সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

‘হানি ট্র্যাপে’ শিক্ষককে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৪

শিক্ষককে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে গ্রেপ্তার চার সদস্য। ছবি: সংগৃহীত

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের এক নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম। এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তার বাসায় আসতে বলেন।

 

 

জরুরি বিষয়ের কথা শুনে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় গেলে সেখানে মিলিসহ আরও দু-তিনজন তাকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর অভিযানে নামে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ অভিযান চালানোর পর বুধবার চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

 

পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন।

 

 

 

 

তিনি বলেন, পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন চক্রের সদস্যরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

‘হানি ট্র্যাপে’ শিক্ষককে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৪

আপডেট টাইম : ১২:০১:০০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নওগাঁয় এক স্কুলশিক্ষককে বাসায় ডেকে নিয়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় এবং জোর করে স্ট্যাম্প ও চেকে স্বাক্ষর নেওয়ার অভিযোগে ‘হানি ট্র্যাপ’ চক্রের এক নারীসহ চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নেওয়া ৩০০ টাকার স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার একটি চেক উদ্ধার করা হয়েছে।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন নওগাঁর পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম। এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

 

 

 

 

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নওগাঁ সদর উপজেলার কোমাইগাড়ি পূর্বপাড়ার মোছা. চামেলী আক্তার মিলি (৪৫), আত্রাই উপজেলার বেড়াহাসন এলাকার রাকিব হাসান (২৯), বদলগাছী উপজেলার নিহনপুর পূর্বপাড়ার সোহরাব হোসেন (২৬) এবং বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার ফুটানিগঞ্জ এলাকার নাঈম হোসেন (২৫)।

পুলিশ জানায়, জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার এক স্কুলশিক্ষকের সঙ্গে পূর্বপরিচিত ছিলেন চামেলী আক্তার মিলি। প্রয়োজনের সময় তাদের মধ্যে মুঠোফোনে যোগাযোগ হতো। গত ২৫ আগস্ট বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মিলি ওই শিক্ষককে ফোন করে জরুরি কথা আছে জানিয়ে নওগাঁ শহরে তার বাসায় আসতে বলেন।

 

 

জরুরি বিষয়ের কথা শুনে ওই শিক্ষক মিলির বাসায় গেলে সেখানে মিলিসহ আরও দু-তিনজন তাকে আটক করেন। একপর্যায়ে মারধরের ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায় করা হয়। পরে ৩০০ টাকার একটি সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর এবং দুই লাখ টাকার একটি চেক লিখে নেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

 

 

 

 

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিযোগ করলে নওগাঁ সদর থানায় মামলা করা হয়। এরপর অভিযানে নামে পুলিশ। প্রায় এক সপ্তাহ অভিযান চালানোর পর বুধবার চক্রটির চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর নেওয়া স্ট্যাম্প ও দুই লাখ টাকার চেক উদ্ধার করা হয়।

 

 

 

 

 

পুলিশ সুপার মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আন্তঃউপজেলা ভিত্তিতে একটি প্রতারক চক্র হিসেবে কাজ করতেন। তারা বিভিন্ন ব্যক্তিকে নানা ধরনের প্রলোভন দেখিয়ে নির্দিষ্ট স্থানে ডেকে নিতেন।

 

 

 

 

তিনি বলেন, পরে ভয়ভীতি দেখানো, ছবি ধারণ কিংবা ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে টাকা আদায় করতেন চক্রের সদস্যরা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।