সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইলন মাস্কের নতুন চমক, স্টিয়ারিং-প্যাডেলহীন সাইবারক্যাব

কোনো ধরনের স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক প্যাডেল ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলা এমন কয়েক ডজন ‘সাইবারক্যাব’ আমেরিকার টেক্সাসের অস্টিন শহরের নামানো হয়েছে। বিশেষ এ বাহনটি লঞ্চ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) টেক্সাসের অস্টিনের রাস্তায় নামানো হয় ডজনখানেক স্বচালিত এ সাইবারক্যাব। লঞ্চের পর শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানও হওয়ার কথা ছিল।

 

 

 

 

ইলন মাস্ক আশা করছেন যে, আমেরিকানরা ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ যাত্রার ভয় কাটিয়ে এতে চড়ে বসবে।

আরও পড়ুন: কিয়েভে রুশ হামলায় আতঙ্ক, ক্ষয়ক্ষতি বেসামরিক এলাকায়

সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় টেসলার শেয়ারের দরপতন ঘটে। তাই এই ভবিষ্যৎমুখী ট্যাক্সি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এমন আশাবাদ থেকে গাড়িটি নামানো হয়। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।

লঞ্চের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ টেসলা ঘোষণা দেয়, ‘কোনো স্টিয়ারিং হুইল নেই, কোনো প্যাডেল নেই’। এরপর মাস্ক অস্টিনের আকাশসীমার ওপরে ভাসমান একটি বিশাল সাইবারক্যাবের ছবি পোস্ট করেন এবং পরে লেখেন, ‘সাইবারক্যাবের ঝড়।’

চালকবিহীন ট্যাক্সি বা রোবোট্যাক্সির সংখ্যা এবং সম্পন্ন করা ট্রিপের দিক থেকে টেসলার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ‘ওয়েমো’। এই ব্যবধান কমাতে হলে টেসলাকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের শুধু ক্যামেরা নির্ভর সিস্টেম নিরাপদে রাস্তা পার হতে এবং পথচারীদের বাঁচাতে সক্ষম। অন্যদিকে, ওয়েমো এবং অ্যামাজনের জুক্স-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যামেরার পাশাপাশি রাডার এবং লিডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। প্রযুক্তিটি ভালোভাবে কাজ করলেও আমেরিকান জনগণদের এখনো বোঝাতে হবে এর সঠিক ব্যবহার।

 

 

 

 

গত ফেব্রুয়ারিতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৭ জনই চালকবিহীন গাড়িতে চড়ার বিষয়ে একেবারেই স্বস্তিবোধ করেন না।

 

 

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের জন্যও ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের

 

 

এর আগে গতবছর টেসলার শেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটেছিল। যখন মাস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডোজ’ নামক সরকারি ব্যয় সংকোচন অভিযানের দায়িত্ব নেন এবং উগ্র-ডানপন্থি রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন করেন। এর ফলে বেশ কয়েকটি দেশে টেসলার শোরুমগুলোতে বিক্ষোভ এবং গাড়ি ক্রেতারা বয়কট শুরু করেন। গত বছর টেসলার গাড়ি বিক্রিতে টানা দ্বিতীয় বার্ষিক পতন দেখা গেছে।

 

 

 

 

গত বছরের জুন মাস থেকে অস্টিনে একটি স্বচালিত টেসলা ‘রোবোট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু আছে, কিন্তু সেই গাড়িগুলোতে স্টিয়ারিং হুইল এবং ব্রেক প্যাডেল রয়েছে। এ পরিষেবাটি পরে সময় টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার আরও পাঁচটি শহরে প্রসারিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাত্রীদের বহন করত এবং কোনো সমস্যা হলে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য গাড়িতে নিরাপত্তা চালকও থাকতেন।

 

 

 

 

পর্যবেক্ষণকারী সাইট রোবোট্যাক্সিট্র্যাকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ঐ শহরগুলোতে টেসলার ২০০টিরও বেশি ‘পরিচালকবিহীন’ রোবোট্যাক্সি রয়েছে। অর্থাৎ সেগুলো কোনো নিরাপত্তা চালক ছাড়াই চলাচল করে। অন্যদিকে, ১৪টি শহরে ওয়েমোর এই ধরনের ৪ হাজারের বেশি যানবাহন রয়েছে।

 

 

 

 

পিউ-এর সমীক্ষায়, ১৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন যে তারা চালকবিহীন গাড়িতে চড়তে ‘কিছুটা’ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, অন্যদিকে ৭ শতাংশ বলেছেন যে তারা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। জানুয়ারিতে পরিচালিত আরেকটি পিউ জরিপে দেখা গেছে যে, প্রায় দশজনের মধ্যে ছয়জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার সম্পর্কে বেশিরভাগই বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।

 

 

 

 

মাস্ক অবশেষে একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টেসলায় পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার পাঠানোর আশা করছেন। এতে টেসলার মালিকরা যখন তাদের গাড়ি ব্যবহার করবেন না, তখন সেগুলোকে ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সিতে পরিণত করতে পারবেন।

 

 

 

 

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পরিষ্কার করে জানিয়েছে মাস্ককে নিরাপত্তা নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশেই টেসলার আংশিক স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড ও ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এর নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কয়েকটি তদন্ত শুরু করেছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী কুয়াশা, অতিরিক্ত রোদ বা কম দৃশ্যমানতার কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং একজন পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনায় সফটওয়্যারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। সেলফ-ড্রাইভিং চালিত টেসলা গাড়িগুলোর লাল বাতি অমান্য করা বা ভুল দিক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

সূত্র: এবিসি নিউজ

2 thoughts on “ইলন মাস্কের নতুন চমক, স্টিয়ারিং-প্যাডেলহীন সাইবারক্যাব

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইলন মাস্কের নতুন চমক, স্টিয়ারিং-প্যাডেলহীন সাইবারক্যাব

আপডেট টাইম : ০৪:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কোনো ধরনের স্টিয়ারিং হুইল বা ব্রেক প্যাডেল ছাড়াই সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চলা এমন কয়েক ডজন ‘সাইবারক্যাব’ আমেরিকার টেক্সাসের অস্টিন শহরের নামানো হয়েছে। বিশেষ এ বাহনটি লঞ্চ করেছেন বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী প্রযুক্তি উদ্যোক্তা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এর প্রধান ইলন মাস্ক।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) টেক্সাসের অস্টিনের রাস্তায় নামানো হয় ডজনখানেক স্বচালিত এ সাইবারক্যাব। লঞ্চের পর শুধু আমন্ত্রিতদের জন্য একটি উদ্বোধন অনুষ্ঠানও হওয়ার কথা ছিল।

 

 

 

 

ইলন মাস্ক আশা করছেন যে, আমেরিকানরা ‘নিয়ন্ত্রণহীন’ যাত্রার ভয় কাটিয়ে এতে চড়ে বসবে।

আরও পড়ুন: কিয়েভে রুশ হামলায় আতঙ্ক, ক্ষয়ক্ষতি বেসামরিক এলাকায়

সাম্প্রতিক সময়ে গাড়ি বিক্রি কমে যাওয়ায় টেসলার শেয়ারের দরপতন ঘটে। তাই এই ভবিষ্যৎমুখী ট্যাক্সি দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠবে এমন আশাবাদ থেকে গাড়িটি নামানো হয়। এরপর থেকে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়।

লঞ্চের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ টেসলা ঘোষণা দেয়, ‘কোনো স্টিয়ারিং হুইল নেই, কোনো প্যাডেল নেই’। এরপর মাস্ক অস্টিনের আকাশসীমার ওপরে ভাসমান একটি বিশাল সাইবারক্যাবের ছবি পোস্ট করেন এবং পরে লেখেন, ‘সাইবারক্যাবের ঝড়।’

চালকবিহীন ট্যাক্সি বা রোবোট্যাক্সির সংখ্যা এবং সম্পন্ন করা ট্রিপের দিক থেকে টেসলার চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানি ‘ওয়েমো’। এই ব্যবধান কমাতে হলে টেসলাকে প্রমাণ করতে হবে যে তাদের শুধু ক্যামেরা নির্ভর সিস্টেম নিরাপদে রাস্তা পার হতে এবং পথচারীদের বাঁচাতে সক্ষম। অন্যদিকে, ওয়েমো এবং অ্যামাজনের জুক্স-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলো ক্যামেরার পাশাপাশি রাডার এবং লিডার প্রযুক্তি ব্যবহার করে থাকে। প্রযুক্তিটি ভালোভাবে কাজ করলেও আমেরিকান জনগণদের এখনো বোঝাতে হবে এর সঠিক ব্যবহার।

 

 

 

 

গত ফেব্রুয়ারিতে পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক জরিপে দেখা গেছে, আমেরিকার প্রতি ১০ জন প্রাপ্তবয়স্কের মধ্যে ৭ জনই চালকবিহীন গাড়িতে চড়ার বিষয়ে একেবারেই স্বস্তিবোধ করেন না।

 

 

আরও পড়ুন: ২০২৭ সালের জন্যও ইরান যুদ্ধের প্রস্তুতি ট্রাম্পের

 

 

এর আগে গতবছর টেসলার শেয়ারের ব্যাপক দরপতন ঘটেছিল। যখন মাস্ক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘ডোজ’ নামক সরকারি ব্যয় সংকোচন অভিযানের দায়িত্ব নেন এবং উগ্র-ডানপন্থি রাজনৈতিক প্রার্থীদের সমর্থন করেন। এর ফলে বেশ কয়েকটি দেশে টেসলার শোরুমগুলোতে বিক্ষোভ এবং গাড়ি ক্রেতারা বয়কট শুরু করেন। গত বছর টেসলার গাড়ি বিক্রিতে টানা দ্বিতীয় বার্ষিক পতন দেখা গেছে।

 

 

 

 

গত বছরের জুন মাস থেকে অস্টিনে একটি স্বচালিত টেসলা ‘রোবোট্যাক্সি’ পরিষেবা চালু আছে, কিন্তু সেই গাড়িগুলোতে স্টিয়ারিং হুইল এবং ব্রেক প্যাডেল রয়েছে। এ পরিষেবাটি পরে সময় টেক্সাস এবং ফ্লোরিডার আরও পাঁচটি শহরে প্রসারিত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে যাত্রীদের বহন করত এবং কোনো সমস্যা হলে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য গাড়িতে নিরাপত্তা চালকও থাকতেন।

 

 

 

 

পর্যবেক্ষণকারী সাইট রোবোট্যাক্সিট্র্যাকার-এর তথ্য অনুযায়ী, ঐ শহরগুলোতে টেসলার ২০০টিরও বেশি ‘পরিচালকবিহীন’ রোবোট্যাক্সি রয়েছে। অর্থাৎ সেগুলো কোনো নিরাপত্তা চালক ছাড়াই চলাচল করে। অন্যদিকে, ১৪টি শহরে ওয়েমোর এই ধরনের ৪ হাজারের বেশি যানবাহন রয়েছে।

 

 

 

 

পিউ-এর সমীক্ষায়, ১৬ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক বলেছেন যে তারা চালকবিহীন গাড়িতে চড়তে ‘কিছুটা’ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন, অন্যদিকে ৭ শতাংশ বলেছেন যে তারা খুবই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। জানুয়ারিতে পরিচালিত আরেকটি পিউ জরিপে দেখা গেছে যে, প্রায় দশজনের মধ্যে ছয়জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক তার সম্পর্কে বেশিরভাগই বিরূপ মনোভাব পোষণ করেন।

 

 

 

 

মাস্ক অবশেষে একটি সফটওয়্যার আপডেটের মাধ্যমে লাখ লাখ টেসলায় পূর্ণাঙ্গ স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার পাঠানোর আশা করছেন। এতে টেসলার মালিকরা যখন তাদের গাড়ি ব্যবহার করবেন না, তখন সেগুলোকে ভাড়ায় চালিত ট্যাক্সিতে পরিণত করতে পারবেন।

 

 

 

 

তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বিদেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো পরিষ্কার করে জানিয়েছে মাস্ককে নিরাপত্তা নিয়ে আরও অনেক দূর যেতে হবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অধিকাংশ দেশেই টেসলার আংশিক স্বয়ংক্রিয় ড্রাইভিং সফটওয়্যার ব্যবহারের অনুমোদন পায়নি। যুক্তরাষ্ট্রে যেখানে সফটওয়্যারটি ডাউনলোড ও ব্যবহার করা হয়েছে, সেখানে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো এর নিরাপত্তা নিয়ে বেশ কয়েকটি তদন্ত শুরু করেছে।

 

 

 

 

এ ছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও এই সফটওয়্যারের নিরাপত্তা নিয়ে একাধিক তদন্ত চলছে। তদন্ত অনুযায়ী কুয়াশা, অতিরিক্ত রোদ বা কম দৃশ্যমানতার কারণে বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনা এবং একজন পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনায় সফটওয়্যারের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলছে। সেলফ-ড্রাইভিং চালিত টেসলা গাড়িগুলোর লাল বাতি অমান্য করা বা ভুল দিক দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দুর্ঘটনা ঘটায়। সে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

 

 

সূত্র: এবিসি নিউজ