সিরাজগঞ্জ , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মাপাড়ে ফিরল ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ, হাজারো মানুষের ভিড়

রাজবাড়ীর কালুখালীতে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ। ছবি: সংগৃহীত

পদ্মার পাড় জুড়ে উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে ছুটে চলছে বিশাল আকৃতির নৌকা, বৈঠার তালে তালে মাঝি-মাল্লাদের হইচই আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস।

 

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটে তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা শেষ হয়েছে। শেষ দিনের প্রতিযোগিতা দেখতে পদ্মা পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

 

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানুষকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রত্যাশার কথাও জানান তারা।

বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চারটি বিশাল আকৃতির নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাঁশির সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকে শুরু হয় নৌকাগুলোর ছুটে চলা। শক্ত হাতে বৈঠা চালিয়ে নির্ধারিত সীমানায় সবার আগে পৌঁছানোর লড়াইয়ে মেতে ওঠেন মাঝি-মাল্লারা।

পদ্মাপাড়ে ফিরল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

নদীর বুকজুড়ে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের সমস্বরে হাঁকডাক এবং তীরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

 

 

স্থানীয়রা জানান, একসময় গ্রাম বাংলার নদ-নদীতে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ আয়োজনে নিয়মিত বসত নৌকা বাইচের আসর। সময়ের সঙ্গে আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। কালুখালীর এ আয়োজন পুরোনো সেই স্মৃতিকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

একসময় গ্রাম বাংলার নদ-নদীতে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান উৎস। ঢাক-ঢোলের তালে তালে নদীর বুকে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন মানুষ। আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেলেও কালুখালীর মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটের আয়োজন আবারও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

 

 

নদীর বুকে বিশাল নৌকার ছুটে চলা, মাঝি-মাল্লাদের বৈঠার ছন্দ আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে তিনদিনের এ আয়োজন পদ্মাপাড়ে তৈরি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

পদ্মাপাড়ে ফিরল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

নৌকা বাইচ দেখতে ঢাকা থেকে মহেন্দ্রপুরে এসেছিলেন সেলিনা। জীবনে প্রথমবার সরাসরি নৌকা বাইচ দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল আনন্দের।

 

 

সেলিনা বলেন, আমি কখনো এ জায়গায় আসিনি, এসে ভালোই লাগছে। অনেক মানুষ দেখছি, নৌকার বাইচ দেখতে ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি। এর আগে টেলিভিশন বা ভিডিওতে নৌকা বাইচ দেখলেও বাস্তবে কখনো দেখিনি। স্বামী ও শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে এবারই প্রথম সরাসরি নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি।

 

 

৭৫ বছর বয়সী নজরুল বেপারী জানান, তিনি বহুবার নৌকা বাইচ দেখেছেন এবং একসময় নিজেও নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো জিনিস। মানুষের খুব আনন্দের বিষয়। যারা আয়োজন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। সুন্দর পরিবেশে আয়োজন করায় অনেক দর্শক এসেছে, গ্রাম বাংলার মানুষ আনন্দ পাচ্ছে।

 

 

নৌকা বাইচের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার। মেলায় বসে বাহারি পণ্য, খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় আসেন। পছন্দের পণ্য কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করেন তারা।

 

 

সাবরিনা নামের এক নারী জানান, নৌকা বাইচের কথা অনেকবার শুনেছেন, কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখেননি। প্রথমবার দেখে ভালো লাগার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এটি আমাদের ঐতিহ্য। পরবর্তী প্রজন্মের উচিত এসব ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া। সবাই আসুক, অংশগ্রহণ করুক এবং উপভোগ করুক।

 

 

প্রতি বছর এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে এবং পুরোনো ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানার সুযোগ পায়।

 

 

মেলার দোকানদার রিপন বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। দর্শনার্থীরা আনন্দের সঙ্গে ঘোরাফেরা করছেন, কেনাকাটাও করছেন। আমাদের দোকানদারদেরও সুন্দরভাবে বেচাকেনা হচ্ছে।

 

 

কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আয়োজক, মেহেদী হাসান তোতা বলেন, গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তিনদিনব্যাপী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

 

 

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, নৌকা বাইচ ও মেলাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিল। ইনার কর্ডন, নদীতে পুলিশ এবং আউটার কর্ডনে সিভিলের লোকজন ছিল। আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।

One thought on “পদ্মাপাড়ে ফিরল ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ, হাজারো মানুষের ভিড়

কমেন্ট লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার তথ্য গুলো সংরক্ষণ করে রাখুন

লেখক সম্পর্কে তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পদ্মাপাড়ে ফিরল ঐতিহ্যের নৌকা বাইচ, হাজারো মানুষের ভিড়

আপডেট টাইম : ১২:৩১:৩৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পদ্মার পাড় জুড়ে উৎসবের আমেজ। নদীর বুকে ছুটে চলছে বিশাল আকৃতির নৌকা, বৈঠার তালে তালে মাঝি-মাল্লাদের হইচই আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস।

 

 

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) উপজেলার মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটে তিনদিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলা শেষ হয়েছে। শেষ দিনের প্রতিযোগিতা দেখতে পদ্মা পাড়ে জড়ো হন হাজারো মানুষ। নৌকা বাইচকে ঘিরে নদীর তীর ও আশপাশের এলাকায় তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

 

 

আয়োজকরা জানান, গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা এবং মানুষকে সুস্থ বিনোদনের সুযোগ করে দেওয়ার লক্ষ্যেই এ আয়োজন। একই সঙ্গে মাদক, জুয়া ও বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে মানুষকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা তৈরির প্রত্যাশার কথাও জানান তারা।

বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থান থেকে আসা চারটি বিশাল আকৃতির নৌকা প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাঁশির সংকেতের সঙ্গে সঙ্গে নদীর বুকে শুরু হয় নৌকাগুলোর ছুটে চলা। শক্ত হাতে বৈঠা চালিয়ে নির্ধারিত সীমানায় সবার আগে পৌঁছানোর লড়াইয়ে মেতে ওঠেন মাঝি-মাল্লারা।

পদ্মাপাড়ে ফিরল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

নদীর বুকজুড়ে নৌকার ছুটে চলা, মাঝিদের সমস্বরে হাঁকডাক এবং তীরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাসে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলায়। প্রতিযোগিতার প্রতিটি মুহূর্ত উপভোগ করতে নদীর দুই পাড়ে ভিড় করেন অসংখ্য মানুষ।

 

 

স্থানীয়রা জানান, একসময় গ্রাম বাংলার নদ-নদীতে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। বিভিন্ন উৎসব ও বিশেষ আয়োজনে নিয়মিত বসত নৌকা বাইচের আসর। সময়ের সঙ্গে আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে যেতে বসেছে। কালুখালীর এ আয়োজন পুরোনো সেই স্মৃতিকেই যেন নতুন করে সামনে নিয়ে এসেছে।

 

 

একসময় গ্রাম বাংলার নদ-নদীতে নৌকা বাইচ ছিল মানুষের বিনোদনের অন্যতম প্রধান উৎস। ঢাক-ঢোলের তালে তালে নদীর বুকে নৌকার প্রতিযোগিতা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসতেন মানুষ। আধুনিক বিনোদনের বিস্তারে সেই ঐতিহ্য অনেকটাই হারিয়ে গেলেও কালুখালীর মহেন্দ্রপুর খেয়াঘাটের আয়োজন আবারও সেই পুরোনো দিনের স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে।

 

 

নদীর বুকে বিশাল নৌকার ছুটে চলা, মাঝি-মাল্লাদের বৈঠার ছন্দ আর তীরে দাঁড়িয়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস—সব মিলিয়ে তিনদিনের এ আয়োজন পদ্মাপাড়ে তৈরি করে এক প্রাণবন্ত উৎসবের আবহ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এমন আয়োজন নিয়মিত হলে নতুন প্রজন্ম গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আরও বেশি পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

পদ্মাপাড়ে ফিরল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য, নৌকা বাইচে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

নৌকা বাইচ দেখতে ঢাকা থেকে মহেন্দ্রপুরে এসেছিলেন সেলিনা। জীবনে প্রথমবার সরাসরি নৌকা বাইচ দেখার অভিজ্ঞতা তার কাছে ছিল আনন্দের।

 

 

সেলিনা বলেন, আমি কখনো এ জায়গায় আসিনি, এসে ভালোই লাগছে। অনেক মানুষ দেখছি, নৌকার বাইচ দেখতে ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে এসেছি। এর আগে টেলিভিশন বা ভিডিওতে নৌকা বাইচ দেখলেও বাস্তবে কখনো দেখিনি। স্বামী ও শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে এবারই প্রথম সরাসরি নৌকা বাইচ দেখতে এসেছি।

 

 

৭৫ বছর বয়সী নজরুল বেপারী জানান, তিনি বহুবার নৌকা বাইচ দেখেছেন এবং একসময় নিজেও নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন।

 

 

তিনি বলেন, নৌকা বাইচ গ্রামের ঐতিহ্যবাহী একটি পুরোনো জিনিস। মানুষের খুব আনন্দের বিষয়। যারা আয়োজন করেছেন, তাদের ধন্যবাদ। সুন্দর পরিবেশে আয়োজন করায় অনেক দর্শক এসেছে, গ্রাম বাংলার মানুষ আনন্দ পাচ্ছে।

 

 

নৌকা বাইচের পাশাপাশি আয়োজন করা হয় গ্রামীণ মেলার। মেলায় বসে বাহারি পণ্য, খাবার ও বিভিন্ন সামগ্রীর দোকান। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে নানা বয়সী মানুষ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মেলায় আসেন। পছন্দের পণ্য কেনাকাটার পাশাপাশি মেলার বিভিন্ন আয়োজন উপভোগ করেন তারা।

 

 

সাবরিনা নামের এক নারী জানান, নৌকা বাইচের কথা অনেকবার শুনেছেন, কিন্তু কখনো সামনাসামনি দেখেননি। প্রথমবার দেখে ভালো লাগার কথা জানান তিনি। তিনি বলেন, এটি আমাদের ঐতিহ্য। পরবর্তী প্রজন্মের উচিত এসব ঐতিহ্য ধারণ করে এগিয়ে যাওয়া। সবাই আসুক, অংশগ্রহণ করুক এবং উপভোগ করুক।

 

 

প্রতি বছর এমন আয়োজন করার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ে এবং পুরোনো ঐতিহ্য সম্পর্কে নতুন প্রজন্ম জানার সুযোগ পায়।

 

 

মেলার দোকানদার রিপন বলেন, নৌকা বাইচ দেখতে অনেক মানুষ এসেছে। দর্শনার্থীরা আনন্দের সঙ্গে ঘোরাফেরা করছেন, কেনাকাটাও করছেন। আমাদের দোকানদারদেরও সুন্দরভাবে বেচাকেনা হচ্ছে।

 

 

কালুখালী উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও আয়োজক, মেহেদী হাসান তোতা বলেন, গ্রাম বাংলার হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য তুলে ধরার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়েছে।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, আমাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় এলে এ অঞ্চলের হারিয়ে যাওয়া গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে তিনদিনব্যাপী নৌকা বাইচ ও গ্রামীণ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রত্যাশার চেয়েও বেশি মানুষের সমাগম হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রতিবছর এ ধরনের আয়োজন করার প্রত্যাশা রয়েছে তাদের।

 

 

কালুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তফা কামাল জানান, নৌকা বাইচ ও মেলাকে কেন্দ্র করে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

 

 

তিনি বলেন, আমাদের প্রস্তুতি তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় ছিল। ইনার কর্ডন, নদীতে পুলিশ এবং আউটার কর্ডনে সিভিলের লোকজন ছিল। আমাদের প্রস্তুতি ভালো ছিল, কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি।