সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেলক্রসিং এলাকায় আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৩) নামে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং বিকেলে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে কাঞ্চন মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন নরসিংদীর শিবপুরের দুলালপুর ইউনিয়নের দরগাবন্ধ গ্রামের মো. আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি নরসিংদী শহরের শাপলা চত্বর এলাকার একটি ভাড়াবাসায় থেকে থার্মেক্স গ্রুপের একটি কারখানায় চাকরি করতেন। আর কাঞ্চন মিয়া রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি হাসনাবাদ গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

রেলওয়ে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, সকালে কারখানার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল পৌনে ৮টার দিকে বাসাইল রেলগেটসংলগ্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। আর পাশের রেললাইনে বিপরীত দিক থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিলেটের দিকে ছুটছিল। ওই সময় ঢাকাগামী রেললাইনে দাঁড়িয়ে পারাবত এক্সপ্রেস অতিক্রম করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি মামুনের নিকটবর্তী চলে আসায় ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বারবার তাকে সরে যেতে ডাকছিলেন। কিন্তু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কোনো সাড়া দেয়নি, এমনকি ট্রেনের হুইসেলের শব্দও তিনি বুঝতে পারেননি। পরে ওই ট্রেনে কাটা পড়ে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার করেন।

বাসাইল রেলগেটের গেটম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, নরসিংদী কমিউটার ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি একই সময়ে রেলগেট অতিক্রম করছিল। এতে তিনি হতভম্ভ হয়ে পড়েন। ট্রেন আসছে, ট্রেন আসছে- বলে অনেক ডাকাডাকি করলেও শুনতে পাননি। এরপরই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তিনি।

এদিকে নিহত কাঞ্চন মিয়া আমিরগঞ্জ রেলওয়ে এলাকার দোকানগুলোতে পানি সরবরাহ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বিকেলেও তিনি পানি নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি মালবাহী ট্রেন আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পার হচ্ছিল। এ সময় কাঞ্চন মিয়া পানি নিয়ে রেললাইন পর হতে গিয়ে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলোর কোনো অভিযোগ নেই মর্মে তাদের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।

89
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ট্রেনে কাটা পড়ে দুজনের মৃত্যু

আপডেট টাইম : ০৬:৪৩:২১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২৬ নভেম্বর) সকালে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেলক্রসিং এলাকায় আবদুল্লাহ আল মামুন (৪৩) নামে এক শ্রবণ প্রতিবন্ধী এবং বিকেলে রায়পুরা উপজেলার আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশনে কাঞ্চন মিয়া (৭০) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আবদুল্লাহ আল মামুন নরসিংদীর শিবপুরের দুলালপুর ইউনিয়নের দরগাবন্ধ গ্রামের মো. আবুল কাসেমের ছেলে। তিনি নরসিংদী শহরের শাপলা চত্বর এলাকার একটি ভাড়াবাসায় থেকে থার্মেক্স গ্রুপের একটি কারখানায় চাকরি করতেন। আর কাঞ্চন মিয়া রায়পুরা উপজেলার আদিয়াবাদ গ্রামের মৃত মানিক মিয়ার ছেলে। তিনি হাসনাবাদ গ্রামে পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।

রেলওয়ে পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, সকালে কারখানার উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন তিনি। সকাল পৌনে ৮টার দিকে বাসাইল রেলগেটসংলগ্ন স্থানে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় ভৈরব থেকে ছেড়ে আসা নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। আর পাশের রেললাইনে বিপরীত দিক থেকে পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেনটি সিলেটের দিকে ছুটছিল। ওই সময় ঢাকাগামী রেললাইনে দাঁড়িয়ে পারাবত এক্সপ্রেস অতিক্রম করার জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি।

একপর্যায়ে নরসিংদী কমিউটার ট্রেনটি মামুনের নিকটবর্তী চলে আসায় ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিরা বারবার তাকে সরে যেতে ডাকছিলেন। কিন্তু শ্রবণ প্রতিবন্ধী হওয়ায় তিনি কোনো সাড়া দেয়নি, এমনকি ট্রেনের হুইসেলের শব্দও তিনি বুঝতে পারেননি। পরে ওই ট্রেনে কাটা পড়ে তার শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক জহুরুল ইসলাম ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার করেন।

বাসাইল রেলগেটের গেটম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, নরসিংদী কমিউটার ও পারাবত এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি একই সময়ে রেলগেট অতিক্রম করছিল। এতে তিনি হতভম্ভ হয়ে পড়েন। ট্রেন আসছে, ট্রেন আসছে- বলে অনেক ডাকাডাকি করলেও শুনতে পাননি। এরপরই ট্রেনে কাটা পড়ে মারা যান তিনি।

এদিকে নিহত কাঞ্চন মিয়া আমিরগঞ্জ রেলওয়ে এলাকার দোকানগুলোতে পানি সরবরাহ করেন। প্রতিদিনের ন্যায় বিকেলেও তিনি পানি নিয়ে যাচ্ছিলেন। একই সময় ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি মালবাহী ট্রেন আমিরগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন পার হচ্ছিল। এ সময় কাঞ্চন মিয়া পানি নিয়ে রেললাইন পর হতে গিয়ে মালবাহী ট্রেনের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দূরে গিয়ে ছিটকে পড়েন। এতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে রেলওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে পৃথক স্থানে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিবারগুলোর কোনো অভিযোগ নেই মর্মে তাদের স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে লাশ বিনা ময়নাতদন্তে হস্তান্তর করা হয়েছে।