সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ১

​জয়পুরহাটের কালাইয়ে চোরাই ইজিবাইক ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হাত-পা ও অণ্ডকোষ বেঁধে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে কালাই উপজেলার ১ নং মাত্রাই ইউনিয়নের মশপুকুর ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাত ২টা ৩৮ মিনিটে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হান্নান (৫০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিহতের ছেলে মো. আজাদুল ইসলাম (২৪) বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
​মামলার আসামিরা হলেন— মো. আজিজুল ইসলাম (৩০), মো. তহিদুল ইসলাম (৪০), মো. বাবুল (২৮), মো. বাবুল (৩৫), মো. মুসা (৪০) এবং মো. নাহিদ ইসলাম (২৮)।
পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. তহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
​মামলার এজাহারে নিহতের ছেলে দাবি করেন, তার চাচা বাক্কুল সরকারের কাছে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ৫০ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক বিক্রি করেন আসামি বাবুল ও আজিজুল। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি চোরাই জানতে পেরে বাক্কুল টাকা ফেরত চান। তবে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ডিবির ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকসহ বাক্কুলকে আটক করানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় আসামিরা আব্দুল হান্নানকে দেখে নেওয়ার ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
​এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার রাতে মাত্রাই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মশপুকুর ব্রিজ এলাকায় হান্নানের পথরোধ করে আসামিরা। তাকে শাইলগুন গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে পরিহিত লুঙ্গি ও জুতার ফিতা দিয়ে হাত, পা ও অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং মাথার চুল কেটে জোরপূর্বক বিষজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ফেলে রাখা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
​পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর ১ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

One thought on “ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ১

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

ডেকে নিয়ে নির্যাতনের পর হত্যার অভিযোগ, গ্রেফতার ১

আপডেট টাইম : ০৬:০৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
​জয়পুরহাটের কালাইয়ে চোরাই ইজিবাইক ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এক ব্যক্তিকে অপহরণের পর হাত-পা ও অণ্ডকোষ বেঁধে নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে কালাই উপজেলার ১ নং মাত্রাই ইউনিয়নের মশপুকুর ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে অপহরণ করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পরবর্তীতে রাত ২টা ৩৮ মিনিটে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​নিহত ব্যক্তির নাম আব্দুল হান্নান (৫০)। এ ঘটনায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিহতের ছেলে মো. আজাদুল ইসলাম (২৪) বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে কালাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
​মামলার আসামিরা হলেন— মো. আজিজুল ইসলাম (৩০), মো. তহিদুল ইসলাম (৪০), মো. বাবুল (২৮), মো. বাবুল (৩৫), মো. মুসা (৪০) এবং মো. নাহিদ ইসলাম (২৮)।
পুলিশ ইতোমধ্যে এজাহারভুক্ত ২ নম্বর আসামি মো. তহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।
​মামলার এজাহারে নিহতের ছেলে দাবি করেন, তার চাচা বাক্কুল সরকারের কাছে প্রায় সপ্তাহখানেক আগে ৫০ হাজার টাকায় একটি ইজিবাইক বিক্রি করেন আসামি বাবুল ও আজিজুল। পরবর্তীতে ইজিবাইকটি চোরাই জানতে পেরে বাক্কুল টাকা ফেরত চান। তবে টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো ডিবির ভীতি দেখিয়ে ইজিবাইকসহ বাক্কুলকে আটক করানো হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ নিয়ে প্রতিবাদ করায় আসামিরা আব্দুল হান্নানকে দেখে নেওয়ার ও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়।
​এজাহারের বিবরণ অনুযায়ী, রোববার রাতে মাত্রাই বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে মশপুকুর ব্রিজ এলাকায় হান্নানের পথরোধ করে আসামিরা। তাকে শাইলগুন গ্রামের একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে পরিহিত লুঙ্গি ও জুতার ফিতা দিয়ে হাত, পা ও অণ্ডকোষ পেঁচিয়ে নির্যাতন চালানো হয় এবং মাথার চুল কেটে জোরপূর্বক বিষজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে ফেলে রাখা হয় বলে স্বজনদের অভিযোগ।
​পরে খবর পেয়ে স্বজনরা তাকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
​কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জয়পুরহাট ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এজাহারের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর ১ জন আসামিকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।