সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
রায়ে অসন্তুষ্ট সজনদের এজলাসের বাইরে বিক্ষোভ

যুবদল নেতা হত্যায় স্ত্রীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

বায়ে নিহত সেলিম রেজা সুজন, ডানে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি।

সিরাজগঞ্জে শহর যুবদেলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যার আলোচিত মামলায় তার স্ত্রী উম্মে সালমা তিথিসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন এ দণ্ডাদেশ দেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত সেলিম রেজা সুজনের স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি ও তার পরকিয়া প্রেমিক শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের বেলাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণা সময় আসামি মনিরুল আদালতে উপস্থিত থাকলেও তিথি পলাতক রয়েছেন।

 

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও তিথির ভাই পিয়াস হোসেন।

 

আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জোহা শাহেনশাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এজলাসের বাইরে ও পরে আদালত প্রাঙ্গনে এসে বিক্ষোভ করে সুজনের সজনরা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

 

নিহত সুজনের ছোট ভাই আরিফুর রহমান বলেন, আমার ভাইকে গলাকেটে হত্যা করা হলেও সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। এছাড়াও অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায় আমরা মানিনা না।

 

রায়ে অসন্তুষ্ট স্বজনদের আদালত চত্বরে বিক্ষোভ

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ১ জুন সন্ধ্যায় যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজনকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুজনের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে তিথি ও পিয়াসের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর উম্মে সালমা তিথি, শ্যালক পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মনিরুল ও রাশেদেুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

 

উম্মে সালমা তিথি ও মনিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। নিজেদের পরকিয়া প্রেমকে স্বার্থক করতেই ঘুমন্ত সুজনকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে তারা স্বীকারোক্তি দেন।

 

মামলার দীর্ঘ শুনানী ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

রায়ে অসন্তুষ্ট সজনদের এজলাসের বাইরে বিক্ষোভ

যুবদল নেতা হত্যায় স্ত্রীসহ ২ জনের যাবজ্জীবন

আপডেট টাইম : ০৩:২৩:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

সিরাজগঞ্জে শহর যুবদেলের সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম রেজা সুজন হত্যার আলোচিত মামলায় তার স্ত্রী উম্মে সালমা তিথিসহ দুইজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সেই সঙ্গে প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা করে জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর দুই আসামিকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

 

মঙ্গলবার (১৮ আগষ্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন এ দণ্ডাদেশ দেন।

 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, নিহত সেলিম রেজা সুজনের স্ত্রী উম্মে সালমা তিথি ও তার পরকিয়া প্রেমিক শাহজাদপুর উপজেলার দরগাপাড়া গ্রামের বেলাল ফকিরের ছেলে মনিরুল ইসলাম। রায় ঘোষণা সময় আসামি মনিরুল আদালতে উপস্থিত থাকলেও তিথি পলাতক রয়েছেন।

 

খালাসপ্রাপ্তরা হলেন, শাহজাদপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র নজরুল ইসলামের ছেলে রাশেদুল ইসলাম ও তিথির ভাই পিয়াস হোসেন।

 

আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাডভোকেট শামসুজ্জোহা শাহেনশাহ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

এদিকে রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে এজলাসের বাইরে ও পরে আদালত প্রাঙ্গনে এসে বিক্ষোভ করে সুজনের সজনরা। এ সময় বিক্ষুব্ধরা রায়ের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে।

 

নিহত সুজনের ছোট ভাই আরিফুর রহমান বলেন, আমার ভাইকে গলাকেটে হত্যা করা হলেও সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়নি। এছাড়াও অপর দুই আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ রায় আমরা মানিনা না।

 

রায়ে অসন্তুষ্ট স্বজনদের আদালত চত্বরে বিক্ষোভ

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ১ জুন সন্ধ্যায় যুবদল নেতা সেলিম রেজা সুজনকে নিজ শয়নকক্ষে ঘুমন্ত অবস্থায় গলাকেটে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় সুজনের মা মাজেদা বেগম বাদী হয়ে তিথি ও পিয়াসের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ঘটনার পর উম্মে সালমা তিথি, শ্যালক পিয়াসকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে মনিরুল ও রাশেদেুলকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

 

উম্মে সালমা তিথি ও মনিরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেয়। নিজেদের পরকিয়া প্রেমকে স্বার্থক করতেই ঘুমন্ত সুজনকে চাপাতি দিয়ে জবাই করে হত্যা করা হয় বলে তারা স্বীকারোক্তি দেন।

 

মামলার দীর্ঘ শুনানী ও সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আজ এই রায় ঘোষণা করেন।