গণতন্ত্রের পথে না হেঁটে বিরোধী দল ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটছে বলে মন্তব্য করে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেছেন, ‘তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। ষড়যন্ত্রকারী, স্বৈরাচার ও রাজাকারদের জনগণ কখনো গ্রহণ করেনি, আগামীতেও করবে না।’
শনিবার (০৮ আগস্ট) দুপুরে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনের সম্মেলন কক্ষে বাংলাদেশ সোসাইটি ফর ভেটেরিনারি এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চের (বিএসভিইআর) ৩২তম বার্ষিক আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বিএনপি কখনো গণতন্ত্রের বিপক্ষে যায়নি। বিএনপিকে কেউ রাজাকার বলতে পারবে না। কারণ, এটি স্বাধীনতার মহান ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল। তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘদিন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুথানের মূল নেতৃত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কিন্তু তিনি এই আন্দোলনের কৃতিত্ব দেশের আপামর জনগণকে দিয়েছেন; জনগণই আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং তাদের অংশগ্রহণেই পরিবর্তন এসেছে।
প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, আমরা একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক সমাজ চাই। জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বর্তমান সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে। দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ আরও সুদৃঢ় করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
ভেটেরিনারিয়ানদের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একসময় ভেটেরিনারিয়ানদের মানুষ তেমন গুরুত্ব দিত না। কিন্তু সময়ের সঙ্গে এ খাতের পরিধি ও গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। প্রাণিসম্পদ, জনস্বাস্থ্য ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভেটেরিনারিয়ানদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই খাতে যত বেশি গবেষণা হবে, খাতটি তত বেশি উন্নত হবে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে পশু সুস্থ ও রোগমুক্ত কি না এবং সেটি মানুষের খাওয়ার উপযোগী কি না— তা নিশ্চিত করতে হবে। বর্তমানে মানুষ খাদ্য নিরাপত্তাকে আগের তুলনায় অনেক বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়লে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা আরও সহজ হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে চায়। এ খাতের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দেশের প্রতিটি বিভাগে একটি করে বিশেষায়িত ভেটেরিনারি হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা নিয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে।
ভেটেরিনারিয়ানদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, অর্থমন্ত্রী ও অর্থসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীকেও বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
ভেটেরিনারি গ্র্যাজুয়েটদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ফিশারিজ সেক্টরেও প্রায় ৫০০টি পদের অনুমোদন হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট খাতের দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন বলেন, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাত দেশের অর্থনীতি, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। তাই এ দুটি খাতের আধুনিকায়ন, গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির ওপর সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। গবেষণালব্ধ জ্ঞান যেন মাঠপর্যায়ে কাজে লাগানো যায়, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য খাতে নতুন প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক জ্ঞান যুক্ত করা গেলে দেশের মানুষের পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ময়মনসিংহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে ফজলুল হক ভূঁইয়া, ভেটেরিনারি সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. বাহানুর রহমান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান ও ইন্টার অ্যাগ্রো বিডি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. এ কে এম খসরুজ্জামান।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 

























