চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনিতে হিজড়া গুরুমা মৌসুমী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে প্রধান সন্দেহভাজন মো. মোমিন ওরফে শেখ রনিকে (৩৪) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর সাগরিকা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন এক যুবক। ঘটনাস্থল ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, রাত ১টা ১৪ মিনিটে সাদা টি-শার্ট পরিহিত ওই যুবক মৌসুমীর ঘরে প্রবেশ করেন। পরে রাত ৩টা ৫২ মিনিটে তাকে ঘর থেকে বের হয়ে যেতে দেখা যায়।
সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে ওই যুবককে মোমিন ওরফে শেখ রনি হিসেবে শনাক্ত করে পুলিশ।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ঘটনার রাতে ভোরের দিকে মৌসুমীর ঘর থেকে বাগবিতণ্ডার শব্দ শুনেছিলেন প্রতিবেশীরা। তবে পরিচিত কেউ মৌসুমীর বাসায় এসেছেন মনে করে তারা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরদিন ৫ সেপ্টেম্বর সকালে দীর্ঘ সময় মৌসুমীর কোনো সাড়া না পেয়ে হিজড়া সম্প্রদায়ের সদস্য পাখি রহমান তার ঘরে প্রবেশ করেন। এ সময় তিনি মৌসুমীকে রক্তাক্ত ও নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে খুলশী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, ৫২ বছর বয়সী মৌসুমী হিজড়াকে মারধরের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।
তদন্তে মৌসুমীর ঘর থেকে নগদ টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন নিখোঁজ থাকার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যাকাণ্ডের আগের দিন মৌসুমী একটি গরু বিক্রি করে বেশ কিছু টাকা ঘরে রেখেছিলেন। পরদিন আরও গরু কেনার কথা ছিল তার।
এ কারণে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে টাকা লুটের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, নাকি অন্য কোনো কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, সেটিও তদন্ত করা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মোমিন ওরফে শেখ রনির বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার সব্দলপুর গ্রামে। তিনি চট্টগ্রাম নগরীর পাহাড়তলী এলাকার পাঠানপাড়ায় ফাল্গুনী হিজড়া নামে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর বাসায় থাকতেন। সেখানে তিনি ফাল্গুনীর কথিত স্বামী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের বায়েজিদ বোস্তামী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. আরিফ হোসেন বলেন, ‘সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে মোমিন ওরফে শেখ রনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।’
তিনি বলেন, হত্যাকাণ্ডের পেছনের প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

ন্যাশনাল ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম 




















