সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভুয়া সনদে চাকরি, প্রধান শিক্ষককে কারাদণ্ড

রণি আক্তার

ঝিনাইদহ: ভুয়া সনদে চাকরি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে ঝিনাইদহের একজন প্রধান শিক্ষককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ঝিনাইদহের একটি বিচারিক আদালত।

 

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসুদ আলী এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত ব্যক্তির নাম রণি আক্তার। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর নারায়নপুর পুটিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় গোয়ালপাড়া অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন-সালেহা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।

ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর রণি আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগে একটি মামলা করেন।

 

সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওই রায় প্রদান করেন। সরকার পক্ষে অ্যাডভোকেট এ এস এম রাকিবুল হাসান ও আসামিপক্ষে তারিকুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি রণি আক্তার গোয়ালপাড়া অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন-সালেহা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাল-জালিয়াতী চক্রের সদস্য হওয়ায় তার শিক্ষক নিবন্ধন ও বিএড জাল সনদপত্র দিয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি করে আসছিলেন। চাকরি করার সুবাদে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যসহ স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। এরপর আসামি রণি আক্তার তার সরকারি বেতন-ভাতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কাগজপত্র দাখিল করেন। এসব কাগজপত্র যাছাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষ ভুয়া ও জাল বলে প্রমাণ পায়। এ কারণে তার সরকারি বেতন-ভাতা বাতিল করা হয়।

আসামি উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়কৃত টাকা ও কাগজপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আত্মগোপন করেন।

 

বুধবার রায় ঘোষণার সময় আসামি রণি আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

93
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ভুয়া সনদে চাকরি, প্রধান শিক্ষককে কারাদণ্ড

আপডেট টাইম : ০৭:৪১:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ নভেম্বর ২০২৫
ঝিনাইদহ: ভুয়া সনদে চাকরি, প্রতিষ্ঠানের অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার দায়ে ঝিনাইদহের একজন প্রধান শিক্ষককে সাত বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও দশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছে ঝিনাইদহের একটি বিচারিক আদালত।

 

বুধবার (১৯ নভেম্বর) দুপুরে ঝিনাইদহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মাসুদ আলী এই রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডিত ব্যক্তির নাম রণি আক্তার। তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার দুর্গাপুর নারায়নপুর পুটিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের ছেলে এবং স্থানীয় গোয়ালপাড়া অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন-সালেহা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক।

ওই স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নাসরিন আক্তার ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর রণি আক্তারের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও জাল সনদ দিয়ে চাকরি করার অভিযোগে একটি মামলা করেন।

 

সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ওই রায় প্রদান করেন। সরকার পক্ষে অ্যাডভোকেট এ এস এম রাকিবুল হাসান ও আসামিপক্ষে তারিকুল ইসলাম মামলাটি পরিচালনা করেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসামি রণি আক্তার গোয়ালপাড়া অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন-সালেহা খাতুন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি জাল-জালিয়াতী চক্রের সদস্য হওয়ায় তার শিক্ষক নিবন্ধন ও বিএড জাল সনদপত্র দিয়ে বিদ্যালয়ে চাকরি করে আসছিলেন। চাকরি করার সুবাদে তিনি নিয়োগ বাণিজ্যসহ স্কুলের লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করেন।

 

মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০২২ সালের জুলাই মাসে বিদ্যালয়টি এমপিও ভুক্ত হয়। এরপর আসামি রণি আক্তার তার সরকারি বেতন-ভাতা প্রাপ্তির লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বরাবর কাগজপত্র দাখিল করেন। এসব কাগজপত্র যাছাই বাছাই করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃকপক্ষ ভুয়া ও জাল বলে প্রমাণ পায়। এ কারণে তার সরকারি বেতন-ভাতা বাতিল করা হয়।

আসামি উক্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকা অবস্থায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আয়কৃত টাকা ও কাগজপত্র বুঝিয়ে না দিয়ে ২০২৪ সালের ৯ আগস্ট আত্মগোপন করেন।

 

বুধবার রায় ঘোষণার সময় আসামি রণি আক্তার আদালতে উপস্থিত ছিলেন। বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।