রাশিয়া থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন শুল্ক ও নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে ভারত। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করেছে নয়াদিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রুশ তেল কেনাকে কেন্দ্র করে নতুন মার্কিন পদক্ষেপ দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।
আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদ রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে একটি বিস্তৃত নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক বিল পাস করেছে। বিলটিতে রাশিয়ার জ্বালানি ও প্রতিরক্ষা খাত, প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে নতুন ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে রুশ তেল পরিবহনে ব্যবহৃত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামে পরিচিত ট্যাংকারগুলোকেও লক্ষ্য করা হয়েছে।
বিলটি আইনে পরিণত হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের ওপর নির্ভরশীল দেশগুলোর পণ্যে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারবেন। রাশিয়ার তেল কেনা দেশগুলো এই শুল্কের আওতায় পড়তে পারে। এখন বিলটি ট্রাম্পের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় রয়েছে।

এদিকে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, দেশের ১৪০ কোটি মানুষের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন মার্কিন আইন নিয়ে গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে বিষয়টি তুলে ধরেছে নয়াদিল্লি। একই সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে এর সম্ভাব্য প্রভাবের বিষয়টিও স্পষ্ট করা হয়েছে।
ভারত আরও জানিয়েছে, নিজেদের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক ভারত মূলত রাশিয়ার অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযান শুরুর পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে তুলনামূলক কম দামে রুশ তেল কিনছে ভারত। তবে নয়াদিল্লির দাবি, বিপুল জনসংখ্যা ও বড় অর্থনীতির জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ জরুরি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 


















