বিশ্বকাপের ফাইনালের শেষে স্পেনের অধিনায়ক রদ্রি সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপা উদযাপন করতে যাওয়ার সময় আর্জেন্টিনার ডিফেন্ডার নাহুয়েল মোলিনা তাকে আঘাত করেন। এর জেরে শুরু হয় কথা কাটাকাটি। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্পেনের ডিফেন্ডার এরিক গার্সিয়া এগিয়ে আসেন, আর তখনই আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস সেখানে যোগ দেন।
এ সময় আর্জেন্টিনার সহকারী কোচ রবার্তোকে বিবাদে জড়িয়ে পড়তে দেখা যায়। এ ঘটনায় তিনি পরে ক্ষমা প্রার্থনা করলেও, তা গ্রহণ করেননি স্প্যানিশ তারকা দানি ওলমো। ‘ভ্যালেন্সিয়া ক্যাপিটাল রেডিও’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আয়ালা জানান, তিনি ‘অবশ্যই’ দুঃখিত; তবে একই সঙ্গে তিনি ঘটনাটির ব্যাখ্যা দেন এবং নিজের অবস্থান তুলে ধরে আত্মপক্ষ সমর্থন করেন।

আরও পড়ুন: হলিউডে অভিষেক রোনালদোর, কোন ভূমিকায়?
আয়ালা বলেন, এটা আসলে ধাক্কাধাক্কির মতো একটা বিষয় ছিল, এটাকে যেভাবে ঘুসি মারা হিসেবে দেখানো হচ্ছে আসলে তা নয়। তিনি আরও বলেন, তার কোনো কথার পরিপ্রেক্ষিতেই এমন প্রতিক্রিয়া হয়েছিল, তবে বিষয়টার ইতি ওখানেই। তার সঙ্গে দেখা হলে আমি অবশ্যই সরাসরি তার কাছে ক্ষমা চেয়ে নেব।
কাতালান সংবাদপত্র ‘দিয়ারি দে তেরাসা’-র কাছে ওলমো ব্যাখ্যা করেন, কেন তিনি আয়ালার ক্ষমা প্রার্থনা গ্রহণ করছেন না এবং ঘটনার বিষয়ে আয়ালার ভাষ্যকে চ্যালেঞ্জ জানান। ওলমো বলেন, কেউ যদি ক্ষমা চাওয়ার কথা বলে কিন্তু একই সঙ্গে কোনো মন্তব্যের জবাবে ঘুসি মারার মতো কাজকে যৌক্তিক বলে দাবি করে, তবে বুঝতে হবে, সে আসলে অনুতপ্ত নয়, কারণ সে মিথ্যা বলছে। আমি তাকে কিছুই বলিনি, তাই তার ক্ষমা চাওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
এই স্প্যানিশ তারকা আরও বলেন, ভুল করাটা আমাদের আসল পরিচয় নয়; বরং বিনয়, সততা ও মর্যাদার সঙ্গে সেই ভুল স্বীকার করার সাহসটাই আমাদের প্রকৃত পরিচয়।

আরও পড়ুন:অবসরের ঘোষণা দিলেন বিশ্বকাপ ফাইনালের রেফারি
ম্যাচ-পরবর্তী হাতাহাতিতে উভয় দলের সদস্যরা জড়িয়ে পড়েছিলেন, বিশেষ করে যেখানে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেস স্প্যানিশ দলের একাধিক সদস্যের মুখোমুখি হয়েছিলেন। ফিফা তা নিয়ে সক্রিয়ভাবে তদন্ত করছে। ওলমো বলেন, আমার সন্তান, পরিবার এবং সব ভক্ত যখন খেলাটি দেখেন। আমি চাই তারা যেন আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ধরন, জয়ের উপায় এবং সর্বোপরি আমাদের আচরণ নিয়ে গর্ববোধ করেন। কারণ ফুটবলের গুরুত্বের কারণে আমরা খেলোয়াড়রা শিশু ও নতুন প্রজন্মের কাছে এক একটি উদাহরণ হয়ে দাঁড়াই, আর এর সঙ্গে বিশাল এক দায়িত্বও জড়িয়ে থাকে।
বার্সেলোনার ২৮ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ওলমো স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপের আটটি ম্যাচের মধ্যে ছয়টিতে শুরুর একাদশে ছিলেন এবং দুটি অ্যাসিস্ট (গোল করতে সহায়তা) করেছিলেন।

ক্রিড়া ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















