মো. ইসমাইল হোসেন নোয়াখালী ব্যুরো প্রধান। জনতার কণ্ঠ.কম
নোয়াখালী সদর উপজেলার নেওয়াজপুর ইউনিয়নের কাশেম বাজারে বিএনপি ও জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনায় উভয়পক্ষের ৫০ জনেরও বেশি আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে মসজিদভিত্তিক রাজনৈতিক কার্যক্রম নিয়ে বিরোধের জেরে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম।
নোয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ফজলে রাব্বী জানান, শনিবার (১৮ অক্টোবর) কাশেম বাজার জামে মসজিদে তাদের ‘দারসুল কুরআন’ প্রোগ্রামে যুবদলের কয়েকজন হামলা চালায়। এর প্রতিবাদে রবিবার বিকেলে একই মসজিদে “কুরআন তালিম” কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। কিন্তু আসরের নামাজের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে আবারও হামলা চালালে তাদের ২৫ জন আহত হন বলে দাবি করেন তিনি।
শিবির নেতা ফজলে রাব্বী আরও জানান, হামলায় শহর শিবিরের অফিস সম্পাদক তানভীর সিয়াম, আইন সম্পাদক নাঈম হোসেন, কেরামতিয়া মাদ্রাসার সভাপতি আরাফাত, ছালাউদ্দিন, দেলোয়ার হোসেন মিশুসহ ৩০ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, আসরের নামাজের পর শিবির নেতাকর্মীরা মসজিদে স্লোগান দিয়ে কর্মসূচি শুরু করলে তারা বাধা দেয়। এ সময় জামায়াত-শিবিরের লোকজন তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ইউনিয়ন বিএনপি ও অঙ্গ-সংগঠনের ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে নেওয়াজপুর ইউনিয়ন বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. আক্তার, দপ্তর সম্পাদক জাহাঙ্গীর, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি জিয়াউর রহমানসহ ৮ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভিপি জসিম বলেন, “জামায়াত-শিবিরের হামলায় বিএনপির ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করছি।”
অন্যদিকে জেলা জামায়াতের আমির ইসহাক খন্দকার বলেন, “বিএনপির হামলায় জামায়াত-শিবিরের ৩০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। এমনকি মসজিদে তালাও মেরে দেওয়া হয়।”
জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর বলেন, “মসজিদে জামায়াত-শিবিরের একটি অনুষ্ঠান চলাকালে বিএনপি বাধা দিলে সংঘর্ষ হয়। আহতের সঠিক সংখ্যা এখনো জানা যায়নি।”
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইনচার্জ মো. সেলিম জানান, “রাত ৮টা পর্যন্ত ৩৬ জন আহতকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে, আরও ১৫-২০ জন চিকিৎসার অপেক্ষায় আছেন।

রিপোর্টার: 




















