জনতার কন্ঠ প্রতিবেদক:
বাংলা চলচ্চিত্রের প্রবাদ পুরুষ যাকে বলা হয়, তিনি কিংবদন্তী নায়করাজ রাজ্জাক। রোমান্টিক নায়ক হিসেবে এখনও তাঁকে ছাড়িয়ে যেতে পারেন নি ঢালিউডের কোন অভিনেতা। তিনি তাঁর দীর্ঘ ৫০ বছরের কর্মজীবনে বাংলা চলচ্চিত্রকে সমৃদ্ধ করেছেন। ঢালিউডের অসংখ্য কালজয়ী সব চলচ্চিত্রের মূল অভিনেতাই ছিলেন রাজ্জাক। তিনি শুধু নায়কই ছিলেন না। তিনি পরিচালক ও প্রযোজক হিসেবেও অসংখ্য হিট সুপারহিট সিনেমা উপহার দিয়েছেন।
জনপ্রিয় নায়ক রাজের মৃত্যুর ৮টি বছর কেটে গেল। ২০২৭ সালের আজকের এই দিনে (২১ আগষ্ট) সন্ধ্যায় হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি।
রাজ্জাক ১৯৪২ সালের ২৩শে জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আকবর হোসেন ও মাতার নাম নিসারুননেছা। তিনি ছিলেন নাকতলা এলাকার জমিদার বংশের সন্তান। সপ্তম শ্রেণিতে পড়ার সময় সরস্বতী পূজা চলাকালে মঞ্চ নাটকে অভিনয় করেন তিনি। অভিনয়ের জন্য ১৮ বছর বয়সে মুম্বইয়েও যান রাজ্জাক। ১৯৬৪ সালে কলকাতায় হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা শুরু হলে এক রাতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে এক হিন্দু পরিবারের বাড়িতে আশ্রয় নেন। পরের দিন ২৬ এপ্রিল পরিবার নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

১৯৬৬ সালে ১৩ নম্বর ফেকু ওস্তাগার লেন চলচ্চিত্রে একটি ছোট চরিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশী চলচ্চিত্রে তার অভিষেক ঘটে। এরপর একই বছরে তিনি জহির রায়হানের বেহুলা চলচ্চিত্রে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের অবস্থান পাকাপোক্ত করেন। ষাটের দশকের শেষের দিকে এবং সত্তরের দশকেও তাকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের প্রধান অভিনেতা হিসেবে বিবেচনা করা হত। অভিনয় জীবনে তিনি বেহুলা, আগুন নিয়ে খেলা, এতটুকু আশা, নীল আকাশের নিচে, জীবন থেকে নেয়া, ওরা ১১ জন, অবুঝ মন, রংবাজ, আলোর মিছিল, কাগজের নৌকা’, ‘ ‘আমার জন্মভূমি’, ‘স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা’, শ্লোগান, ‘‘ঝড়ের পাখি’, ‘স্বরলিপি’, ‘বেঈমান’, ‘আবির্ভাব’, ‘মনের মতো বউ’, ‘ দর্পচূর্ণ’, ‘যে আগুনে পুড়ি’, ‘টাকা আনা পাই’, ‘নাচের পুতুল’, ‘অনন্ত প্রেম’, ‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘আনার কলি’, ‘রজনীগন্ধা’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘তওবা’, ‘চাপা ডাঙ্গার বউ’ অভিযান ও ‘সন্ধিসহ মোট ৩০০টি বাংলা ও উর্দু ভাষার চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। এছাড়াও তিনি ১৬টি চলচ্চিত্র পরিচালনা করেন। তার মালিকানার রাজলক্ষী প্রোডাকশন থেকে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র নির্মিত হয়। তার পরিচালিত চলচ্চিত্রগুলো হলো মৌচোর, বদনাম, পাগলা রাজা, ঢাকা ৮৬, চাঁপা ডাঙ্গার বউ, জিনের বাদশা , রাজামিস্ত্রি, প্রফেসর, বাবা কেন চাকর, সন্তান যখন শত্রু, আমি বাঁচতে চাই, মন দিতে চাই ইত্যাদি।
২০১৫ সালে বাংলাদেশ সরকার সংস্কৃতিতে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে স্বাধীনতা পুরস্কারে ভূষিত করে।[
রাজ্জাক ১৯৭৬, ১৯৭৮, ১৯৮২, ১৯৮৪ ও ১৯৮৮ সালে মোট পাঁচবার শ্রেষ্ঠ অভিনেতার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৩ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তাকে আজীবন সম্মাননা পুরস্কার প্রদান করা হয়। এছাড়াও তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য বাচসাস পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন। ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি প্রথম সভাপতি ছিলেন নায়করাজ রাজ্জাক।

রিপোর্টার: 

























