সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন বাউলদের ওপর হামলা উগ্র ধর্মান্ধদের কাণ্ড

বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনাকে উগ্র ধর্মান্ধদের ন্যক্কারজনক কাণ্ড বলে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি বাউলদের ওপর হামলা এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানায়। বাউলরা বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতি, গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যারা মাঠে-ঘাটে, প্রান্তরে বাউল গান গেয়ে বেড়ান। তাদের ওপরে হামলাকে তিনি ‘উগ্র ধর্মান্ধদের হামলা’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, এটা সঠিক নয়, এই ধরনের হিংসার পথ বেছে নেওয়া কারো জন্য কাম্য নয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তিবাসীর দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে কয়েক হাজার দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষ বসবাস করে। তিনি ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার বাসায় যে মহিলা রান্না করে, তার বাড়িও পুরো একদম শেষ হয়ে গেছে।’ এই ঘটনাটিকে দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য ‘চরম আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, সরকার যেন এই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে বের করে যদি কোনো ব্যক্তি দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, ‘এটি আমাদের দুর্ভাগ্যক্রমে ঘটছে।’

এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি কাঠামোগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস অথবা ফ্যাক্টরি কারখানাগুলোতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নেগলিজেন্স (অবহেলা), অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা এবং আইন না মেনে চলা—এসব কিছু মিলেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

মির্জা ফখরুল মত দেন, সত্যিকার অর্থেই যদি আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এই দুর্ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।

এর আগে, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মির্জা ফখরুল জানিয়েছেন বাউলদের ওপর হামলা উগ্র ধর্মান্ধদের কাণ্ড

আপডেট টাইম : ০৬:১৫:২৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫

বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ঘটনাকে উগ্র ধর্মান্ধদের ন্যক্কারজনক কাণ্ড বলে নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমি মনে করি বাউলদের ওপর হামলা এটা একটা ন্যক্কারজনক ঘটনা। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানায়। বাউলরা বাংলাদেশের আবহমান সাংস্কৃতি, গ্রাম বাংলার সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ, যারা মাঠে-ঘাটে, প্রান্তরে বাউল গান গেয়ে বেড়ান। তাদের ওপরে হামলাকে তিনি ‘উগ্র ধর্মান্ধদের হামলা’ বলে আখ্যা দেন।

তিনি আরও বলেন, এটা সঠিক নয়, এই ধরনের হিংসার পথ বেছে নেওয়া কারো জন্য কাম্য নয়। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানান।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বস্তিবাসীর দুর্দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বস্তিগুলোতে কয়েক হাজার দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষ বসবাস করে। তিনি ব্যক্তিগত উদাহরণ দিয়ে বলেন, ‘আমার বাসায় যে মহিলা রান্না করে, তার বাড়িও পুরো একদম শেষ হয়ে গেছে।’ এই ঘটনাটিকে দরিদ্র মানুষগুলোর জন্য ‘চরম আঘাত’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি সরকারের কাছে জোর দাবি জানান, সরকার যেন এই ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে।

তিনি আরও বলেন, সুষ্ঠু তদন্তের মধ্য দিয়ে প্রকৃত ঘটনাকে বের করে যদি কোনো ব্যক্তি দায়ী হয়ে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় নিয়ে আসা উচিত।

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাগুলো কোনো ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ষড়যন্ত্রের আশঙ্কা নাকচ করে দেন। তিনি মনে করেন, ‘এটি আমাদের দুর্ভাগ্যক্রমে ঘটছে।’

এর প্রধান কারণ হিসেবে তিনি কাঠামোগত দুর্বলতা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস অথবা ফ্যাক্টরি কারখানাগুলোতে দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের নেগলিজেন্স (অবহেলা), অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার অপর্যাপ্ততা এবং আইন না মেনে চলা—এসব কিছু মিলেই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে।

মির্জা ফখরুল মত দেন, সত্যিকার অর্থেই যদি আইনের প্রয়োগ হয় এবং যথাযথ অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা থাকে, তাহলে এই দুর্ঘটনাগুলো নিয়ন্ত্রণ করা অনেক সহজ হবে।

এর আগে, তিনি ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির কার্যালয় উদ্বোধন করেন। এ সময় জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।