সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টিআর প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন, তিন মাসেও শুরু হয়নি কাজ

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) নগদ অর্থ কর্মসূচির আওতায় ৩৫টি প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিন মাসেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত ৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৩০টির কাজ এখনো শুরু হয়নি। কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় সামান্য কাজ হলেও অধিকাংশ স্থানে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হিসাবে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

সরেজমিন পৌরসভার কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণ, মাটি ভরাট ও সংস্কারের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই আগের অবস্থায় রয়েছে। একটি প্রকল্পের সভাপতি অর্ধেক টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

পূর্ব চণ্ডিপুর গুদারাঘাট মসজিদ থেকে খাতুনপুর পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাট প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশ শুকনো। তবে কয়েকটি সাঁকো রয়েছে, যেগুলো দিয়ে গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।

স্থানীয় আবুল খয়ের বলেন, ‘আমরা শুনেছি এমপি সাহেব এখানে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যারা কাজ পেয়েছেন তারা অর্ধেক টাকা তুলে এনেছেন; কিন্তু এখনো কাজ করছেন না। গ্রামের বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাঁকো পারাপার অনেক কঠিন। আমরা ভেবেছিলাম রাস্তার কাজ হলে আমাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন থাকায় কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।

 

 

 

 

চণ্ডিপুর টিপু মিয়ার বাড়ি থেকে হাফিজ উল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্ধেক টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে টাকা পাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরও কাজ শুরু না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহিতা দিতে বাধ্য নন বলে মন্তব্য করেন। কবে কাজ শেষ করবেন- এমন প্রশ্নেরও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

 

 

 

 

দোওজ পাকা রাস্তা থেকে জসিম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত রাস্তার সুবিধা মূলত একটি পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার পথেই সীমাবদ্ধ। এ কারণে সরকারি অর্থে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

 

 

 

দিরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘এটা গ্রামের মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। একজন মানুষের বাড়ির রাস্তা সরকারের টাকায় করতে হবে কেন? এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে ২০-৩০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। বাকি কাজ হবে কি না, কেউ বলতে পারছে না।’

 

 

 

 

পৌরসভার সাতটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্ত ৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৩০টির কাজ এখনো শুরু হয়নি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কাজ শুরু না হলে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় নাও হতে পারে।

 

 

 

 

দিরাই পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এমপির মাধ্যমে আসা প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ হয়নি। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে আমরা প্রকল্পের তালিকা সংগ্রহ করি। ইউএনও আমাদের জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জনগণের টাকার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।’

 

 

 

 

দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘বরাদ্দের অর্থের বিপরীতে কাজ অবশ্যই হতে হবে। আমরা আশা করি, প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

 

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার বলেন, ‘এমপি প্রকল্পের তালিকা ও কমিটি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টিআর কাজের শুরুতে অর্ধেক টাকা পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু সংশোধনী এমপি দেবেন, এরপর কাজ হবে।’

One thought on “টিআর প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন, তিন মাসেও শুরু হয়নি কাজ

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

টিআর প্রকল্পের অর্ধেক টাকা উত্তোলন, তিন মাসেও শুরু হয়নি কাজ

আপডেট টাইম : ০৪:৩৮:২৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সুনামগঞ্জের দিরাই পৌরসভায় গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ (টিআর) নগদ অর্থ কর্মসূচির আওতায় ৩৫টি প্রকল্পে প্রায় ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও তিন মাসেও অধিকাংশ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়নি। এরই মধ্যে প্রকল্পগুলোর বিপরীতে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

 

 

 

 

স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, তালিকাভুক্ত ৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৩০টির কাজ এখনো শুরু হয়নি। কয়েকটি প্রকল্প এলাকায় সামান্য কাজ হলেও অধিকাংশ স্থানে কাজের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অথচ প্রকল্পের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের হিসাবে বরাদ্দের অর্ধেক টাকা দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

সরেজমিন পৌরসভার কয়েকটি প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখা যায়, রাস্তা নির্মাণ, মাটি ভরাট ও সংস্কারের নামে বরাদ্দ দেওয়া প্রকল্পগুলোর বেশিরভাগই আগের অবস্থায় রয়েছে। একটি প্রকল্পের সভাপতি অর্ধেক টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও কাজ শুরুর নির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি।

আরও পড়ুন: স্বামী-শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে নারীর সংবাদ সম্মেলন

পূর্ব চণ্ডিপুর গুদারাঘাট মসজিদ থেকে খাতুনপুর পর্যন্ত রাস্তা মাটি ভরাট প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাটির বেশিরভাগ অংশ শুকনো। তবে কয়েকটি সাঁকো রয়েছে, যেগুলো দিয়ে গ্রামের মানুষ চলাচল করছেন।

স্থানীয় আবুল খয়ের বলেন, ‘আমরা শুনেছি এমপি সাহেব এখানে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যারা কাজ পেয়েছেন তারা অর্ধেক টাকা তুলে এনেছেন; কিন্তু এখনো কাজ করছেন না। গ্রামের বৃদ্ধ ও শিক্ষার্থীদের জন্য সাঁকো পারাপার অনেক কঠিন। আমরা ভেবেছিলাম রাস্তার কাজ হলে আমাদের দুর্ভোগ কিছুটা কমবে।’

তিনি অভিযোগ করেন, প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের লোকজন থাকায় কাজটি বিলম্বিত হচ্ছে।

 

 

 

 

চণ্ডিপুর টিপু মিয়ার বাড়ি থেকে হাফিজ উল্লাহর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। প্রকল্প কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অর্ধেক টাকা পাওয়ার কথা স্বীকার করেন। তবে টাকা পাওয়ার প্রায় আড়াই মাস পরও কাজ শুরু না করার কারণ জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের কাছে জবাবদিহিতা দিতে বাধ্য নন বলে মন্তব্য করেন। কবে কাজ শেষ করবেন- এমন প্রশ্নেরও তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানাননি।

 

 

 

 

দোওজ পাকা রাস্তা থেকে জসিম মিয়ার বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা সিসিকরণ ও মাটি ভরাট প্রকল্পে তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রস্তাবিত রাস্তার সুবিধা মূলত একটি পরিবারের বাড়িতে যাওয়ার পথেই সীমাবদ্ধ। এ কারণে সরকারি অর্থে এ ধরনের প্রকল্প গ্রহণের যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।

 

 

 

 

দিরাই পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বলেন, ‘এটা গ্রামের মানুষের কোনো উপকারে আসবে না। একজন মানুষের বাড়ির রাস্তা সরকারের টাকায় করতে হবে কেন? এরই মধ্যে দেড় লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। সেখানে ২০-৩০ হাজার টাকার কাজ হয়েছে। বাকি কাজ হবে কি না, কেউ বলতে পারছে না।’

 

 

 

 

পৌরসভার সাতটি প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের পর স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপি নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, তালিকাভুক্ত ৩৫টি প্রকল্পের মধ্যে প্রায় ৩০টির কাজ এখনো শুরু হয়নি। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত কাজ শুরু না হলে বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে ব্যয় নাও হতে পারে।

 

 

 

 

দিরাই পৌরসভা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এমপির মাধ্যমে আসা প্রকল্পগুলোর অনেক কাজ হয়নি। পরে তথ্য অধিকার আইনে আবেদন করে আমরা প্রকল্পের তালিকা সংগ্রহ করি। ইউএনও আমাদের জানিয়েছেন, প্রকল্পগুলোর অর্ধেক টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। জনগণের টাকার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে।’

 

 

 

 

দিরাই উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মইন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক বলেন, ‘বরাদ্দের অর্থের বিপরীতে কাজ অবশ্যই হতে হবে। আমরা আশা করি, প্রকল্পগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হবে।’

 

 

 

দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজিব সরকার বলেন, ‘এমপি প্রকল্পের তালিকা ও কমিটি দিয়েছেন। সে অনুযায়ী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। টিআর কাজের শুরুতে অর্ধেক টাকা পরিশোধের বিধান রয়েছে। কিছু সংশোধনী এমপি দেবেন, এরপর কাজ হবে।’