নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম
বয়স্কভাতা, গর্ভবতী ভাতা, ভিজিডি কার্ড ও টিসিবি কার্ড দেওয়ার কথা বলে অর্ধ শতাধিক দুঃস্থ পরিবারের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বাগবাটি ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে।
রোববার (২৬ অক্টোবর) বিকেলে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। আব্দুল মান্নান ২০২১ সালে বাগবাটি ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের সদস্য নির্বাচিত হন।
ভুক্তভোগীরা জানান , আব্দুল মান্নান ইউপি সদস্য নির্বাচিত হওয়ার হতদরিদ্র মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভিজিডি, বয়স্কভাতা, গর্ভবতী ভাতা ও টিসিবি কার্ড দেওয়ার কথা বলে ১ থেকে ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নিয়েছেন।
৩নং ওয়ার্ডের কানগাতী গ্রামের ৫০/৬০ জনের কাছ থেকে টাকা নিয়েও কোন কার্ড করে দেননি। সেই টাকা ফেরত চাইলে তিনি নানা বাহানা করে যাচ্ছেন।
কানগাতী গ্রামের আব্দুল কাদের এর স্ত্রী মোছা. ফাহিমা খাতুনছ (৩৬) বলেন – মান্নান মেম্বার আমাকে বলে ভিজিডি বয়স্ক গর্ভবতি ও টিসিবি কার্ড আসছে। তোমার লোকজন থাকলে কার্ড প্রতি ৫০০০/ টাকা নিয়ে দিলে কার্ড করে দিবো। আমি মেম্বারের কথামত ৬ জনের নিকট থেকে ৩০০০০/ হাজার টাকা দিয়েছি। আমাদের কার্ড না দিয়ে প্রায় ৩ বছর হলো ঘুরাচ্ছে।
একই গ্রামের লুৎফর সেখের স্ত্রী আম্বিয়া খাতুন বলেন -আমের নিকট হতে টিসিবি কার্ড দেবার কথা ১ হাজার টাকা নেয়। আকবর আলীর স্ত্রী আনুফাকে ভিজিডি কার্ড দেবার কথা বলে ২ হাজার টাকা হাতিয়ে নিলেও কার্ডের কোন হদিস নাই।
ওয়াহেদ আলী জানান, বয়স্কভাতা কার্ড দেওয়ার কথা বলে ওয়াহেদ আলীর কাছে ২ হাজার ২০০, আবুল কাসেমের কাছে ৫ হাজার, মজিরন বেগমের কাছে ৩৮শ টাকা নিয়েছেন ইউপি সদস্য মান্নান। তারা বলেন, টাকা দিয়েছি কিন্তু দীর্ঘ চার বছর পার হলেও আমাকে ভাতা কার্ড দেননাই।
কানগাতী আশ্রায়ণ প্রকল্পে ঘর দেবার কথা আমিনুল ইসলামের কাছে ৫ হাজার, টাকা নিলেও ঘর দিতে পারে না্ভােই। বে অর্ধ শতাধিক হতদরিদ্র অসহায় নারী পুরুষের নিকট থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
আব্দুল মান্নান মেম্বার এর অনিয়ম দুর্নীতির বিরুদ্ধে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কানগাতী গ্রামের ভুক্তভোগী ২৭ জন পরিবার। এ ছাড়াও ভুক্তভোগী আরো ২৫/৩০ জন অভিযোগ দিতে ইউএনও’র নিকট আসতে চাইলে তাদের বাধা দেবার কারনে আসতে পারে নাই বলে অভিযোগ করেন এলাকাবাসি।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোয়ার হোসেন বলেন, অভিযোগের তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রিপোর্টার: 




















