সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

৬ গোলের হার দিয়ে এশিয়ান গেমস শুরু বাংলাদেশের

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল হারের বৃত্তেই আটকে গেছে। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল ১০ গোলে। আজ (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৬-০। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেছে আফিদা খন্দকারের দল।

 

 

 

 

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বিভীষিকাময়। ১৯ সেপ্টেম্বর গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছিল। প্রথমার্ধেই ৭ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে খেলেছে বাংলাদেশ।

 

 

 

 

দক্ষিণ কোরিয়াও নারী ফুটবলে এশিয়া তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলেরই পরাশক্তি। সেই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষে ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল। গত ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো আক্রমণই করতে পারেনি। আজ অবশ্য প্রথমার্ধে শট অন টার্গেট ও আক্রমণের চেষ্টা ছিল লক্ষ্যণীয়।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বরাবরই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্ম দেন। উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাটলার ঋতুপর্ণা, তহুরা, মনিকার মতো ফুটবলারদের একাদশে রাখেননি। সেই খেসারত দিতে হয়েছে প্রথমার্ধে সাত গোল হজম করে। আজ সেই ভুল না করে সব সিনিয়র ফুটবলার দিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্মত ফুটবলই খেলেছে।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে গোল পায় দক্ষিণ কোরিয়া। বক্সে জটলার মধ্যে কিম মিং জি লাফিয়ে হেড করেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা লাফালেও বল পাননি। পাশাপাশি গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা চেষ্টা করেও বল থামাতে পারেননি।

ঋতুপর্ণা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও তিনি তার দক্ষতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটেছেন কিছু সময়। মিডফিল্ড কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ লড়াই করেছে। একাদশে ফিরে কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাও।

 

 

 

 

৪২ মিনিটে বাংলাদেশ আরেক দফা পিছিয়ে পড়ে। ডিফেন্ডারদের মাঝ থেকে থ্রু বল ঠেলে দেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলদাতা কোরিয়ান ফুটবলারের পজিশন খানিকটা অফসাইডে মনে হলেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা কোনো আপিল করেননি। ফলে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ঋতুপর্ণারা।

 

 

 

বিরতির পর প্রথমার্ধের বাংলাদেশকে পাওয়া যায়নি। এই অর্ধে বাংলাদেশ চার গোল হজম করে। ৬৫ মিনিটে কোরিয়ার গোল উৎসব শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে আরও চার গোল আদায় করে কোরিয়া। ইনজুরি সময়ে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-০। বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী বক্স থেকে কোনাকুনি শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়।

 

 

 

 

ঋতুপর্ণারা গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। গত বছর মিয়ানমারকে হারিয়েই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলেছিল। এশিয়া কাপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করলেও এবার গেমসে দুই কোরিয়ার বিপক্ষে ১৬ গোল হজম করে হারায় বড় প্রশ্ন উঠেছে বাটলারের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে।

One thought on “৬ গোলের হার দিয়ে এশিয়ান গেমস শুরু বাংলাদেশের

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

৬ গোলের হার দিয়ে এশিয়ান গেমস শুরু বাংলাদেশের

আপডেট টাইম : ০৫:৫৫:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল হারের বৃত্তেই আটকে গেছে। প্রথম ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে হেরেছিল ১০ গোলে। আজ (বৃহস্পতিবার) দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে সেই ব্যবধান কমে দাঁড়িয়েছে ৬-০। দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করেছে আফিদা খন্দকারের দল।

 

 

 

 

এবারের এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের শুরুটা ছিল বিভীষিকাময়। ১৯ সেপ্টেম্বর গেমসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলেও ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ১০-০ গোলে হেরেছিল। প্রথমার্ধেই ৭ গোলে পিছিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আজ গ্রুপের দ্বিতীয় ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে খেলেছে বাংলাদেশ।

 

 

 

 

দক্ষিণ কোরিয়াও নারী ফুটবলে এশিয়া তো বটেই, বিশ্ব ফুটবলেরই পরাশক্তি। সেই দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথমার্ধ শেষে ০-২ গোলে পিছিয়ে ছিল। গত ম্যাচে বাংলাদেশ কোনো আক্রমণই করতে পারেনি। আজ অবশ্য প্রথমার্ধে শট অন টার্গেট ও আক্রমণের চেষ্টা ছিল লক্ষ্যণীয়।

বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বরাবরই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জন্ম দেন। উত্তর কোরিয়ার মতো প্রতিপক্ষের সঙ্গে বাটলার ঋতুপর্ণা, তহুরা, মনিকার মতো ফুটবলারদের একাদশে রাখেননি। সেই খেসারত দিতে হয়েছে প্রথমার্ধে সাত গোল হজম করে। আজ সেই ভুল না করে সব সিনিয়র ফুটবলার দিয়ে একাদশ সাজিয়েছেন। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ নিয়ন্ত্রিত ও মানসম্মত ফুটবলই খেলেছে।

ম্যাচের ১৭ মিনিটে কর্নার থেকে গোল পায় দক্ষিণ কোরিয়া। বক্সে জটলার মধ্যে কিম মিং জি লাফিয়ে হেড করেন। বাংলাদেশের ডিফেন্ডাররা লাফালেও বল পাননি। পাশাপাশি গোলরক্ষক রুপ্না চাকমা চেষ্টা করেও বল থামাতে পারেননি।

ঋতুপর্ণা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সেরা ফুটবলার। দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষেও তিনি তার দক্ষতা প্রদর্শনের চেষ্টা করেছেন। বল নিয়ে দুরন্ত গতিতে ছুটেছেন কিছু সময়। মিডফিল্ড কোরিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বাংলাদেশ লড়াই করেছে। একাদশে ফিরে কয়েকটি দুর্দান্ত সেভ করেছেন গোলরক্ষক রুপ্না চাকমাও।

 

 

 

 

৪২ মিনিটে বাংলাদেশ আরেক দফা পিছিয়ে পড়ে। ডিফেন্ডারদের মাঝ থেকে থ্রু বল ঠেলে দেন কোরিয়ান ফরোয়ার্ড। গোলদাতা কোরিয়ান ফুটবলারের পজিশন খানিকটা অফসাইডে মনে হলেও বাংলাদেশের ফুটবলাররা কোনো আপিল করেননি। ফলে দুই গোলে পিছিয়ে থেকে ড্রেসিংরুমে ফেরেন ঋতুপর্ণারা।

 

 

 

বিরতির পর প্রথমার্ধের বাংলাদেশকে পাওয়া যায়নি। এই অর্ধে বাংলাদেশ চার গোল হজম করে। ৬৫ মিনিটে কোরিয়ার গোল উৎসব শুরু হয়। নিয়মিত বিরতিতে আরও চার গোল আদায় করে কোরিয়া। ইনজুরি সময়ে বাংলাদেশের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬-০। বাংলাদেশ দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোলের সুযোগ পেয়েছিল। সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী বক্স থেকে কোনাকুনি শট পোস্টের উপর দিয়ে যায়।

 

 

 

 

ঋতুপর্ণারা গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে ২১ সেপ্টেম্বর মিয়ানমারের বিপক্ষে। গত বছর মিয়ানমারকে হারিয়েই বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো এশিয়া কাপে খেলেছিল। এশিয়া কাপে চীন ও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াই করলেও এবার গেমসে দুই কোরিয়ার বিপক্ষে ১৬ গোল হজম করে হারায় বড় প্রশ্ন উঠেছে বাটলারের কৌশল ও পরিকল্পনা নিয়ে।