সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সময়সীমা Logo এসএসসি সনদ সার্ভারে আপলোড বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন Logo প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে ধাক্কা, বাসচালক গ্রেপ্তার Logo বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টি, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত Logo ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের বিশেষ সহায়তা ঘোষণা Logo প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো Logo রায়গঞ্জে ভ্যানচালক জাহের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার দাবি

সকালটা শুরু হোক নিজের মতো করে

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ১০:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • 52

ঘড়িতে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ক্লান্ত চোখে ফোন হাতে নিই, ঘুম ভাঙে না, মাথায় চিন্তার পাহাড়। ঘর থেকে অফিস, অফিস থেকে কাজের চাপ—সব যেন এক বৃত্তে ঘুরছে। আর এরই মাঝে হারিয়ে যাওয়া। যদি দিনটা শুরুই হয় অন্যের শর্তে, তাহলে নিজের সঙ্গে সময় কোথায়?

আসলে দিন ভালো কাটানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে দিনের শুরুতে। আর তাই সময় এসেছে নিজেকে বলার—সকালটা শুরু হোক নিজের মতো করে।

কেন নিজের মতো করে সকাল শুরু করা জরুরি?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যাঁরা দিনের শুরুটা আত্মকেন্দ্রিকভাবে, মানে নিজের ইচ্ছা, অভ্যাস, বা মনের আরামের জায়গা থেকে শুরু করেন—তাঁরা তুলনামূলকভাবে কম উদ্বিগ্ন হন, সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ হন, এমনকি সম্পর্কেও বেশি স্থিতিশীল হন।

অন্যদিকে, দিন শুরুতেই যদি মোবাইল স্ক্রল, অফিসের চিন্তা, বা পরিবারিক দায়িত্বে জড়িয়ে পড়তে হয়, তখন মস্তিষ্ক ‘রিঅ্যাকশন মোড’-এ চলে যায়। আপনি তখন নিজের সময়কে নিয়ন্ত্রণ করছেন না—সময় আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

নিজের মতো করে সকাল শুরু করার ৫টি সহজ উপায়

১. ফোন নয়, প্রকৃতি হোক প্রথম দেখা

ঘুম থেকে উঠে প্রথম ১৫ মিনিট যেন কোনো স্ক্রিনে চোখ না পড়ে। জানালা খুলে গাছপালা দেখুন, বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখির ডাক শুনুন, অথবা শুধু কয়েকটা গভীর নিঃশ্বাস নিন। এটাই আপনার ‘মাইন্ডফুল মর্নিং’।

২. নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—আজ আমি কেমন আছি?

নিজের মনের সঙ্গে এক মিনিট কথা বলুন। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই। শুধু অনুভব করুন—আপনার শরীর কী বলছে, মনের ভেতরে কোন শব্দটা বেশি জোরে বাজছে।

৩. এক কাপ চা বা কফিতে দিন শুরু করুন, কিন্তু ধীরে

তাড়াহুড়া করে নয়—নিজের পছন্দের কাপে, প্রিয় বারান্দায় বসে, এক কাপ চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে কয়েকটা নিঃশ্বাস ভাগ করে নিন।

৪. ৫ মিনিট কিছু লিখুন—নিজের জন্য

দিনের উদ্দেশ্য, ভাবনা, অথবা শুধু আবোলতাবোল যা মনে আসে—লিখে ফেলুন। এটি আপনার ভেতরের অগোছালো ভাবনাগুলো গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

৫. একটু শরীরচর্চা, একটু ধ্যান

এমনকি ৩ মিনিট হাত-পা ছড়িয়ে স্ট্রেচ করলেও শরীরে একধরনের আলোড়ন আসে। আর ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসলে মস্তিষ্ক শান্ত হয়। মিলিয়ে দেখুন, ৫ মিনিটেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন নিজে নিজেই অনুপ্রাণিত।

আপনি দিনটাকে যেভাবে শুরু করেন, সেটাই বলে দেয় বাকিটা কেমন যাবে। জীবনটা এমনিতেই নানা চাপে ভরা। তবু প্রতিদিন সকাল এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে। এই সকাল আপনার—তাই তাকে অন্যের নিয়মে নয়, নিজের মতো করে শুরু করুন। আপনি যখন নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন, তখন জীবনও আপনার ছন্দে চলতে শিখবে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সময়সীমা

সকালটা শুরু হোক নিজের মতো করে

আপডেট টাইম : ১০:০০:২৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

ঘড়িতে অ্যালার্ম বেজে ওঠে। ক্লান্ত চোখে ফোন হাতে নিই, ঘুম ভাঙে না, মাথায় চিন্তার পাহাড়। ঘর থেকে অফিস, অফিস থেকে কাজের চাপ—সব যেন এক বৃত্তে ঘুরছে। আর এরই মাঝে হারিয়ে যাওয়া। যদি দিনটা শুরুই হয় অন্যের শর্তে, তাহলে নিজের সঙ্গে সময় কোথায়?

আসলে দিন ভালো কাটানোর সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি লুকিয়ে থাকে দিনের শুরুতে। আর তাই সময় এসেছে নিজেকে বলার—সকালটা শুরু হোক নিজের মতো করে।

কেন নিজের মতো করে সকাল শুরু করা জরুরি?

মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, যাঁরা দিনের শুরুটা আত্মকেন্দ্রিকভাবে, মানে নিজের ইচ্ছা, অভ্যাস, বা মনের আরামের জায়গা থেকে শুরু করেন—তাঁরা তুলনামূলকভাবে কম উদ্বিগ্ন হন, সিদ্ধান্ত নিতে দক্ষ হন, এমনকি সম্পর্কেও বেশি স্থিতিশীল হন।

অন্যদিকে, দিন শুরুতেই যদি মোবাইল স্ক্রল, অফিসের চিন্তা, বা পরিবারিক দায়িত্বে জড়িয়ে পড়তে হয়, তখন মস্তিষ্ক ‘রিঅ্যাকশন মোড’-এ চলে যায়। আপনি তখন নিজের সময়কে নিয়ন্ত্রণ করছেন না—সময় আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

নিজের মতো করে সকাল শুরু করার ৫টি সহজ উপায়

১. ফোন নয়, প্রকৃতি হোক প্রথম দেখা

ঘুম থেকে উঠে প্রথম ১৫ মিনিট যেন কোনো স্ক্রিনে চোখ না পড়ে। জানালা খুলে গাছপালা দেখুন, বারান্দায় দাঁড়িয়ে পাখির ডাক শুনুন, অথবা শুধু কয়েকটা গভীর নিঃশ্বাস নিন। এটাই আপনার ‘মাইন্ডফুল মর্নিং’।

২. নিজেকে জিজ্ঞেস করুন—আজ আমি কেমন আছি?

নিজের মনের সঙ্গে এক মিনিট কথা বলুন। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই। শুধু অনুভব করুন—আপনার শরীর কী বলছে, মনের ভেতরে কোন শব্দটা বেশি জোরে বাজছে।

৩. এক কাপ চা বা কফিতে দিন শুরু করুন, কিন্তু ধীরে

তাড়াহুড়া করে নয়—নিজের পছন্দের কাপে, প্রিয় বারান্দায় বসে, এক কাপ চায়ের ধোঁয়ার সঙ্গে কয়েকটা নিঃশ্বাস ভাগ করে নিন।

৪. ৫ মিনিট কিছু লিখুন—নিজের জন্য

দিনের উদ্দেশ্য, ভাবনা, অথবা শুধু আবোলতাবোল যা মনে আসে—লিখে ফেলুন। এটি আপনার ভেতরের অগোছালো ভাবনাগুলো গুছিয়ে নিতে সাহায্য করবে।

৫. একটু শরীরচর্চা, একটু ধ্যান

এমনকি ৩ মিনিট হাত-পা ছড়িয়ে স্ট্রেচ করলেও শরীরে একধরনের আলোড়ন আসে। আর ২ মিনিট চোখ বন্ধ করে বসলে মস্তিষ্ক শান্ত হয়। মিলিয়ে দেখুন, ৫ মিনিটেই আপনি হয়ে উঠতে পারেন নিজে নিজেই অনুপ্রাণিত।

আপনি দিনটাকে যেভাবে শুরু করেন, সেটাই বলে দেয় বাকিটা কেমন যাবে। জীবনটা এমনিতেই নানা চাপে ভরা। তবু প্রতিদিন সকাল এক নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আসে। এই সকাল আপনার—তাই তাকে অন্যের নিয়মে নয়, নিজের মতো করে শুরু করুন। আপনি যখন নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকবেন, তখন জীবনও আপনার ছন্দে চলতে শিখবে।