সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সময়সীমা Logo এসএসসি সনদ সার্ভারে আপলোড বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন Logo প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে ধাক্কা, বাসচালক গ্রেপ্তার Logo বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টি, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত Logo ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের বিশেষ সহায়তা ঘোষণা Logo প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

জলাবদ্ধতায় ডুবলো ১২শ হেক্টর জমি, পানি প্রবাহের বাঁধ ভেঙে দিলো কৃষক

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫
  • 92

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তিনটি ইউনিয়নের ১২শ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে আমন ধানের অসংখ্য বীজতলা এবং রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত জমি। ফলে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে  বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা জমিগুলো চাষযোগ্য করার জন্য একটি আঞ্চলিক সড়কের পানি প্রবাহের বাঁধ ভেঙ্গে জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করে।

রোববার (৩ আগষ্ট) দুপুরে তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ব্রীজের পাশে এসব ঘটনা ঘটে। এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়ায় পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত হলেও ওই সড়কে পথচারী, ট্রাক, ভ্যানসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার দেশিগ্রাম, তালম ও মাধাইনগর ইউনিয়নের অন্তত ৩০-৩৫টি গ্রামের ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসব এলাকার রোপা আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমি ও জমিতে থাকা রোপা আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

ভাদাস গ্রামের কৃষক মো. আলম, ওয়াশির গ্রামের কৃষক কাওছার হোসেনসহ অনেকেই জানান, তিনটি ইউনিয়নের মাঠের সকল পানি অপসারিত হওয়ার একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়ক। ওই সড়কের ভাদাস ওয়াপদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণের কারণে পার্শ্ব সড়কে মাত্র দুটি রিং বসিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ওই স্থানটি পানি প্রবাহের জন্য খুবই সংর্কীন। যে কারণে উজানে বর্ষণের পানি ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। যাতে করে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার জলাবদ্ধ সৃৃষ্টি হয়ে আসছে। তাই জলাবদ্ধতা থেকে রোপা আমনের বীজতলা এবং জমি রক্ষায় প্রায় শতাধিক বিক্ষুদ্ধ কৃষক কোদাল, শাবল নিয়ে পানি প্রবাহের একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ওবাদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজের পাশ্ব রাস্তার বাঁধ ভেঙ্গে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তাড়াশ-কাটাগাড়ি আঞ্চলিক ভাদাস খালে বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাঁধের ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করলেও পানি যাওয়া-আসার সুযোগ রাখা হয়নি। এতে বাঁধের পূর্বদিকের অংশের ফসলী মাঠ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. মরিয়ম খাতুন, সুরাইয়া ইয়াসমিন লিমা, রোজিনা আক্তারসহ অনেকেই জানান, ওই রাস্তাটি আমাদের কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। কিন্তু হঠাৎ বিক্ষুদ্ধ কৃষকেরা তাদের প্রয়োজনে বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী সহ হাজারো মানুষ চলাচল করতে না পেরে ভোগান্তীর কবলে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগ :

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সময়সীমা

জলাবদ্ধতায় ডুবলো ১২শ হেক্টর জমি, পানি প্রবাহের বাঁধ ভেঙে দিলো কৃষক

আপডেট টাইম : ০৯:১৭:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ অগাস্ট ২০২৫

তাড়াশ (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

কয়েক দিনের টানা বর্ষণে ভয়াবহ জলাবদ্ধতায় সিরাজগঞ্জের তাড়াশে তিনটি ইউনিয়নের ১২শ হেক্টর জমি তলিয়ে গেছে। ডুবে গেছে আমন ধানের অসংখ্য বীজতলা এবং রোপা আমন ধান লাগানোর জন্য প্রস্তুত জমি। ফলে রোপা আমন ধান লাগানোর কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। এদিকে  বিক্ষুব্ধ কৃষকেরা জমিগুলো চাষযোগ্য করার জন্য একটি আঞ্চলিক সড়কের পানি প্রবাহের বাঁধ ভেঙ্গে জলাবদ্ধতার পানি অপসারণ করে।

রোববার (৩ আগষ্ট) দুপুরে তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ব্রীজের পাশে এসব ঘটনা ঘটে। এদিকে বাঁধ ভেঙ্গে দেওয়ায় পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত হলেও ওই সড়কে পথচারী, ট্রাক, ভ্যানসহ স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা পড়েছেন চরম ভোগান্তিতে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিনের টানা মাঝারি ও ভারী বর্ষণের ফলে উপজেলার দেশিগ্রাম, তালম ও মাধাইনগর ইউনিয়নের অন্তত ৩০-৩৫টি গ্রামের ফসলী জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ইতিমধ্যেই এসব এলাকার রোপা আমন চাষের জন্য প্রস্তুত করা প্রায় ১ হাজার ২শ হেক্টর জমি ও জমিতে থাকা রোপা আমনের বীজতলা তলিয়ে গেছে।

ভাদাস গ্রামের কৃষক মো. আলম, ওয়াশির গ্রামের কৃষক কাওছার হোসেনসহ অনেকেই জানান, তিনটি ইউনিয়নের মাঠের সকল পানি অপসারিত হওয়ার একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়ক। ওই সড়কের ভাদাস ওয়াপদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজ নির্মাণের কারণে পার্শ্ব সড়কে মাত্র দুটি রিং বসিয়ে পানি প্রবাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ওই স্থানটি পানি প্রবাহের জন্য খুবই সংর্কীন। যে কারণে উজানে বর্ষণের পানি ফুলে ফেঁপে উঠতে থাকে। যাতে করে প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকার জলাবদ্ধ সৃৃষ্টি হয়ে আসছে। তাই জলাবদ্ধতা থেকে রোপা আমনের বীজতলা এবং জমি রক্ষায় প্রায় শতাধিক বিক্ষুদ্ধ কৃষক কোদাল, শাবল নিয়ে পানি প্রবাহের একমাত্র স্থান তাড়াশ-কাঁটাগাড়ি আঞ্চলিক সড়কের ভাদাস ওবাদা বাঁধ এলাকায় একটি ব্রীজের পাশ্ব রাস্তার বাঁধ ভেঙ্গে দেয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, তাড়াশ-কাটাগাড়ি আঞ্চলিক ভাদাস খালে বাঁধ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের কাজ করছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বাঁধের ওপর দিয়ে যান চলাচলের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করলেও পানি যাওয়া-আসার সুযোগ রাখা হয়নি। এতে বাঁধের পূর্বদিকের অংশের ফসলী মাঠ ভয়াবহ জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে।

তাড়াশ মহিলা ডিগ্রি কলেজের শিক্ষার্থী মোছা. মরিয়ম খাতুন, সুরাইয়া ইয়াসমিন লিমা, রোজিনা আক্তারসহ অনেকেই জানান, ওই রাস্তাটি আমাদের কলেজে আসা-যাওয়ার একমাত্র রাস্তা। কিন্তু হঠাৎ বিক্ষুদ্ধ কৃষকেরা তাদের প্রয়োজনে বাঁধ ভেঙ্গে দিয়েছে। ফলে পথচারী, শিক্ষার্থী সহ হাজারো মানুষ চলাচল করতে না পেরে ভোগান্তীর কবলে পড়েছেন। এ প্রসঙ্গে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নুসরাত জাহান বলেন, বিষয়টি জেনে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।