সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাইবার হামলার বছর ২০২৫

ছবি : সংগৃহীত

বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২০২৫ সাল। সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার একাধিকবার সাইবার হামলার শিকার হয়। চীনা হ্যাকারদের মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে হামলার পর পারমাণবিক নিরাপত্তা-সম্পর্কিত সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা মার্কিন আদালতের গোপন নথিও চুরি করেছে।

 

করপোরেট খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ক্লপ র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপ ওরাকলের একটি অজানা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বহু প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে নেয়। ত্রুটিটি শনাক্ত হওয়ার আগেই ব্যাপক তথ্য ফাঁস ঘটে।

যুক্তরাজ্যে একের পর এক সাইবার হামলায় খুচরা ব্যবসা খাত বিপর্যস্ত হয়। বিশেষ করে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের ওপর হামলার ফলে কয়েক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে এবং সরকারকে প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিতে হয়।

এশিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় প্রতি মাসেই বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি ও ই-কমার্স জায়ান্ট কুপাংয়ের ওপর হামলায় কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে।

টেকক্রাঞ্চ বলছে, ২০২৫ সালে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের কারণে সাইবার হামলা হয়েছে। এটি এখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অদম্য পলি রানী: পা দিয়ে লিখেই দিচ্ছে এইচএসসি পরীক্ষা

ইতিহাসের সর্বোচ্চ সাইবার হামলার বছর ২০২৫

আপডেট টাইম : ০১:২৯:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫

বিশ্বব্যাপী সাইবার হামলার ক্ষেত্রে ইতিহাসের সবচেয়ে ভয়াবহ বছর হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে ২০২৫ সাল। সরকার, করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো—সব ক্ষেত্রেই ব্যাপক সাইবার হামলা ও তথ্য ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে প্রযুক্তিবিষয়ক মাধ্যম টেকক্রাঞ্চ।

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার একাধিকবার সাইবার হামলার শিকার হয়। চীনা হ্যাকারদের মাধ্যমে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগে হামলার পর পারমাণবিক নিরাপত্তা-সম্পর্কিত সিস্টেমসহ বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নেটওয়ার্ক ভেঙে পড়েছে। এ ছাড়া রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা মার্কিন আদালতের গোপন নথিও চুরি করেছে।

 

করপোরেট খাতেও বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। ক্লপ র‍্যানসমওয়্যার গ্রুপ ওরাকলের একটি অজানা নিরাপত্তা ত্রুটি কাজে লাগিয়ে বহু প্রতিষ্ঠানের কর্মী ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সংবেদনশীল তথ্য চুরি করে নেয়। ত্রুটিটি শনাক্ত হওয়ার আগেই ব্যাপক তথ্য ফাঁস ঘটে।

যুক্তরাজ্যে একের পর এক সাইবার হামলায় খুচরা ব্যবসা খাত বিপর্যস্ত হয়। বিশেষ করে গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারের ওপর হামলার ফলে কয়েক মাস উৎপাদন বন্ধ থাকে। এতে দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগে এবং সরকারকে প্রায় ১৫০ কোটি পাউন্ড সহায়তা দিতে হয়।

এশিয়াতেও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক ছিল। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রায় প্রতি মাসেই বড় সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। দেশটির বৃহত্তম টেলিকম কোম্পানি ও ই-কমার্স জায়ান্ট কুপাংয়ের ওপর হামলায় কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য ফাঁস হয়েছে।

টেকক্রাঞ্চ বলছে, ২০২৫ সালে দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সরবরাহব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকারদের কারণে সাইবার হামলা হয়েছে। এটি এখন অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে উঠেছে।