সিরাজগঞ্জ , বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::
Logo প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে জয় ৪৯ জনের Logo রূপপুর পারমাণবিক কেন্দ্রে জ্বালানি সরবরাহে রাশিয়ার সময়সীমা Logo এসএসসি সনদ সার্ভারে আপলোড বাধ্যতামূলক করল নির্বাচন কমিশন Logo প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের গাড়িতে ধাক্কা, বাসচালক গ্রেপ্তার Logo বাংলাদেশ–নিউজিল্যান্ড ম্যাচে বৃষ্টি, দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি পরিত্যক্ত Logo ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য ৩ মাসের বিশেষ সহায়তা ঘোষণা Logo প্লাস্টিকের চেয়ারই চলাচলের একমাত্র সম্বল: চিকিৎসার অভাবে ধুঁকছেন বৃদ্ধ হুরমুজ আলী Logo বন্যার অবনতি হতে পারে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে Logo সিরাজগঞ্জে এক সপ্তাহে ৪ শিশু ধর্ষণ-বলাৎকারের শিকার Logo ইমাম খোমেনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ৫৭ দিন পর ফ্লাইট চালু হলো

১৭ শিক্ষকের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন!

“মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ জন শিক্ষক” এমন অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে একটি দাখিল মাদ্রাসায়, যা শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর পরিচালনা কমিটি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকলেও শিক্ষক সংখ্যা কমেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির দাখিলকৃত তালিকায় ২৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট উপস্থিত শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে সেখানে আলু সংরক্ষণ করেছেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম। মাদ্রাসার এক পিয়ন জানান, বারবার অনুরোধ করলেও আলু সরানো হয়নি।

 

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় দুইজন শিক্ষক থাকলেও এখানে পড়তে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী নয়। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান, অথচ এখানে উপবৃত্তির জন্য নাম ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

 

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস নিয়মিত হলেও শিক্ষার্থী খুবই কম। অনেক সময় একটি শ্রেণিতে দুই-তিনজনের বেশি থাকে না।

 

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হলেও অনেক অভিভাবক ও দাতা সদস্য এ বিষয়ে অবগত নন।

 

মাদ্রাসার সুপারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। এমনকি ১ এপ্রিলের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা প্রদর্শনেও ব্যর্থ হন। এ সময় কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া হাজিরা খাতা দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি মাদ্রাসার বর্তমান কমিটির সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য বলেও জানা গেছে।

 

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, আমি এখনো ওই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাইনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানান, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

প্রতিদ্বন্দ্বীহীন নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে জয় ৪৯ জনের

১৭ শিক্ষকের মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন!

আপডেট টাইম : ০৮:০২:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬

“মাত্র ৯ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে ১৭ জন শিক্ষক” এমন অস্বাভাবিক চিত্র দেখা গেছে একটি দাখিল মাদ্রাসায়, যা শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

 

জানা গেছে, জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার বোড়াই রাহিমা খাতুন দাখিল মাদ্রাসায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ১৯৮০ সালের ১ জানুয়ারি প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসাটি ১৯৯৩ সালে এমপিওভুক্ত হয়। তবে দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর পরিচালনা কমিটি ও দুর্বল ব্যবস্থাপনার কারণে প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষার্থীদের আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হয়। ফলে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমতে থাকলেও শিক্ষক সংখ্যা কমেনি।

 

প্রতিষ্ঠানটির দাখিলকৃত তালিকায় ২৪৫ জন শিক্ষার্থীর নাম থাকলেও সরেজমিনে দেখা যায়, ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত মোট উপস্থিত শিক্ষার্থী মাত্র ৯ জন। উপস্থিতির হার প্রায় ৩ শতাংশে নেমে এসেছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, মাদ্রাসার মাঠ ও শ্রেণিকক্ষ বন্ধ রেখে সেখানে আলু সংরক্ষণ করেছেন বর্তমান পরিচালনা কমিটির সভাপতি রবিউল ইসলাম। মাদ্রাসার এক পিয়ন জানান, বারবার অনুরোধ করলেও আলু সরানো হয়নি।

 

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আব্দুল কাইয়ুম বলেন, প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য প্রায় দুইজন শিক্ষক থাকলেও এখানে পড়তে শিক্ষার্থীরা আগ্রহী নয়। অনেক শিক্ষক নিজেদের সন্তানদের অন্য প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করান, অথচ এখানে উপবৃত্তির জন্য নাম ব্যবহার করে অর্থ উত্তোলনের অভিযোগ রয়েছে।

 

নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানায়, ক্লাস নিয়মিত হলেও শিক্ষার্থী খুবই কম। অনেক সময় একটি শ্রেণিতে দুই-তিনজনের বেশি থাকে না।

 

এছাড়া স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্ট রবিউল ইসলামকে সভাপতি করে ১১ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হলেও অনেক অভিভাবক ও দাতা সদস্য এ বিষয়ে অবগত নন।

 

মাদ্রাসার সুপারের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক কোনো জবাব দিতে পারেননি। এমনকি ১ এপ্রিলের হাজিরা খাতা দেখতে চাইলে তা প্রদর্শনেও ব্যর্থ হন। এ সময় কৃষি শিক্ষিকা সুলতানা রাজিয়া হাজিরা খাতা দেখাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে উত্তেজিত আচরণ করেন। তিনি মাদ্রাসার বর্তমান কমিটির সংরক্ষিত মহিলা শিক্ষক সদস্য বলেও জানা গেছে।

 

কালাই উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. জাবেদ ইকবাল হাসান বলেন, আমি এখনো ওই প্রতিষ্ঠানে পরিদর্শনে যাইনি। বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

কালাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামীম আরা জানান, বিষয়টি শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।