সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

মায়ের মৃত্যুর দীর্ঘ ১২ বছর পর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হলো সন্তানের

আসামি হেলাল। ছবি : সংগৃহীত

নেত্রকোনায় বহুল আলোচিত এক ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগী নারীর কন্যাসন্তান পিতৃপরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।

 

 

 

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

 

 

 

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা খোদবানুকে ২০১৩ সালের ১০ জুলাই প্রতিবেশী মো. হেলাল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার কয়েক মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়ভাবে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।

 

মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় খোদবানু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তিনি মারা যান। তদন্তের একপর্যায়ে ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে আসামি হেলালের জৈবিক সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

মামলা দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা শিশুটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতে ন্যায়বিচার ও নিজের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিল।

 

 

আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

 

 

 

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, খোদবানুকে ধর্ষণ করেছিলেন মো. হেলাল এবং খোদবানুর কন্যাসন্তানের জৈবিক পিতাও তিনি। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর শিশুটি তার পিতৃপরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি ও অধিকার ফিরে পেল।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

মায়ের মৃত্যুর দীর্ঘ ১২ বছর পর পিতৃপরিচয় নিশ্চিত হলো সন্তানের

আপডেট টাইম : ০৬:২১:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬

নেত্রকোনায় বহুল আলোচিত এক ধর্ষণ মামলায় দীর্ঘ ১৩ বছর পর রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে মামলার একমাত্র আসামি হেলালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ে ভুক্তভোগী নারীর কন্যাসন্তান পিতৃপরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি পেয়েছে।

 

 

 

বুধবার (৮ জুলাই) দুপুরে নেত্রকোনা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. এমদাদুল হক এই চাঞ্চল্যকর মামলার রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল।

 

 

 

মামলার নথি ও রাষ্ট্রপক্ষ সূত্রে জানা যায়, জেলার বারহাট্টা উপজেলার বাসিন্দা প্রতিবন্ধী ও স্বামী পরিত্যক্তা খোদবানুকে ২০১৩ সালের ১০ জুলাই প্রতিবেশী মো. হেলাল জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ঘটনার কয়েক মাস পর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়ভাবে বিয়ের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হলেও হেলাল বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান। এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় মামলা দায়ের করে।

 

মামলা তদন্তাধীন অবস্থায় খোদবানু একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেন। পরবর্তীতে তিনি মারা যান। তদন্তের একপর্যায়ে ডিএনএ পরীক্ষায় শিশুটির সঙ্গে আসামি হেলালের জৈবিক সম্পর্কের মিল পাওয়া যায়। সেই প্রমাণের ভিত্তিতে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।

 

মামলা দায়েরের প্রায় এক বছর পর ভুক্তভোগী নারী স্বাভাবিকভাবে মারা যান। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের তত্ত্বাবধানে বেড়ে ওঠা শিশুটি দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে আদালতে ন্যায়বিচার ও নিজের পিতৃপরিচয়ের স্বীকৃতির অপেক্ষায় ছিল।

 

 

আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ (সংশোধিত ২০০৩)-এর ৯(১) ধারায় আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মামলায় ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন এবং অন্যান্য আলামত পর্যালোচনায় অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ডাদেশ দেন।

 

 

 

রায়ে আদালত উল্লেখ করেন, খোদবানুকে ধর্ষণ করেছিলেন মো. হেলাল এবং খোদবানুর কন্যাসন্তানের জৈবিক পিতাও তিনি। ফলে দীর্ঘ ১৩ বছর পর শিশুটি তার পিতৃপরিচয়ের আইনি স্বীকৃতি ও অধিকার ফিরে পেল।