রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি :
আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিপিপি অনুমোদনের বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া না পেলে ঢাকার সাথে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (৭ আগষ্ট) দুপুরে সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল গোলচত্বর এলাকায় রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশের ডিপিপি অনুমোদন ও পূর্ণ বাস্তবায়নের দাবীতে মানববন্ধন কর্মসূচিতে বক্তারা এমন হুশিয়ারি দেন।
বক্তারা বলেন, আট বছর ধরে ভাড়া করা ভবনে নানা দুর্ভোগের মধ্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের। সাত দফায় ডিপিপি সংশোধন করে ৯ হাজার ২৩৪ কোটি টাকার প্রকল্প প্রায় ৯৩ দশমিক ৫০ শতাংশ ব্যয় কমিয়ে ৫৯৯ কোটি ৫০ লাখ টাকায় নামিয়ে আনার পরও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রকল্পটি একনেক সভার এজেন্ডায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। বিশ্বকবির নামে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতি অবিচার করা হয়েছে। আমরা বারবার আন্দোলন করার পরও শুধু আশ্বস্তই করা হয়েছে।
এসময় শিক্ষার্থীরা সরকারকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়ে বলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ক্যাম্পাসের ডিপিপি অনুমোদনে যদি আশ্বস্ত করা না হয় তাহলে রোববার থেকে ঢাকা মহাসড়ক এবং উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করতে বাধ্য হবো।
মানবনন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী মিজানুর রহমান মিলন, হৃদয় সরকার, জাকারিয়া, সমুদ্র, মেরাজ, হাসানসহ বক্তব্য রাখেন।
এর আগে সকাল থেকে রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা আধবেলা প্রশাসনিক কর্মবিরতি দিয়ে ঢাকা-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দুপুর ১২টায় তারা হাটিকুমরুল হাইওয়ের গোলচত্বরে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করে শিক্ষার্থীরা।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠার নয় বছরেও রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করা হয়নি। ৭ দফায় ডিপিপি সংশোধন করে ৯৩ শতাংশ কমিয়ে এনে মাত্র ৫১৯ কোটি টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত সেটির অনুমোদন না হওয়ায় বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তারা দীর্ঘদিন ধরে সরকারের কাছে তাদের দাবি, হতাশা ও ক্ষোভের কথা জানিয়ে আসছেন। দাবী বাস্তবায়নে পদক্ষেপ না নেওয়ায় গত ২৬ জুলাই থেকে আবারও আন্দোলন শুরু হয়েছে। সড়ক অবরোধ, মানববন্ধন, সাংস্কুতিক প্রতিবাদ ও গণসং যোগসহ নানা কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তাদের এই কর্মসূচির সাথে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্যরা একাত্বতা প্রকাশ করেছেন।

রিপোর্টার: 






















