ঠাকুরগাঁওয়ের ভূল্লী উপজেলায় নদীতে গোসল করতে নেমে মো. হাবিব (১০) নামে এক পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া জোদ্দাপাড়া এলাকায় ভূল্লী নদীতে এ হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, সহপাঠী, শিক্ষক ও এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত মো. হাবিব ভূল্লী উপজেলার বড় বালিয়া ইউনিয়নের ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের মো. মোনাহার এর ছেলে। সে শিমুলতলী ব্র্যাক স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া করে একদিন বড় মানুষ হবে হাবিব। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ার আগেই নির্মমভাবে থেমে গেল তার জীবন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ের পাঠ শেষে বাড়িতে ফিরে বন্ধুদের সঙ্গে ভূল্লী নদীর জোদ্দাপাড়া এলাকায় গোসল করতে যায় হাবিব। গোসলের একপর্যায়ে খেলতে খেলতে নদীর গভীর পানিতে চলে যায় সে। সাঁতার না জানায় মুহূর্তের মধ্যেই পানিতে তলিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায়।
সঙ্গে থাকা অন্য শিশুরা চিৎকার শুরু করলে স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে এলাকাবাসীর সহযোগিতায় নদীতে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর হাবিবকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। সন্তানের নিথর দেহ জড়িয়ে বাবা-মায়ের কান্নায় উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। খবর ছড়িয়ে পড়লে গ্রামের শত শত মানুষ নিহতের বাড়িতে ভিড় করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভূল্লী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নূরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “স্কুলছাত্র হাবিব গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে যায়। স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”
এদিকে, বর্ষা মৌসুমে নদী-নালা ও জলাশয়ের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু-কিশোরদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, নদীতে শিশুদের একা গোসল করতে না দেওয়া, ঝুঁকিপূর্ণ ঘাটে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা গেলে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভব।
হাবিবের অকাল মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো ভূল্লী এলাকার জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তার এই করুণ মৃত্যু আবারও স্মরণ করিয়ে দিল—এক মুহূর্তের অসতর্কতায় ঝরে যেতে পারে একটি সম্ভাবনাময় শিশুর জীবন।

শাহিন আলম, ভূল্লী (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি। জনতার কণ্ঠ.কম 




















