সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

তাড়াশে ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি জায়গায় অবস্থিত প্রায় ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম্য প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

 

 

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মো. জিয়াউল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। ঈদগাহ মাঠের জায়গা দখলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ঝামেলা থাকার পর জালেমদের হাত থেকে বাপের জায়গা উদ্ধার করলাম।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেওড়া গ্রামের পাকা সড়কসংলগ্ন প্রায় সাত শতক জায়গা দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে গ্রামবাসী ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সেখানে প্রতিবছর ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরও ওই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দেওড়া গ্রাম ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে জায়গাটির লিজ নবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কমিটির সদস্যরা।

 

 

 

 

তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন ওই জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান। গত ২০ জুলাই রাতে তিনি লোকজন নিয়ে ঈদগাহ মাঠের পুরোনো ইটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জায়গাটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

 

 

এ ঘটনায় দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জে এম নাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখেন এবং জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি টিনের বেড়া খুলে দেন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

 

 

 

এর কয়েকদিন পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে জাহাঙ্গীর হোসেন আবারও ঈদগাহ মাঠের ওই জায়গায় টিনের চাল দিয়ে একটি কেরাম খেলার ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

 

 

দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আবু তাহের, মো. রেজাউল করিম রিপন, মো. জাকির হোসেন, আলম জাহাঙ্গীর, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাকিল হোসাইনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় ৬১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় গ্রামবাসী ওই সাত শতক জায়গা ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সেখানে দুই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। চলতি বছরও ঈদের নামাজের পাশাপাশি ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে জায়গাটির লিজ নবায়ন করা হয়েছে।

 

 

 

 

তারা আরও বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন জায়গাটি নিজের দাবি করে প্রথমে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বেড়া সরিয়ে নিলেও আবার ঈদগাহ মাঠের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 

 

 

তবে ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ স্বীকার করে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। গ্রামবাসীর বাধার কারণে এতদিন দখল নিতে পারিনি। এখন সময় হয়েছে, তাই জায়গাটির দখল বুঝে নিয়েছি।’

 

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তারা।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

তাড়াশে ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ

আপডেট টাইম : ০৫:১৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জের তাড়াশে সরকারি জায়গায় অবস্থিত প্রায় ৬১ বছরের পুরোনো ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে দখল করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক গ্রাম্য প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

 

 

 

 

অভিযুক্ত ব্যক্তি হলেন উপজেলার দেশিগ্রাম ইউনিয়নের দেওড়া গ্রামের মো. জিয়াউল হকের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর হোসেন। ঈদগাহ মাঠের জায়গা দখলের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকেও প্রকাশ করেছেন তিনি। সেখানে তিনি লিখেছেন, ‘দীর্ঘদিন ঝামেলা থাকার পর জালেমদের হাত থেকে বাপের জায়গা উদ্ধার করলাম।’

 

 

 

স্থানীয় সূত্র ও ঈদগাহ কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দেওড়া গ্রামের পাকা সড়কসংলগ্ন প্রায় সাত শতক জায়গা দীর্ঘ ৬১ বছর ধরে গ্রামবাসী ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সেখানে প্রতিবছর ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। চলতি বছরও ওই মাঠে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়েছে। পাশাপাশি দেওড়া গ্রাম ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে জায়গাটির লিজ নবায়ন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন কমিটির সদস্যরা।

 

 

 

 

তবে সম্প্রতি জাহাঙ্গীর হোসেন ওই জায়গা নিজের পৈতৃক সম্পত্তি দাবি করে গ্রামবাসীর সঙ্গে বিরোধে জড়ান। গত ২০ জুলাই রাতে তিনি লোকজন নিয়ে ঈদগাহ মাঠের পুরোনো ইটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে জায়গাটি টিনের বেড়া দিয়ে ঘিরে দেন বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

 

 

 

 

এ ঘটনায় দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আলম জাহাঙ্গীর তাড়াশ সহকারী কমিশনার (ভূমি) এ জে এম নাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয় পক্ষকে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখেন এবং জাহাঙ্গীর হোসেনকে টিনের বেড়া সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তিনি টিনের বেড়া খুলে দেন বলে জানান স্থানীয়রা।

 

 

 

 

এর কয়েকদিন পর শনিবার (২২ আগস্ট) সকালে জাহাঙ্গীর হোসেন আবারও ঈদগাহ মাঠের ওই জায়গায় টিনের চাল দিয়ে একটি কেরাম খেলার ঘর নির্মাণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষসহ অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটতে পারে।

 

 

 

 

দেওড়া ঈদগাহ কমিটির সদস্য আবু তাহের, মো. রেজাউল করিম রিপন, মো. জাকির হোসেন, আলম জাহাঙ্গীর, মো. আমজাদ হোসেন ও মো. শাকিল হোসাইনসহ একাধিক ব্যক্তি বলেন, প্রায় ৬১ বছর ধরে বংশপরম্পরায় গ্রামবাসী ওই সাত শতক জায়গা ঈদগাহ মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছেন। সেখানে দুই ঈদের নামাজ আদায় করা হয়। চলতি বছরও ঈদের নামাজের পাশাপাশি ঈদগাহ মাঠ কমিটির পক্ষ থেকে জায়গাটির লিজ নবায়ন করা হয়েছে।

 

 

 

 

তারা আরও বলেন, জাহাঙ্গীর হোসেন জায়গাটি নিজের দাবি করে প্রথমে সীমানাপ্রাচীর ভেঙে টিনের বেড়া দিয়ে দখলের চেষ্টা করেন। পরে প্রশাসনের নির্দেশে বেড়া সরিয়ে নিলেও আবার ঈদগাহ মাঠের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। দ্রুত বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

 

 

 

 

তবে ঈদগাহ মাঠ দখলের অভিযোগ স্বীকার করে জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘জায়গাটি আমার পৈতৃক সম্পত্তি। গ্রামবাসীর বাধার কারণে এতদিন দখল নিতে পারিনি। এখন সময় হয়েছে, তাই জায়গাটির দখল বুঝে নিয়েছি।’

 

 

 

 

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নুসরাত জাহান রোববার (২৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

 

 

 

 

স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত ঈদগাহ মাঠের জায়গা নিয়ে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে যেকোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। তাই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিষয়টির দ্রুত সমাধান চান তারা।