সিরাজগঞ্জ , রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
ঐক্যের ডাক কাজী মফিজ ও আব্দুল মান্নানের

সেনবাগে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূলে ক্ষোভ

নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। দলটি এ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ও সাবেক পাঁচ বারের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুককে প্রার্থী ঘোষণা করলে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ।
দীর্ঘদিন সংগঠনের খারাপ সময়ে মাঠে থাকা এবং তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী মফিজুর রহমানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে সেনবাগে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশসহ আন্দোলনমুখী কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেছে।
এক তৃণমূল নেতা বলেন,
“কাজী মফিজ সৎ, যোগ্য এবং কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন। তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তন চায় তৃণমূলের মানুষ।”
এদিকে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, কাজী মফিজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ২৮ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে সেনবাগ পৌর শহরে সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা করবেন।
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী, সৌদি আরব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নানও কাজী মফিজকে পাশে নিয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন—
“সেনবাগ-সোনাইমুড়ীর মাটি ও মানুষের জন্য আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও মানুষের পরিবর্তনের আশা—সব বিবেচনায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনবাগে দীর্ঘদিনের গ্রুপিং রাজনীতি, মনোনয়ন বিভ্রান্তি ও তৃণমূলের হতাশা বিবেচনায় বিএনপির জন্য ২০২৬ সালের নির্বাচন কঠিন চ্যালেঞ্জের ময়দান হয়ে উঠছে। এছাড়া জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ ইতোমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন, যা বিএনপির ভোটভিত্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৃণমূলের ক্ষোভ নিরসন ও গ্রুপিং সমাধান করতে ব্যর্থ হলে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির লড়াই আরও কঠিন হবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল—শেষ পর্যন্ত ঐক্য নাকি বিভাজন, সেটিই হবে প্রধান বিষয়।
90
Created on
আপনার মতামত দিন

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনি কোন দলকে ক্ষমতায় দেখতে চান ?

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঐক্যের ডাক কাজী মফিজ ও আব্দুল মান্নানের

সেনবাগে বিএনপির মনোনয়ন ঘিরে তৃণমূলে ক্ষোভ

আপডেট টাইম : ০৬:১৬:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ নভেম্বর ২০২৫
নোয়াখালী-২ (সেনবাগ–সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার পর স্থানীয় রাজনীতিতে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা। দলটি এ আসনে বিএনপির চেয়ারপার্সন এর উপদেষ্টা, সাবেক বিরোধী দলীয় চীফ হুইপ ও সাবেক পাঁচ বারের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদীন ফারুককে প্রার্থী ঘোষণা করলে তৃণমূলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও অসন্তোষ।
দীর্ঘদিন সংগঠনের খারাপ সময়ে মাঠে থাকা এবং তৃণমূলের জনপ্রিয় নেতা, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সেনবাগ উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব কাজী মফিজুর রহমানকে মনোনয়ন না দেওয়ায় তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। এর ফলে সেনবাগে মশাল মিছিল, বিক্ষোভ মিছিল ও সভা-সমাবেশসহ আন্দোলনমুখী কর্মসূচি লক্ষ্য করা গেছে।
এক তৃণমূল নেতা বলেন,
“কাজী মফিজ সৎ, যোগ্য এবং কঠিন সময়ে দলের জন্য কাজ করেছেন। তাঁকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত ছিল। পরিবর্তন চায় তৃণমূলের মানুষ।”
এদিকে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, কাজী মফিজুর রহমান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ২৮ নভেম্বর শুক্রবার বিকেলে সেনবাগ পৌর শহরে সমাবেশের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতা ঘোষণা করবেন।
বিএনপির আরেক সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী, সৌদি আরব বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও নোয়াখালী জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য আব্দুল মান্নানও কাজী মফিজকে পাশে নিয়ে ঐক্যের বার্তা দিয়েছেন। তিনি তাঁর ফেসবুকে লিখেছেন—
“সেনবাগ-সোনাইমুড়ীর মাটি ও মানুষের জন্য আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) থেকে আমাদের ঐক্যবদ্ধ যাত্রা শুরু। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও মানুষের পরিবর্তনের আশা—সব বিবেচনায় আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবো ইনশাআল্লাহ।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সেনবাগে দীর্ঘদিনের গ্রুপিং রাজনীতি, মনোনয়ন বিভ্রান্তি ও তৃণমূলের হতাশা বিবেচনায় বিএনপির জন্য ২০২৬ সালের নির্বাচন কঠিন চ্যালেঞ্জের ময়দান হয়ে উঠছে। এছাড়া জামায়াতের জেলা নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা সাইয়্যেদ আহমদ ইতোমধ্যেই একক প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছেন, যা বিএনপির ভোটভিত্তিকে প্রভাবিত করতে পারে।
বিশ্লেষকরা মনে করেন, তৃণমূলের ক্ষোভ নিরসন ও গ্রুপিং সমাধান করতে ব্যর্থ হলে নোয়াখালী-২ আসনে বিএনপির লড়াই আরও কঠিন হবে। পরিস্থিতি এখনও পরিবর্তনশীল—শেষ পর্যন্ত ঐক্য নাকি বিভাজন, সেটিই হবে প্রধান বিষয়।