নওগাঁর মান্দায় নির্বাচন কমিশনের সার্ভারে সংরক্ষিত নাগরিকদের গোপন তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণা এবং এনআইডি, সিডিআরসহ বিভিন্ন গোপন তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের অভিযোগে মো. আব্দুস সালাম সরকার (২৬) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৫।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে র্যাব-৫-এর রাজশাহী ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
র্যাব জানায়, রোববার ভোর ৫টার দিকে মান্দা উপজেলা পরিষদের মূল ফটকের বিপরীতে প্রসাদপুর গ্রামের ‘সরকার কম্পিউটার ও অনলাইন পয়েন্ট’ নামের একটি দোকানে অভিযান চালিয়ে আব্দুস সালাম সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়। মেজর মঞ্জুরুল কবির পিয়ালের নেতৃত্বে র্যাব-৫-এর রাজশাহী ক্যাম্পের সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করেন।
র্যাবের ভাষ্য, আব্দুস সালাম সরকার ও অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মাধ্যমে ডিজিটাল ডিভাইস, বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব ব্যবহার করে বিভিন্ন সার্ভারে অবৈধভাবে প্রবেশ করতেন। পরে সেখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত ও গোপনীয় তথ্য সংগ্রহ করে অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে সরবরাহ করা হতো।
র্যাব আরও জানায়, ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন অফিসে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাজ করার সুবাদে আব্দুস সালাম বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও সার্ভারে প্রবেশের বিষয়ে ধারণা অর্জন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বিভিন্ন অনলাইন আইডি ও হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে অর্থের বিনিময়ে এসব তথ্য সরবরাহ করতেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
গ্রেপ্তারের পর আব্দুস সালামের মোবাইল ফোন যাচাই করে একাধিক সিডিআর ও বিভিন্ন মোবাইল নম্বরের সর্বশেষ অবস্থানের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে র্যাব। এসব তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
র্যাবের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুস সালাম ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তার বিরুদ্ধে নওগাঁর মান্দা থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
র্যাব জানায়, এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং তারা কী পরিমাণ তথ্য সংগ্রহ ও সরবরাহ করেছে, তদন্ত শেষে তা বিস্তারিত জানা যাবে।

নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















