ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সংগীতশিল্পী ও বন্ধু অনুপম রায়ের প্রাক্তন স্ত্রী পিয়া চক্রবর্তীকে বিয়ে করার পর কম সমালোচনা হয়নি টালিউড অভিনেতা পরমব্রত চ্যাটার্জিকে। ‘বন্ধুর বউকে চুরি’, ‘পরকীয়া’ এমন ট্রলের শিকার হতে হয়েছে তাকে। দীর্ঘ সময় চুপ থাকার পর অবশেষে সেইসমালোচনার জবাব দিলেন এই অভিনেতা।
সম্প্রতি এক পডকাস্টে অতিথি হিসেবে হাজির হয়ে পরমব্রত জানান, বিয়ের সময় সামাজিকমাধ্যমে তাকে ও পিয়াকে নিয়ে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা মোকাবেলায় তিনি নিজেকে শক্ত করেছেন।
অভিনেতার ভাষায়, আমি বিয়ের সময় এই গণ্ডারের চামড়াটা তৈরি করেছি।
নোংরা আক্রমণে মানসিক ধাক্কা নেটিজেনদের লাগামহীন আক্রমণ তাকে মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত করেছিল, তা জানিয়ে তিনি বলেন, বিয়ের পর দেখলাম, একটা বীভৎস কাণ্ড শুরু হলো! ওই সব আমার ওপর প্রভাব ফেলেছিল, মোটামুটি ৪-৫ দিনের জন্য। মানুষ যে ধরনের কথা লেখে বা লিখতে পারে… আমি সেই ন্যায়বোধ বা নীতিবোধের মধ্যে দিয়ে বড় হইনি। ফলে সাংঘাতিক ধাক্কা লেগেছিল।
তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, এখানে নেমেছে মানুষ? এতটা? কিন্তু নেমেছে, আমি কী করব? আমার কিছু করার নেই। তখন থেকেই গণ্ডারের চামড়া তৈরি করি।
এই ঘটনার পর থেকে সামাজিকমাধ্যমের প্রতি নিজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে ফেলেছেন পরমব্রত। তার কথায়, আমি ব্যক্তিগতভাবে কী মনে করি, অর্থাৎ সমাজ বা রাজনীতি নিয়ে আমার কী ধারণা তা শেয়ার করে কাজ নেই।
কারণ আমি কোনো দেশ বদলাতে যাচ্ছি না। আর যদি তা নিয়ে লিখি, তাহলে কমেন্ট অফ করে দেব আর দেখবই না।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গায়ক অনুপম রায়ের সঙ্গে পিয়া চক্রবর্তীর বিয়ে হয়েছিল। ২০২১ সালে বিচ্ছেদের পর পরমব্রতের সঙ্গে পিয়ার সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং ২০২৩ সালের নভেম্বরে তারা আইনিভাবে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরমব্রত ও অনুপমের বন্ধু হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়।
তবে পরবর্তীতে অনুপম রায়ও গায়িকা প্রশ্মিতা পালকে বিয়ে করলে সেই বিতর্ক কিছুটা থামে।