ব্রাজিলের তেল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ বিদেশিদের নিয়ন্ত্রণে যেতে দেওয়া হবে না বলে অঙ্গীকার করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তার মতে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহার করে অভ্যন্তরীণ শিল্পের বিকাশ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে হবে। অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে তিনি এমন দৃঢ় ঘোষণা দিলেন।
মঙ্গলবার আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে লুলার বক্তব্য তুলে ধরা হয়। লুলা বলেন, ‘অক্টোবরে নির্বাচন আসলে ঝুঁকিতে আছে, আপনারা দেশের জন্য কী চান। আপনারা কেমন ভবিষ্যৎ চান?’ এ সময় তিনি ভেনেজুয়েলার তেল খাতের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি এবং দেশটির জ্বালানি সম্পদ নিয়ে কারাকাস ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া চুক্তির প্রসঙ্গ টানেন।
তিনি বলেন, ‘আপনারা কি এমন একটি দেশ চান, যেখানে তেল আমাদের থাকবে, নাকি এমন একটি দেশ চান, যেখানে ভেনেজুয়েলায় যা ঘটেছে, সেটিই ঘটবে?’
লুলা আরও বলেন, ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সম্পদ কাঁচামাল হিসেবে শুধু বিদেশে রপ্তানি না করে দেশে শিল্প গড়ে তোলা এবং কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যবহার করা উচিত।
বিশ্বজুড়ে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদের প্রতিযোগিতা বাড়ায় ব্রাজিলের নির্বাচনী প্রচারেও বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ইলেকট্রনিকসসহ আধুনিক প্রযুক্তির বিভিন্ন খাতে এসব খনিজের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
ব্রাজিলে বিরল মাটির খনিজের পাশাপাশি লিথিয়াম, নিকেল, কোবাল্ট, গ্রাফাইট ও ম্যাঙ্গানিজের উল্লেখযোগ্য মজুত রয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তরের জন্য এসব খনিজকে ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চলতি মাসের শুরুতে ব্রাজিলের কংগ্রেস গুরুত্বপূর্ণ ও কৌশলগত খনিজ সম্পদ নিয়ে একটি আইনি কাঠামো অনুমোদন করেছে। এর লক্ষ্য হলো এসব খনিজের দেশে প্রক্রিয়াজাতকরণ বাড়ানো এবং খাতটিতে বিনিয়োগ উৎসাহিত করা।
লুলা তার পুনর্নির্বাচন প্রচারে জাতীয় সার্বভৌমত্ব এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর দেশের নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে তুলে ধরছেন। চলতি মাসের শুরুতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো উপনিবেশ নই এবং কারও উপনিবেশ হব না।’ একই সঙ্গে ব্রাজিলের খনিজ ও তেল খাতে বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক। জনতার কণ্ঠ.কম। 






















