমারী ইউনিয়নের আনছারহাট গোপালঝার উচ্চ বিদ্যালয়।
এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কৈমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়ে ১৮৬ জন কৃতকার্য হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এমন ফলাফলে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আনন্দের আমেজ বইছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এবারের এসএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২৩৬ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৮৬ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। পাসের হার ৭৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৬ জন।
প্রতিষ্ঠানের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আইনুন নাহার বলেন, শিক্ষার্থীদের একাগ্রতা ও কঠোর পরিশ্রম, শিক্ষকদের নিবেদিত প্রচেষ্টা এবং অভিভাবকদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই এই সাফল্য অর্জন সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও প্রতিষ্ঠানের সুনাম ও সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ও রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আলহাজ সামসুজ্জামান সামু কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এ অর্জন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং সাফল্যের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পরিচালনা পর্ষদ সবসময় শিক্ষকদের পাশে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সার্থকতা শুধু ভালো ফলাফলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; জ্ঞান, নীতি-নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে সমৃদ্ধ প্রজন্ম গড়ে তোলাই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য। কৈমারী স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফলের পাশাপাশি ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের নেতৃত্বে ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রত্যাশা।
আধুনিক বিশ্বে সফল হতে পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি, বিজ্ঞান, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের দক্ষতা অর্জন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কৈমারীর শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য। বর্তমান সাফল্য সেই স্বপ্নপূরণের পথে বড় অনুপ্রেরণা। শিক্ষার মানোন্নয়নে অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
এক শিক্ষার্থী ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ফলের জন্য আমি অনেক পরিশ্রম করেছি। আল্লাহর রহমতে ভালো ফল পেয়েছি। এই ফলে আমি যেমন খুশি, আমার পরিবারও তেমনি আনন্দিত। আশা করি, এই অর্জন আমাকে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দেবে।’
একই প্রতিষ্ঠানের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। তাই এত ভালো ফল হবে, সেটা আশা করিনি। ফল পেয়ে আমি অনেক খুশি। এখন সামনে আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করব।’
শুধু শিক্ষার্থীরাই নয়, ফল প্রকাশের পর অনেক অভিভাবককেও সন্তানদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করতে দেখা যায়। তাঁদের অনেকেই শিক্ষার্থীদের সাফল্যের পেছনে পরিবারের পাশাপাশি শিক্ষকদের অবদানের কথা তুলে ধরেন।
এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে। তার ফলে আমরা খুবই আনন্দিত। এই সাফল্যের পেছনে তার নিজের পরিশ্রম যেমন রয়েছে, তেমনি স্কুলের শিক্ষকদেরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান আছে। তাঁদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’
এদিকে এসএসসি পরীক্ষা-২০২৬-এ শৌলমারী ইউনিয়নের আনছারহাট গোপালঝার উচ্চ বিদ্যালয়ও কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জন করেছে। এ বিদ্যালয়েও ফল প্রকাশের পর আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। শিক্ষার্থীরা একে অপরকে শুভেচ্ছা জানায়, ছবি তোলে এবং নিজেদের অর্জন উদ্যাপন করে।
প্রকাশিত ফলাফল অনুযায়ী, এ বছর বিদ্যালয়টি থেকে মোট ১৯১ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ১৬২ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। ফলে প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৮৫ দশমিক ৭১ শতাংশ। এছাড়া ৬৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে।
কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হামিদুর রহমান বলেন, বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিক ভালো ফলাফলের মাধ্যমে নীলফামারী জেলা ও জলঢাকাজুড়ে সুনাম ও জনপ্রিয়তা অর্জন করে আসছে।
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্ন অনেক কঠিন ছিল। বিশেষ করে উচ্চতর গণিতের প্রশ্ন নিয়ে নানা আলোচনা ছিল। সব মিলিয়ে আমি যে ফল আশা করেছিলাম, তার চেয়েও ভালো ফল পেয়েছি। এতে আমি খুবই আনন্দিত।’
আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের শিক্ষক ও অভিভাবকেরা সবসময় আমাদের পাশে ছিলেন। তাঁদের সহযোগিতা ও উৎসাহের কারণেই আমরা ভালো ফল করতে পেরেছি। এই ফলকে ভিত্তি করে ভবিষ্যতে আরও ভালো করার চেষ্টা করব। জীবনে যে স্বপ্ন দেখি, সেই স্বপ্নের চূড়ান্ত লক্ষ্যে পৌঁছাতে চাই।’

কামরুজ্জামান (কামরুল) নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















