সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যু: মানবপাচার চক্রের ২ জন আটক

ছবি : সংগৃহীত

১৪ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

 

 

তিনি জানান, সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট গত ১২ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুরুদাস বাড়ৈ (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮) নামের দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। গুরুদাস বারইকে দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

 

সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করছিলেন। তারা ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে ভিকটিমদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

 

 

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

 

 

নিহতরা হলেন- সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

 

 

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ গ্যাবস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং অপর চারজনের মরদেহ ডিজেরবা জেনারেল হসপিটালের মর্গে রাখা হয়। পরে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী (৫৯) বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

ভূমধ্যসাগরে বাংলাদেশিদের মৃত্যু: মানবপাচার চক্রের ২ জন আটক

আপডেট টাইম : ০৬:২৩:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

১৪ লাখ টাকায় ইতালি পাঠানোর প্রলোভনে ভূমধ্যসাগরে ৮ বাংলাদেশির মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের দুই সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

 

 

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দুপুরে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এই তথ্য জানান।

 

 

তিনি জানান, সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম ইউনিট গত ১২ জানুয়ারি মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে গুরুদাস বাড়ৈ (৪৫) ও মো. মোতালেব মাতব্বর (৬৮) নামের দুই মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করে। গুরুদাস বারইকে দক্ষিণ খালিয়া গ্রাম থেকে এবং মো. মোতালেব মাতব্বরকে দামেরচর বাজার এলাকা থেকে আটক করা হয়।

 

সিআইডি বলছে, গ্রেপ্তার আসামিরা আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত এবং এজাহারনামীয় মূল পাচারকারীদের নির্দেশে অর্থ ও লোক সংগ্রহের কাজ করছিলেন। তারা ভিকটিমদের বিদেশে পাচারের পুরো প্রক্রিয়ায় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত ছিলেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, উন্নত জীবনযাপনের প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচার চক্রটি দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ভিকটিমদের কাছ থেকে জনপ্রতি প্রায় ১৪ লাখ টাকা নিয়ে বৈধভাবে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয়। পরে ভিকটিমদের অবৈধভাবে লিবিয়া পাঠানো হয় এবং সেখান থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দেওয়ার উদ্দেশ্যে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ডিঙ্গি নৌকায় তুলে দেওয়া হয়।

 

 

২০২৪ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টা থেকে ভোর সাড়ে ৪টার মধ্যে তিউনিশিয়া উপকূলে পৌঁছানোর আগেই নৌকাটি ডুবে গেলে আট বাংলাদেশির মৃত্যু হয়।

 

 

নিহতরা হলেন- সজল বৈরাগী (২৫), মামুন শেখ (২৪), নয়ন বিশ্বাস (১৮), কাজী সজিব (১৯), কায়সার খলিফা (৩৫), মো. রিফাত শেখ (২৫), রাসেল শেখ (১৯) এবং ইমরুল কায়েস আপন (২৪)।

 

 

নৌকাডুবির পর নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ গ্যাবস ইউনিভার্সিটি হসপিটাল এবং অপর চারজনের মরদেহ ডিজেরবা জেনারেল হসপিটালের মর্গে রাখা হয়। পরে সরকারি প্রক্রিয়ায় মরদেহগুলো দেশে এনে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় নিহত সজল বৈরাগীর পিতা সুনিল বৈরাগী (৫৯) বাদী হয়ে ঢাকা মহানগরের বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। সেই মামলায় ওই দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।