সিরাজগঞ্জ , শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সংবাদ শিরোনাম ::

আগামীকাল মঞ্চস্থ হবে ‘হ্যানিম্যান’ নাটকের পঞ্চম প্রদর্শনী

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জীবন, সংগ্রাম ও কর্মযাত্রা উঠে এসেছে একক নাটক ‘হ্যানিম্যান’-এ। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৫তম প্রযোজনাটি এবার পঞ্চমবারের মতো মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। এতে নাম ভূমিকায় একক অভিনয় করবেন অভিনেতা ও মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের দলীয় প্রধান মীর জাহিদ হাসান।

 

 

 

 

ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ৮৮ বছরের জীবনের শেষ অধ্যায়কে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘হ্যানিম্যান’। জার্মানি ছেড়ে জীবনের শেষ আট বছর ফ্রান্সে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসের সময় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজের আবিষ্কৃত পদ্ধতি, রোগীর ওপর তার প্রয়োগ, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির কারণে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হওয়া, চিকিৎসা চর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ প্রদেশের সন্ধান এবং ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ গ্রন্থ বারবার সংযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে।

 

এর পাশাপাশি প্রথম স্ত্রীর সান্নিধ্যে সৃজনশীলতা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর সান্নিধ্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়া, সন্তান হারানোর বেদনা এবং ব্যক্তিজীবনের নানা টানাপোড়েনও উঠে এসেছে নাটকটিতে। জীবনের সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে থাকে, এই ভাবনাকে ধারণ করেই এগিয়েছে ‘হ্যানিম্যান’। মানুষের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হলেও রোগের চিকিৎসা রয়েছে, এই বিশ্বাসকেই নাটকের অন্যতম মূল বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, “মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে- এই অমোঘ সত্য জানা ও জানানোর ব্রত নিয়েই ‘হ্যানিম্যান’ নাটকটি লেখা। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দল নাটকটি নির্মাণ করেছে, এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।”

নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, ‘মহড়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে, এটি শুধু একজন চিকিৎসকের জীবনকাহিনি নয়; এটি মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও মানবিকতার গল্প। নাটকের সংলাপ ও ঘটনাপ্রবাহ দর্শককে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেবে। পাশাপাশি হ্যানিম্যান চরিত্রে মীর জাহিদ হাসানকে দর্শক ভিন্ন ও নতুন এক রূপে আবিষ্কার করবেন।’

 

 

 

 

নাটকটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করা মীর জাহিদ হাসান বলেন, “আমার পাঁচ দশকের মঞ্চ পরিভ্রমণের সবটুকু অভিজ্ঞতা দিয়ে সম্মানিত দর্শকদের সামনে নাটকটি উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং যাব। ‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে’- এই অমোঘ বাক্যটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থিত হতে চেয়েছি। দর্শক ভালোবেসে আমাকে ও আমার অভিনয়কে গ্রহণ করবেন, সবার আশীর্বাদ প্রত্যাশী।”

 

 

 

 

‘হ্যানিম্যান’ প্রযোজনায় নেপথ্যে রয়েছেন আলোক পরিকল্পনায় আবু আজাদ, সেট ও প্রপসে পলাশ হেনড্রী সেন, পোশাকে আইরিন পারভীন লোপা, মিউজিকে হামিদুর রহমান পাপ্পু, কোরিওগ্রাফিতে সৈয়দা কানিজ ফাতেমা লিসা, মেকআপে শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, পোস্টারে চারু পিন্টু এবং স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফিতে নাফিস ইসলাম। প্রচার ও প্রকাশনা তত্ত্বাবধানে রাজীব দেব, টিকিট ব্যবস্থাপনায় ইকবাল হাফিজ, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মো. ইকবাল হোসেন, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় পলি বিশ্বাস এবং প্রযোজনা অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।

One thought on “আগামীকাল মঞ্চস্থ হবে ‘হ্যানিম্যান’ নাটকের পঞ্চম প্রদর্শনী

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রেস ব্রিফিংয়ে মুখোমুখি ফাইটাররা, প্রশ্নোত্তরের পাশাপাশি দেখালেন বক্সিং পোজ

আগামীকাল মঞ্চস্থ হবে ‘হ্যানিম্যান’ নাটকের পঞ্চম প্রদর্শনী

আপডেট টাইম : ০৬:০৫:৩৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার জনক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জীবন, সংগ্রাম ও কর্মযাত্রা উঠে এসেছে একক নাটক ‘হ্যানিম্যান’-এ। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৫তম প্রযোজনাটি এবার পঞ্চমবারের মতো মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে। আগামীকাল (১২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে নাটকটির প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে।

 

 

 

 

অপূর্ব কুমার কুণ্ডুর রচনায় নাটকটি নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়। এতে নাম ভূমিকায় একক অভিনয় করবেন অভিনেতা ও মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের দলীয় প্রধান মীর জাহিদ হাসান।

 

 

 

 

ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের ৮৮ বছরের জীবনের শেষ অধ্যায়কে কেন্দ্র করেই নির্মিত হয়েছে ‘হ্যানিম্যান’। জার্মানি ছেড়ে জীবনের শেষ আট বছর ফ্রান্সে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে বসবাসের সময় চিকিৎসাবিজ্ঞানে নিজের আবিষ্কৃত পদ্ধতি, রোগীর ওপর তার প্রয়োগ, নতুন চিকিৎসাপদ্ধতির কারণে ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হওয়া, চিকিৎসা চর্চা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নিরাপদ প্রদেশের সন্ধান এবং ‘মেটেরিয়া মেডিকা’ গ্রন্থ বারবার সংযোজনের মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো নাটকের কাহিনিতে উঠে এসেছে।

 

এর পাশাপাশি প্রথম স্ত্রীর সান্নিধ্যে সৃজনশীলতা এবং দ্বিতীয় স্ত্রীর সান্নিধ্যে প্রতিষ্ঠা পাওয়া, সন্তান হারানোর বেদনা এবং ব্যক্তিজীবনের নানা টানাপোড়েনও উঠে এসেছে নাটকটিতে। জীবনের সংকটের মধ্যেই সম্ভাবনার বীজ লুকিয়ে থাকে, এই ভাবনাকে ধারণ করেই এগিয়েছে ‘হ্যানিম্যান’। মানুষের মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী হলেও রোগের চিকিৎসা রয়েছে, এই বিশ্বাসকেই নাটকের অন্যতম মূল বক্তব্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

নাট্যকার অপূর্ব কুমার কুণ্ডু বলেন, “মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে- এই অমোঘ সত্য জানা ও জানানোর ব্রত নিয়েই ‘হ্যানিম্যান’ নাটকটি লেখা। মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের মতো ঐতিহ্যবাহী একটি দল নাটকটি নির্মাণ করেছে, এজন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা।”

নির্দেশক শুভাশীষ দত্ত তন্ময় বলেন, ‘মহড়ার মধ্য দিয়েই স্পষ্ট হয়েছে, এটি শুধু একজন চিকিৎসকের জীবনকাহিনি নয়; এটি মানুষের জীবন, সংগ্রাম ও মানবিকতার গল্প। নাটকের সংলাপ ও ঘটনাপ্রবাহ দর্শককে নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা দেবে। পাশাপাশি হ্যানিম্যান চরিত্রে মীর জাহিদ হাসানকে দর্শক ভিন্ন ও নতুন এক রূপে আবিষ্কার করবেন।’

 

 

 

 

নাটকটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করা মীর জাহিদ হাসান বলেন, “আমার পাঁচ দশকের মঞ্চ পরিভ্রমণের সবটুকু অভিজ্ঞতা দিয়ে সম্মানিত দর্শকদের সামনে নাটকটি উপস্থাপন করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং যাব। ‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে’- এই অমোঘ বাক্যটিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিনয়শৈলীর মাধ্যমে দর্শকের সামনে উপস্থিত হতে চেয়েছি। দর্শক ভালোবেসে আমাকে ও আমার অভিনয়কে গ্রহণ করবেন, সবার আশীর্বাদ প্রত্যাশী।”

 

 

 

 

‘হ্যানিম্যান’ প্রযোজনায় নেপথ্যে রয়েছেন আলোক পরিকল্পনায় আবু আজাদ, সেট ও প্রপসে পলাশ হেনড্রী সেন, পোশাকে আইরিন পারভীন লোপা, মিউজিকে হামিদুর রহমান পাপ্পু, কোরিওগ্রাফিতে সৈয়দা কানিজ ফাতেমা লিসা, মেকআপে শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, পোস্টারে চারু পিন্টু এবং স্থিরচিত্র ও ভিডিওগ্রাফিতে নাফিস ইসলাম। প্রচার ও প্রকাশনা তত্ত্বাবধানে রাজীব দেব, টিকিট ব্যবস্থাপনায় ইকবাল হাফিজ, মঞ্চ ব্যবস্থাপনায় মো. ইকবাল হোসেন, প্রযোজনা ব্যবস্থাপনায় পলি বিশ্বাস এবং প্রযোজনা অধিকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ।