সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের ক্ষিরসিন উত্তর পাড়া গ্রামের মৃত্যু পবন উরাও মেয়ে এক করুণ মানবিক গল্পের নাম সাধনা উঁরাও। জন্মের পর পোলিও রোগে আক্রান্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনযাপন থেকে ছিটকে পড়েন তিনি। বয়স এখন প্রায় ৩৫ বছর। কিন্তু দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে একটি ঘরের অভাবে মন্দিরের বারান্দায় বসবাস করে আসছেন এই প্রতিবন্ধী নারী।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাধনার পিতা পবন উরাও ছিলেন মন্দিরের পুরোহিত। জন্মের মাত্র এক বছর বয়স থেকেই সাধনার ডান পা ও মেরুদণ্ডের হাড় বাঁকা হতে শুরু করে। গ্রাম্য করিবাজের ঝাড়–ফুঁ দিয়ে চিকিৎসা চললেও পরে জানা যায়, তিনি পোলিও রোগে আক্রান্ত। এতে থেমে যায় তার স্বাভাবিক বেড়ে ওঠা ও চলাফেরা। বয়স বাড়লেও আজও কুঁজো হয়ে কষ্ট করে হাঁটতে হয় তাকে।
প্রায় ১৫ বছর আগে পিতার মৃত্যু হলে মা সাধনাকে নিয়ে শুরু করেন পাহাড়সম দুর্বিসহ জীবনসংগ্রাম। অন্যের বাড়িতে কাজ করে শত কষ্টে মেয়েকে আইএ পর্যন্ত পড়ালেখা করান তিনি। কিন্তু দুঃখ এখানেই শেষ নয়। দুই বছর আগে মায়ের মৃত্যুর পর দুনিয়াতে একেবারেই একা হয়ে যান সাধনা উঁরাও।
কয়েক বছর আগে একটি এনজিওতে শিক্ষকতা করে কোনোমতে জীবন চালালেও বর্তমানে সেটিও বন্ধ হয়ে গেছে। উপার্জনের পথ বন্ধ, শারীরিক অক্ষমতা আর মাথা গোঁজার জায়গার অভাবে শেষ পর্যন্ত আশ্রয় নিতে হয়েছে পিতার তৈরি মন্দিরের বারান্দায়। আশ্চর্যের বিষয়, এত বছরেও পাশে দাঁড়ায়নি কোনো মানবিক সংগঠন বা প্রতিষ্ঠিত সহায়তা।
আলাপচারিতার এক পর্যায়ে সাধনা উঁরাও কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“এই নির্মম জীবনে সংসার গড়ার স্বপ্ন তো স্বপ্নই রয়ে গেছে। এখন শুধু চাই মাথার ওপর একটু স্থায়ী ছাদ। একটুখানি জায়গা পেলেই বাকি জীবনটা শান্তিতে কাটাতে পারতাম।”
প্রতিবেশী সারতি রানী বলেন,
“সাধনার কোনো সহায়-সম্বল নেই। তার পিতা যে এক টুকরো ভিটে রেখে গেছেন, সেখানে যদি সরকারিভাবে একটি ঘর করে দেওয়া হয়, তাহলে সে বাকী জীবনটা অন্তত সম্মানের সঙ্গে কাটাতে পারবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সমাজকল্যাণ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপে প্রতিবন্ধী ও অসহায় এই নারীর জন্য একটি সরকারি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হলে মানবিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপিত হবে।

বিশেষ প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 




















