সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ছবি: সংগৃহীত

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের জবাবদিহিতাহীন শাসনব্যবস্থার কারণে জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোগত ঘাটতিই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

 

 

 

 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুই থেকে তিন দিন পরপর দুই থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক। এলএনজি আমদানির পর সেটিকে গ্যাসে রূপান্তর, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, তা অতীতে পর্যাপ্তভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা এবং আবাসিক, শিল্প ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়টি একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড। এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। বাস্তবসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

 

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই তাদের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 

 

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটে দুটি বিসিক শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই প্রায় ১৮৭ একর জমিতে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এটি বর্তমান দুটি শিল্পনগরীর তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বড় হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

 

 

 

যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হবে। এছাড়া আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার পর সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন উন্নয়নের কাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবে।

 

 

 

 

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ছাত্র-জনতা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলনটি গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক পর দেশের মানুষ আবারও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সামাজিক শক্তিকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই তারুণ্যশক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

 

 

 

 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল বাছিত মোল্লা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবণ্য ইসলাম ঋতু।

 

 

 

 

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

জ্বালানি সংকট পুরোপুরি কাটতে আরও সময় লাগবে: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৮:৪৫:০২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

দেশের চলমান জ্বালানি সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কিছুটা সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন শিল্প, বাণিজ্য, পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

 

 

 

 

তিনি বলেন, বিগত ১৭ বছরের জবাবদিহিতাহীন শাসনব্যবস্থার কারণে জ্বালানি খাতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি। বিশেষ করে আমদানিনির্ভর তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ব্যবস্থাপনায় অবকাঠামোগত ঘাটতিই বর্তমান সংকটের মূল কারণ।

 

 

 

 

বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দুই থেকে তিন দিন পরপর দুই থেকে চার ঘণ্টা লোডশেডিং করতে হচ্ছে। তবে এই পরিস্থিতি সাময়িক। এলএনজি আমদানির পর সেটিকে গ্যাসে রূপান্তর, সংরক্ষণ ও সরবরাহের জন্য যে অবকাঠামো প্রয়োজন, তা অতীতে পর্যাপ্তভাবে নির্মাণ করা হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বাভাবিক করা এবং আবাসিক, শিল্প ও নতুন বিনিয়োগের জন্য পর্যাপ্ত জ্বালানি নিশ্চিত করতে সময় লাগবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়টি একটি ট্রানজিশন পিরিয়ড। এই সংকটের কোনো তাৎক্ষণিক সমাধান নেই। বাস্তবসম্মত ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে সময় লাগবে। তাই সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে।’

 

 

 

সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, জনগণ তাদের পছন্দের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছরের জন্য দায়িত্ব দিয়েছে। এই সময়ে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেই তাদের আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব। জবাবদিহিতার সংস্কৃতিই গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

 

 

 

কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের বিষয়ে তিনি জানান, বর্তমানে সিলেটে দুটি বিসিক শিল্পনগরীর সম্মিলিত আয়তন প্রায় ৩০ একর। চলতি বছরই প্রায় ১৮৭ একর জমিতে নতুন একটি বিসিক শিল্পনগরীর নির্মাণকাজ শুরু হবে। এটি বর্তমান দুটি শিল্পনগরীর তুলনায় প্রায় ছয় গুণ বড় হবে এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের বিকাশের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।

 

 

 

 

যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়নের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, আগামী বছরের মধ্যে সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীত করার কাজ শেষ হবে। একই সময়ে সিলেট-চট্টগ্রাম সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পও সম্পন্ন হবে। এছাড়া আখাউড়া-সিলেট রেলপথের কাজ শেষ হওয়ার পর সিলেট-চট্টগ্রাম রেললাইন উন্নয়নের কাজও দ্রুত শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে পণ্যবাহী ও কনটেইনারবাহী ট্রেন মাত্র চার থেকে পাঁচ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাতে পারবে।

 

 

 

 

জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ছাত্র-জনতা, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিত অংশগ্রহণে আন্দোলনটি গণআন্দোলনে রূপ নেয় এবং এর মধ্য দিয়ে একটি নতুন সামাজিক শক্তির উত্থান ঘটে। প্রায় পাঁচ দশক পর দেশের মানুষ আবারও গণতান্ত্রিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, যা বিশ্বে বিরল ঘটনা।

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, জুলাই আন্দোলনের মাধ্যমে গড়ে ওঠা তরুণদের সামাজিক শক্তিকে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে ব্যবহার করা যাবে না। দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে এই তারুণ্যশক্তিকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হবে।

 

 

 

 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা সঞ্চালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল বাছিত মোল্লা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবণ্য ইসলাম ঋতু।

 

 

 

 

সভায় আরও বক্তব্য দেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য এম আব্দুল মালিক, সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট জেলা পরিষদের প্রশাসক আবুল কাহের চৌধুরী শামীম এবং বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান। অনুষ্ঠানে সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জনসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধারা উপস্থিত ছিলেন।