দীর্ঘ সময় পরও সিরাজগঞ্জের তাড়াশে শিলংদহ-গুড়পিপুল জন গুরুত্বপূর্ণ সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক আজও পাঁকাকরণ হয়নি। ফলে বছরের ছয় থেকে সাত মাস এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ টি গ্রামে বসবাসরতদের কাদাঁমাটিতে একাকার হয়ে চরম ভোগান্তি নিয়ে বছরের পর বছর ওই সড়কে চলতে হচ্ছে।
পাশাপাশি স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্যসহ নানা শ্রেণির জন প্রতিনিধি সরকারি দপ্তরে বার বার আবেদন নিবেদন করেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। যে কারণে ভোগান্তি চিরসঙ্গী করে কৃষককে কৃষিপণ্য বিক্রি করতে, শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে যেতে, মূমুর্ষরোগী, প্রসূতি মা ও শিশুকে বাধ্য হয়ে কষ্ট নিয়ে চলাচল করতে হয়।
জানা গেছে, তাড়াশ উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের শিলংদহ- গুড়পিপুল সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়ক দীর্ঘ সময় পরও পাঁকাকরণ হয়নি। অথচ ওই সড়কে শিলংদহ, গুড়মা, আড়ংগাইল, ক্ষিরশিন, গুড়পিপুল, দোগাড়িয়াসহ এলাকার প্রায় ১০ থেকে ১২ টি গ্রামের ১৫ থেকে ২০ হাজার বসবাসরত গ্রামবাসিদের চলাচলের পথ। আবার এ সড়ক দিয়ে শিলংদহ, গুড়মা, ক্ষিরশিন নামের তিনটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ৩৬০ থেকে ৩৮০ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে চলাচল করতে হয়। আরো চলাচল করতে হয় গুড়পিপুল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রায় ৯৩ থেকে ১০৫ শিক্ষার্থীকে, আড়ংগাইল দাখিল মাদ্রসায় অনন্ত ১০০ থেকে ১৫০ শিক্ষার্থীকে। একই সঙ্গে এ পথেই প্রায় ১০ থেকে ১২ টি গ্রামের বসবাসরত কৃষকদের তাদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্রোসহ সকল কৃষি পণ্য বিক্রির জন্য এলাকার গুড়পিপুল-কাঁটাগাড়ি, গুল্টাসহ চারটি হাট- বাজারে নিয়ে যেতে হয় এমনি ভাষ্য, শিলংদহ গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল মালেকের।
দোগাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা ও স্কুল শিক্ষক তাজআমিন জানান, গত প্রায় একমাস হলো বৃষ্টির কারণে শিলংদহ- গুড়পিপুল জন গুরুত্বপূর্ণ সোয়া দুই কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কটিতে এখন হাটু পরিমান কাাঁদামাটি জমে গেছে। তাতে করে কোন যানবহন চলাচল করতে না পারায় এ সড়কে থাকা কয়েকটি গ্রামের কৃষকেরা তাদের উৎপাদিত ধান, সরিষা, আলু, ভুট্রোসহ কোন কৃষি পণ্য বিক্রির হাট বাজারে নিতে পারেনি। এমনকি ধান বিক্রি করতে না পেরে অনেকে সংকটে আছেন এমনটি জানিয়েছেন, ক্ষিরশিন গ্রামের অনিমেশ সিং।
শিলংদহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সিমা বালা, পারুল খাতুন, রিপন সিং, পবন চন্দ্র, অকিল চন্দ্র মাহাতো অনেকে জানান, শিলংদহ- গুড়পিপুল গ্রামীণ সড়ক পাঁকাকরণ হয়নি। তাই কাঁদা- মাটি মেখে আমাদের এ সড়কে চলতে হয় বা স্কুলে যেতে চায়না অনেকে। অথচ উপজেলার অনেক সড়ক পাঁকাকরণ হলেও আমাদের দুরবস্থা কারো চোখে পড়েনা। যা দুঃখজনক। আমরা দ্রুত এ সড়ক পাঁকাকরণের দাবী জানাই।
এ দিকে এলাকার শিক্ষক আব্দুল হান্নান, গ্রাম প্রধান আব্দুল মালেকসহ অনেকে দাবী করেন সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য সংশ্লিট ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, সদস্যসহ নানা শ্রেণির জন প্রতিনিধি সরকারি দপ্তরে বার বার আবেদন নিবেদন করে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবশ্য, দেশিগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জ্ঞানেন্দ্রনার্থ বসাক বলেন, সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য যে খরচ হবে তা ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতার বাহিরে। তাই আমি তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী মহোদয়কে সড়কটি পাঁকাকরণের জন্য অনরোধ করেছি।
আর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলী অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, আগামী গ্রীম্ম মৌসুমে সড়কটি পাঁকাকরণে উদ্দ্যোগ নিবো।

নিজস্ব প্রতিবেদক। জনতার কণ্ঠ.কম। 




















