সিরাজগঞ্জ , শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সিরাজগঞ্জে কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিশাল সমাবেশ

  • রিপোর্টার:
  • আপডেট টাইম : ০৯:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫
  • ৬২ জন দেখেছেন

হুমায়ন কবির সোহেল

সিরাজগঞ্জে কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়ার দাবী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সিরাজগঞ্জ জেলা কিন্ডার গার্টেন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে শহরেরে বাজার স্টেশন মুক্তমঞ্চে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলার ৪ শতাধিক কিন্ডার গার্টেনের তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিও দাবী জানিয়ে বলেন, ২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখন কিন্ডারগার্টেনগুলোকে সরকারি পাঠ্যপুস্তক প্রদান ও সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বাতিল করে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে মেধাভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ২০২২ সালের সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বৃত্তির ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১৭ জুলাই হঠাৎ করেই এক পত্রের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যতিত সকল কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি বাতিল করা হয়। এতে আমাদের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে হতাশ ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আমরা শিক্ষক অভিভাবকার সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত।

বক্তারা বলেন, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে দেশে ব্যক্তি ও সামরিক উদ্যোগে  কিন্ডার গার্টেন গড়ে উঠেছে। দেশে বর্তমান প্রায় পঞ্চাশ হাজার কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। শুধু ঢাকা শহরে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬ লাখ শিশু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই মুহুর্তে কিন্ডার গার্টেন বন্ধ হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করা তো দূরের কথা শিক্ষার্থীদের দাড়িয়ে থাকার জায়গারও সংকুলান হবে না। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রহিত করে লাখ লাখ শিশুদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রজ্ঞাপণ বাতিল না করা হলে কঠোর কর্মসুচীর হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা কিন্ডারগার্টেন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. বরকতুল্লাহ, সদস্য সচিব ফজলুল করিম সহ শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক বৃন্দ।

78
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিরাজগঞ্জে কিন্ডার গার্টেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বিশাল সমাবেশ

আপডেট টাইম : ০৯:৫৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই ২০২৫

হুমায়ন কবির সোহেল

সিরাজগঞ্জে কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রাথমিক বৃত্তি পরিক্ষায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহনের সুযোগ দেওয়ার দাবী এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টায় সিরাজগঞ্জ জেলা কিন্ডার গার্টেন সমন্বয় পরিষদের উদ্যোগে শহরেরে বাজার স্টেশন মুক্তমঞ্চে এই বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি বিশাল মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে জেলার ৪ শতাধিক কিন্ডার গার্টেনের তিন হাজার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।

সমাবেশে বক্তারা জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থায় কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয়ের স্বীকৃতিও দাবী জানিয়ে বলেন, ২০০৯ সালে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা ব্যবস্থা চালু করা হয়। তখন কিন্ডারগার্টেনগুলোকে সরকারি পাঠ্যপুস্তক প্রদান ও সমাপনী পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হয়। ওই সময় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা বাতিল করে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে মেধাভিত্তিতে বৃত্তি প্রদান করা হয়। কিন্তু ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ২০২২ সালের সর্বশেষ প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাতেও আমাদের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে সরকারি গেজেটের মাধ্যমে বৃত্তির ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বক্তারা আরও বলেন, গত ১৭ জুলাই হঠাৎ করেই এক পত্রের মাধ্যমে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পিটিআই সংলগ্ন পরীক্ষণ বিদ্যালয় ও সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যতিত সকল কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় সমূহের শিক্ষার্থীদের বৃত্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণের অনুমতি বাতিল করা হয়। এতে আমাদের বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা মানসিকভাবে হতাশ ও আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। আমরা শিক্ষক অভিভাবকার সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিস্মিত।

বক্তারা বলেন, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম। প্রাথমিক শিক্ষার প্রসারে দেশে ব্যক্তি ও সামরিক উদ্যোগে  কিন্ডার গার্টেন গড়ে উঠেছে। দেশে বর্তমান প্রায় পঞ্চাশ হাজার কিন্ডার গার্টেন ও বেসরকারি বিদ্যালয় রয়েছে। শুধু ঢাকা শহরে শিশু শ্রেণী থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ১৬ লাখ শিশু শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এই মুহুর্তে কিন্ডার গার্টেন বন্ধ হলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পড়ালেখা করা তো দূরের কথা শিক্ষার্থীদের দাড়িয়ে থাকার জায়গারও সংকুলান হবে না। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় কিন্ডার গার্টেন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ রহিত করে লাখ লাখ শিশুদের বঞ্চিত করা হয়েছে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এই প্রজ্ঞাপণ বাতিল না করা হলে কঠোর কর্মসুচীর হুশিয়ারী দেন বক্তারা।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিরাজগঞ্জ জেলা কিন্ডারগার্টেন সমন্বয় পরিষদের সমন্বয়ক মো. বরকতুল্লাহ, সদস্য সচিব ফজলুল করিম সহ শিক্ষক ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবক বৃন্দ।