সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই মাথার শিশুকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার, সহায়তার আবেদন

মা তাছলিমা বেগমের কোলে শিশু মুসলিম উদ্দিন। ছবি: সংগৃহীত

রংপুরের পীরগাছায় জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট ১৫ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে বসতভিটা ছাড়া অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা রবিউল ইসলাম। বর্তমানে সামান্য জমির ওপর ঘর তুলে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন অসহায় এ বাবা-মা।

 

 

 

উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাদন গ্রামের সাকোয়ার বিল এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। চার সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে মুসলিম উদ্দিন জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হচ্ছে তাকে। পরিবারের দাবি, দিন দিন শিশুটির মাথা বড় হয়ে আসছে এবং ব্যথায় প্রায়ই দিন-রাত চিৎকার করে কাঁদে।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের পরিবারের সদস্য ছয়জন। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের প্রায় ৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশই বিক্রি করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ১ শতাংশ জমির ওপর বাড়িঘর করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

চৌধুরানী বাজারে একটি ছোট সাইকেল মেরামতের দোকানই রবিউল ইসলামের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সামান্য আয় দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর মধ্যে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় পরিবারটির ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাচ্ছি। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন মাত্র ১ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি করে থাকি। সংসারে উপার্জন করার মতো মানুষ আমি একাই। ছোট একটি দোকানে সাইকেল মেরামত করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন।

 

 

তিনি আরও বলেন, শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমার নেই। বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব। অন্যথায় সন্তানের মৃত্যু দেখা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।

 

 

 

শিশুটির মা তাছলিমা আক্তার বলেন, বর্তমানে টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। টাকার অভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে পারছি না। আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

প্রতিবেশী ভানু বেগম, হাবিবা আক্তার ও আমিনুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের এই শিশুটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একজন সাইকেল মেকানিকের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

 

 

 

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো রোগী বা সেবাগ্রহীতার বিষয়ে পরিবারটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়নি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুদানের পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

দুই মাথার শিশুকে নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার, সহায়তার আবেদন

আপডেট টাইম : ১১:২৫:২২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রংপুরের পীরগাছায় জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট ১৫ মাস বয়সী সন্তানকে নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে একটি পরিবার। সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে গিয়ে বসতভিটা ছাড়া অধিকাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছেন বাবা রবিউল ইসলাম। বর্তমানে সামান্য জমির ওপর ঘর তুলে স্ত্রী ও চার সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তিনি। অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে বিত্তবানদের সহায়তা চেয়েছেন অসহায় এ বাবা-মা।

 

 

 

উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দাদন গ্রামের সাকোয়ার বিল এলাকার বাসিন্দা রবিউল ইসলাম পেশায় একজন সাইকেল মেকানিক। চার সন্তানের মধ্যে ছোট ছেলে মুসলিম উদ্দিন জন্ম থেকেই দুই মাথাবিশিষ্ট। জন্মের পর থেকেই বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হচ্ছে তাকে। পরিবারের দাবি, দিন দিন শিশুটির মাথা বড় হয়ে আসছে এবং ব্যথায় প্রায়ই দিন-রাত চিৎকার করে কাঁদে।

 

 

 

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রবিউল ইসলামের পরিবারের সদস্য ছয়জন। দীর্ঘদিন ধরে শিশুটির চিকিৎসা করাতে গিয়ে পরিবারের প্রায় ৪ শতাংশ জমির মধ্যে ৩ শতাংশই বিক্রি করে দিতে হয়েছে। বর্তমানে অবশিষ্ট ১ শতাংশ জমির ওপর বাড়িঘর করে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছেন তিনি।

চৌধুরানী বাজারে একটি ছোট সাইকেল মেরামতের দোকানই রবিউল ইসলামের পরিবারের একমাত্র আয়ের উৎস। সামান্য আয় দিয়ে ছয় সদস্যের সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালাতেই হিমশিম খেতে হয় তাকে। এর মধ্যে অসুস্থ সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় পরিবারটির ওপর বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রবিউল ইসলাম বলেন, আমার ছেলেকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসা করাচ্ছি। চিকিৎসার খরচ চালাতে গিয়ে ৩ শতাংশ জমি বিক্রি করে দিয়েছি। এখন মাত্র ১ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি করে থাকি। সংসারে উপার্জন করার মতো মানুষ আমি একাই। ছোট একটি দোকানে সাইকেল মেরামত করে যা আয় হয়, তা দিয়ে সংসার চালানোই কঠিন।

 

 

তিনি আরও বলেন, শিশুটির চিকিৎসায় প্রায় চার লাখ টাকা প্রয়োজন। এত টাকা জোগাড় করার সামর্থ্য আমার নেই। বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে পারব। অন্যথায় সন্তানের মৃত্যু দেখা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।

 

 

 

শিশুটির মা তাছলিমা আক্তার বলেন, বর্তমানে টাকার অভাবে সন্তানের চিকিৎসা বন্ধ রয়েছে। টাকার অভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষাও করাতে পারছি না। আপনারা আমার সন্তানকে বাঁচাতে এগিয়ে আসুন। আমি আমার সন্তানকে নিয়ে বাঁচতে চাই।

 

 

 

প্রতিবেশী ভানু বেগম, হাবিবা আক্তার ও আমিনুল ইসলাম বলেন, দরিদ্র পরিবারের এই শিশুটিকে বাঁচাতে বিত্তবানদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। একজন সাইকেল মেকানিকের পক্ষে এত টাকা জোগাড় করা সম্ভব নয়।

 

 

 

এ বিষয়ে পীরগাছা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এনামুল হকের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো রোগী বা সেবাগ্রহীতার বিষয়ে পরিবারটির পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত তার দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়নি।

 

 

 

তিনি আরও বলেন, শিশুটির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে। অনুদানের পাশাপাশি শিশুটির চিকিৎসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাসও দেন তিনি।