সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

উল্লাপাড়ায় বিএনপি নেতার চালের আড়ত লুটপাটের অভিযোগ

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আব্দুল লতিফ নামে এক বিএনপি নেতার চালের আড়তে হামলা ও ভাংচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে।

 

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজারে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় আড়ত ভাংচুরের পাশাপাশি লুটপাটও করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। আব্দুল লতিফ উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

 

আব্দুল লতিফ অভিযোগ করে বলেন, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার ভোররাতে আমার চালের আড়তে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে জামায়াতের লোকজন। ভাংচুরের শব্দ শুনে এগিয়ে এলে দূবৃত্তরা হত্যার হুমকি দেয়। আমি ভীত হয়ে যাই। এরপর তারা ১ হাজার বস্তা চাল, নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, টেলিভিশন, খাতাপত্র, চেয়ার-টেবিল এবং দুটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। মামলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম বলেন, রাতে নির্বাচনের ফলাফলে সকল জায়গায় জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান সাহেবের জয়ের কথা শোনা যায়। তিনি আমাদের বলেন প্রত্যেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শীট নিয়ে উপজেলায় চলে আসেন। আমরা সবাই উপজেলায় চলে যাই। এরপর হঠাৎ করে বিএনপির প্রার্থী আকবর সাহেবের বিজয়ের খবর আসে। এটা শোনার সাথে সাথে বিএনপির লোকজন প্রতি গ্রাম থেকে মিছিল বের করে। তারা আমার অফিসে গিয়ে খান সাহেবের যত ব্যানার-ফেস্টুন ছিল সেগুলো পোড়া দেয়। জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঢিল, নাচানাচি আর গালিগালাজ পারতে শুরু করে। পুরো গজাইল গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করে।

 

রাত ২টার দিকে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গুণে জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোররাতে আমরা বাড়িতে চলে আসি। সকালবেলা দেখি ওদের ঘর ভাঙা। এখন আমাদের বিরুদ্ধে কমপ্লিন দিচ্ছে। আসলে ওরা যেসব অপকর্ম করেছিল সেটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য এই অভিযোগ দিচ্ছে। ওই আড়তে হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত নই।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম বলেন, আড়ত ভাংচুরের খবর পেয়ে আমাদের সার্কেল এসপি স্যারসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

উল্লাপাড়ায় বিএনপি নেতার চালের আড়ত লুটপাটের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৮:১৬:৪১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতার ঘটনায় সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় আব্দুল লতিফ নামে এক বিএনপি নেতার চালের আড়তে হামলা ও ভাংচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জামায়াত কর্মীদের বিরুদ্ধে।

 

শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের গজাইল বাজারে এই হামলা চালানো হয়। এ সময় আড়ত ভাংচুরের পাশাপাশি লুটপাটও করা হয়েছে বলে ভুক্তভোগী জানিয়েছেন। আব্দুল লতিফ উধুনিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।

 

আব্দুল লতিফ অভিযোগ করে বলেন, সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার ভোররাতে আমার চালের আড়তে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে জামায়াতের লোকজন। ভাংচুরের শব্দ শুনে এগিয়ে এলে দূবৃত্তরা হত্যার হুমকি দেয়। আমি ভীত হয়ে যাই। এরপর তারা ১ হাজার বস্তা চাল, নগদ সাড়ে ৩ লাখ টাকা, টেলিভিশন, খাতাপত্র, চেয়ার-টেবিল এবং দুটি মোটরসাইকেল লুট করে নিয়ে যায়। এতে প্রায় ৭০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনায় আমি সর্বশান্ত হয়ে পড়েছি। আইন-শৃংখলা বাহিনীকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। মামলার জন্য প্রস্তুতি চলছে। তিনি দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

 

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল আলীম বলেন, রাতে নির্বাচনের ফলাফলে সকল জায়গায় জামায়াতের প্রার্থী রফিকুল ইসলাম খান সাহেবের জয়ের কথা শোনা যায়। তিনি আমাদের বলেন প্রত্যেক কেন্দ্রের রেজাল্ট শীট নিয়ে উপজেলায় চলে আসেন। আমরা সবাই উপজেলায় চলে যাই। এরপর হঠাৎ করে বিএনপির প্রার্থী আকবর সাহেবের বিজয়ের খবর আসে। এটা শোনার সাথে সাথে বিএনপির লোকজন প্রতি গ্রাম থেকে মিছিল বের করে। তারা আমার অফিসে গিয়ে খান সাহেবের যত ব্যানার-ফেস্টুন ছিল সেগুলো পোড়া দেয়। জামায়াত সমর্থকদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঢিল, নাচানাচি আর গালিগালাজ পারতে শুরু করে। পুরো গজাইল গ্রামে ত্রাস সৃষ্টি করে।

 

রাত ২টার দিকে পোস্টাল ব্যালটের ভোট গুণে জামায়াত প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। ভোররাতে আমরা বাড়িতে চলে আসি। সকালবেলা দেখি ওদের ঘর ভাঙা। এখন আমাদের বিরুদ্ধে কমপ্লিন দিচ্ছে। আসলে ওরা যেসব অপকর্ম করেছিল সেটা শাক দিয়ে মাছ ঢাকার জন্য এই অভিযোগ দিচ্ছে। ওই আড়তে হামলার সঙ্গে আমরা জড়িত নই।

 

শুক্রবার সন্ধ্যায় উল্লাপাড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাকিউল আযম বলেন, আড়ত ভাংচুরের খবর পেয়ে আমাদের সার্কেল এসপি স্যারসহ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এ ঘটনায় এখনো লিখিত কোন অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।